পর্ব-৭
![]() | বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া মনে করেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসি না দেয়ার জন্য তুরস্ক সরকারের চিঠি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। তবে তার সাথে একমত নন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, নাগরিক সংগঠন ফোরাম ফর প্ল্যানড চিটাগাংয়ের নির্বাহী সদস্য জেরিনা হোসেন এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসি না দেয়ার জন্য তুরস্ক সরকারের চিঠিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
শনিবার চট্টগ্রামে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সংলাপ: পর্ব ৭
সংলাপ: পর্ব ৭
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
বাংলাদেশ সংলাপে আলোচনার অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাকুরি ভিসা বন্ধ থাকা এবং রামুর বৌদ্ধ বিহারে হামলার বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বের প্যানেলে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ ও নাগরিক সংগঠন ফোরাম ফর প্ল্যানড চিটাগাংয়ের নির্বাহী কমিটির সদস্য জেরিনা হোসেন।
দিলীপ বড়ুয়া
"এই বিচার অবশ্যই বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই ব্যাপারে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি যে চিঠি দিয়েছেন, আমরা মনে করি এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের শামিল। আমরা এটার নিন্দা করি।"
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কিনা সে প্রশ্ন করেন একজন দর্শক। এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন প্যানেলিস্ট এবং দর্শকরা।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া তুরস্কের সমালোচনা করে বলেন, এই বিচার অবশ্যই বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এই ব্যাপারে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি যে চিঠি দিয়েছেন, আমরা মনে করি এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের শামিল। আমরা এটার নিন্দা করি।
তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের চিঠিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন না বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানসম্মত হচ্ছে না এবং এনিয়ে তুরস্কের চিঠি অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয়।
তবে শিল্পমন্ত্রী মি. বড়ুয়া একথার বিরোধিতা করে বলেন, বিচার স্বচ্ছভাবেই হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ এবিষয়ে সরকারি দলের নেতাদের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "আদালতের বাইরে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ নানা কথা বলার কারণেই এ বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উদ্ধৃত হয়েছে। এসব অস্বচ্ছতার প্রশ্নগুলো যদি জনমনে উত্থাপিত না হতো, তাহলে কোন অবস্থাতেই বাইরের দেশ এতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ লাভ করতো না। "
গভীর সমুদ্রবন্দর
দ্বিতীয় প্রশ্নটি আসে চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে। এনিয়ে প্যানেলিস্ট এবং দর্শকদের অধিকাংশই মনে করেন, চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রয়োজন।
বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দরের কোন বিকল্প নেই।
জাফরুল ইসলাম চৌধুরী
"দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রবন্দর করে ফ্যাসিলিটি বাড়ালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে। শুধু ভারত কেন!"
মি. চৌধুরী বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রবন্দর করে ফ্যাসিলিটি বাড়ালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে। শুধু ভারত কেন!
তবে ফোরাম ফর প্ল্যানড চিটাগাংয়ের নির্বাহী সদস্য জেরিনা হোসেন বলেন, এই মূহুর্তেই একটি গভীর সমু্দ্রবন্দরের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
বিষয়টি নিয়ে আরো প্রযু্ক্তিগত ধারণা সরকার থেকে দেয়ার পরই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন জেরিনা হোসেন।
এ প্রসঙ্গে কয়েকজন দর্শক তাদের হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিটি সরকার থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের আশ্বাস দেয়া হলেও সেটি কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার
বাংলাদেশ সংলাপের আরেকটি প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার যে বন্ধ রয়েছে, তা সরকারের দূর্বল পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় কিনা? এনিয়ে দর্শক এবং প্যানেলিস্টদের অধিকাংশই একমত পোষন করলেও, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া সেটি মানছেন না।
জেরিনা হোসেন
"কোন শ্রমবাজারে কি ধরণের দক্ষতার প্রয়োজন, সেবিষয়ে গবেষণা থাকা প্রয়োজন। এখানে যারা শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের জানতে হবে কোথায় কোথায় কোন ধরণের শ্রমিক দরকার এবং সে হিসেবে দক্ষতা বাড়াতে হবে"
একজন দর্শক এবিষয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, আমরা দেখতে পাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে আমাদের শ্রমবাজারগুলো ক্রমাগত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
তবে অপর প্যানেলিস্ট, জেরিনা হোসেন, এজন্যে পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতাকেই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না।
কোন্ শ্রমবাজারে কি ধরণের দক্ষতার প্রয়োজন, সেবিষয়ে গবেষণা থাকা প্রয়োজন। এখানে যারা শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের জানতে হবে কোথায় কোথায় কোন্ ধরণের শ্রমিক দরকার এবং সে হিসেবে দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ শ্রমবাজারে যখন ধ্বস নামে, তখন সবার নীচের স্তরে যারা থাকেন তাদের চাকরিটা যায়, বলেন জেরিনা হোসেন।
রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলা
দর্শকদের পক্ষ থেকে সর্বশেষ প্রশ্নটি ছিল, রামুর বৌদ্ধপল্লীতে হামলার বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে একে অপরকে দোষারোপ করে যাচ্ছে, তাতে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে কিনা? এবিষয়ে দর্শক এবং প্যানেলিস্টদের সবাই মোটামুটিভাবে একমত পোষণ করেন।
হাসান মোহাম্মদ
"যে কোন ঘটনার রাজনীতিকরণ এবং দলীয় স্বার্থে ব্যবহার, এটি অবশ্যই প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।"
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ বলেন, পারস্পরিক দোষারোপের কারণে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
আমাদের দেশে দোষারোপের রাজনীতি দীর্ঘদিনের প্রচলন। আমি মনে করি, শুধু রামুর ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের যে কোন ক্ষেত্রে, যে কোন ঘটনার রাজনীতিকরণ এবং দলীয় স্বার্থে ব্যবহার, এটি অবশ্যই প্রকৃত অপরাধীদের বাচিয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, বলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ প্রান্তে একজন দর্শক প্রশ্ন তোলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা স্বত্ত্বেও রামুর ঘটনায় সরকার কেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত করছে না?
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, হাইকোর্টের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবে বলে তিনি আশা করেন।
(বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের সঞ্চালক ছিলেন আকবর হোসেন। আর এটি প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ।)
আপনাদের মন্তব্য:
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

































