![]() | কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন মানবতা বিরোধী অপরাধে আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। শাহবাগে তরুণদের আন্দোলন ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করবে বলে মনে করেন বিএনপি নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ব্লগার আরিফ জেবতিক, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. তুরিন আফরোজ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হাফিজউদ্দিন আহমেদ।
বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রায়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। সে কারণেই তারা আপিল করতে যাচ্ছেন। রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে আগামী দিনে। জনগণের সেন্টিমেন্ট নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ সংলাপ: পর্ব১৩
বাংলাদেশ সংলাপ: পর্ব১৩
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
তবে একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, শাহবাগে তরুণদের আন্দোলন যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পর আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার কারণ কী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে সরকারের আপোষ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটি সরকার কীভাবে মোকাবেলা করবে এবং শাহবাগের আন্দোলন কি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি পূরণ করতে পারবে?—এসব প্রশ্ন আলোচনায় উঠে আসে।
মতিয়া চৌধুরী
"আমরা বিচার চালিয়ে যাচ্ছি। বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। একবার আইন সংশোধন হয়েছে। আবার হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে রায়ে আগামী দিনে। আপিলের মাধ্যমে জনগণের যে সেন্টিমেন্ট তা নিশ্চিত করবো।"
প্যানেল আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ড. তুরিন আফরোজ এবং ব্লগার আরিফ জেবতিক।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন সিদরাতুল মুনতাহা। তিনি জানতে চান অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পর আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার কারণ কী?
তুরিন আফরোজ বলেন, ‘কাদের মোল্লার রায় পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি যে অপরাধী সেটি প্রমাণিত হয়েছে। তবে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির বিষয়টি আসেনি। এখানে কৌশলগত দুর্বলতা, ব্যর্থতা ও অদক্ষতা ছিল চার্জ গঠনের শুরু থেকেই। এটি একটি ‘ক্লাসিক কেস’ যাতে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবার প্রমাণ ছিল’।
আরিফ জেবতিক বলেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তরই গত পাঁচদিন ধরে আমরা শাহবাগে খুঁজছি। এটা গোটা বাংলাদেশের প্রশ্ন। আমরা আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কোন ক্ষোভ প্রকাশ করছিনা। আমরা বিচারে সন্তুষ্ট নই। শুরু থেকেই যে ধরনের সহযোগিতা ট্রাইব্যুনালকে করার কথা ছিল তা হয়নি। গবেষণা সেল হয়নি। নিরাপত্তা নেই। বিচারকের কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে।’
হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন,‘সরকারের সঙ্গে জামায়াতের কোন সমঝোতা হল কীনা তা বাজারে প্রচলিত আছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। মুক্তিযুদ্ধের পরই যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে পাকিস্তানীদের
হাফিজউদ্দিন আহমেদ
"শাহবাগে তরুণদের আন্দোলন যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি সহ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন উপায় নেই।"
দালালি করেছে তাদের ক্ষমা করে দেয়া হল। এটা ভুল ছিল। এরপর প্রতিটি সরকারের আনুকূল্য তারা পেয়েছে। যার ফলে এ দলটি পাখা মেলতে শুরু করে’।
তিনি বলেন, ‘বিচারের দাবির জন্য যিনি কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন তিনি শহীদ জাহানারা ইমাম। আমি আশা করবো যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন বিচার করেন। বর্তমানে যে বিচার হচ্ছে তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয়ে জামায়াত ইসলামীর বিচার বলেই মনে করি’।
মন্ত্রী অবশ্য বলেন, সমঝোতা হলে তো রায় হতো না। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হবে।
তুরিন আফরোজ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দালাল আইনের অধীনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এসব বন্ধ করে দেয়া হয়।’
একজন দর্শক বলেন, ‘কত প্রমাণ হলে একজন লোক মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে?’
আরিফ জেবতিক
"আমরা বিচারে সন্তুষ্ট নই।শুরু থেকেই যে ধরনের সহযোগিতা ট্রাইব্যুনালকে করার কথা ছিল তা হয়নি। গবেষনা সেল হয়নি। নিরাপত্তা নেই। বিচারকের কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে।"
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘অনেক চাপ অতিক্রম করে সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রায়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নই। তাই আপিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকারের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার।’
আপোষ নিয়ে প্রশ্ন
অনুষ্ঠানে আগত সমাপিকা হালদার জানতে চান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে সরকারের আপোষ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটি সরকার কীভাবে মোকাবেলা করবে ?
তুরিন আফরোজ বলেন, ‘এটি আইনি লড়াই। ট্রাইব্যুনাল থেকেই রায় আনতে হবে। আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আইনি লড়াইয়ে জিততে হবে। প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা না হলে, আঁতাত হলেও রায় পক্ষেই আসতো।’
মি. জেবতিক বলেন, ‘আরও লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার ছিল। আমরা আগে এ সুর তুলেছিলাম। কিন্তু আমরা ট্রাইব্যুনাল বা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইনি। সহায়তার জায়গাতেই আমরা এখনো রয়েছি।’
তুরিন আফরোজ
"রায় পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিনি (কাদের মোল্লা) যে অপরাধী সেটি প্রমাণিত হয়েছে। তবে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির বিষয়টি আসেনি। এখানে কৌশলগত দুর্বলতা, ব্যর্থতা ও অদক্ষতা ছিল চার্জ গঠনের শুরু থেকেই। এটি একটি ‘ক্লাসিক কেস’ যাতে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবার প্রমাণ ছিল।"
একজন দর্শক বলেন, ‘যিনি খুন ধর্ষণ বা আগুন লাগিয়েছেন, তার ফাঁসি হয়নি| তাহলে আমি এমন দশটা খুন করবো। পাঁচটায় জেল হবে, কোনোটায় খালাস পাবো। এভাবে উৎসাহিত হবো।’
মি. আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি রাস্তায় নামলেই আমাদের উপর হামলা হয়। পেপার স্প্রে সবার উপর ব্যবহার হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর সংগে ফুল বিনিময় দেখে কিছুটা সন্দেহ জেগেছে। কিছুটা আঁতাত সরকারের সংগে হয়েছে। রায়ের প্রকৃতি দেখেই আমার মনে এই সন্দেহ।’
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে। আমরা বিচার চালিয়ে যাচ্ছি। বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। একবার আইন সংশোধন হয়েছে। আবার হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে রায়ে আগামী দিনে। আপিলের মাধ্যমে জনগণের যে সেন্টিমেন্ট তা নিশ্চিত করবো।
শাহবাগের আন্দোলন
দর্শক ফারিন রহমান জানতে চান শাহবাগের আন্দোলন কি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি পূরণ করতে পারবে?
দর্শকের মন্তব্য
"যিনি খুন ধর্ষণ বা আগুন লাগিয়েছে, তার ফাঁসি হয়নি। তাহলে আমি এমন দশটা খুন করবো। পাঁচটায় জেল হবে, কোনটায় খালাস পাবো। এভাবেই উৎসাহিত হবো।"
মি. জেবতিক বলেন, ‘সমাবেশ থেকে ফাঁসি দেয়ার বিষয় নয়। এটি আইন ও আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আপিলের সুযোগ চাইছি। যাতে প্রমাণিত অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত হয়।’
মি. আহমেদ বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে তরুণরা যে দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই তা প্রভাব ফেলবে ভবিষ্যতে। রাজনৈতিক দলগুলোর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া উপায় নেই। ৯৩ সালে গণ আদালত হয়েছিলো। ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা বাস্তবায়ন করলে এ সমস্যা এভাবে থাকতো না।’
তুরিন আফরোজ বলেন, ‘এ আন্দোলন সচেতন করবে রাজনীতিবিদ ও পুরো প্রক্রিয়াকে।’
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় অসংখ্য প্রচেষ্টা আছে। আমরা বিচার করে আইনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড চাচ্ছি। বিচার হবেই এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে’।

বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শকদের একাংশ।
আপনাদের মন্তব্য:
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

































