পর্ব-৪
![]() | বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন ভুমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এই মত প্রকাশ করেন। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য(বাঁ থেকে): মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম বাবলু, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আকবর হোসেন, সিরাজুম মুনিরা,লুৎফর রহমান মিন্টু
বাংলাদেশে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দাবী করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এ মত প্রকাশ করেন।
সংলাপ ৪র্থ পর্ব
সংলাপ ৪র্থ পর্ব
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
একই সাথে দর্শক এবং প্যানেল আলোচকরা বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বাংলাদেশ সংলাপে ফুলবাড়িতে কোন পদ্ধতিতে কয়লা খনি হওয়া উচিত সেটি নিয়েও তীব্র বিতর্ক হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান
"পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের সাথে অভিযুক্তদের বিচার হবে বলেই আশা করছি। "
বাংলাদেশ সংলাপের এবারের প্যানেল সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু , ফুলবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু এবং বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট এর দিনাজপুর জেলা সমন্বয়ক সিরাজুম মুনিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংলাপে আসা একজন দর্শক প্রশ্ন করেন পদ্মা সেতু নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তার দায় সরকার এড়াতে পারে কিনা।এই প্রশ্নে দর্শক এবং প্যানেল সদস্যরা সকলে একমত পোষণ করেন এবং বলেন এই পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার দায় সরকারের এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
সংলাপের একজন প্যানেল সদস্য বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট এর দিনাজপুর জেলা সমন্বয়ক সিরাজুম মুনিরা বলেন সরকার দায় এড়াতে চাইলে সেই তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে তা জনগণের কাছে দেওয়া উচিত। একজন মানুষের চেয়ে একটি দেশ অনেক বড়। ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ যেখানে, সেখানে একজন মানুষের জন্য বিশ্ব ব্যাংক বার বার চলে যাবে এটা কাম্য নয়।
পদ্মা সেতুর জটিলতা নিয়ে সিরাজুম মুনিরার সাথে একমত প্রকাশ করেন আরেক জন প্যানেল সদস্য দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু।
লুৎফর রহমান মিন্টু
"সরকার এর দায় এড়াতে পারে না, কারণ ক্ষমতায় আসার আগে সরকারের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল তারা এই সেতু নির্মাণ করবে।"
তিনি বলেন সরকার কোন ভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না, কারণ ক্ষমতায় আসার আগে সরকারের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল তারা এই সেতু নির্মাণ করবে। সরকারের মনে রাখা উচিত ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু তাদের কাছে এখন ব্যক্তি বড় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন একটি দেশের ভাল এবং খারাপ দুটির দায় সেদেশের সরকার কে নিতে হয়। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের সাথে অভিযুক্তদের বিচার হবে বলেই তিনি আশা করেন।
যার বিরুদ্ধে দুদক মামলা দায়ের করবে , সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না এবং তার বিচার সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে তেমনটিই আমি আশা করছি। দোষী ব্যক্তি যত ক্ষমতাধর হোক না কেন তার বিচার যেন হয়।পদ্মা সেতু ছাড়াও দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে কয়লা খনি হওয়া উচিত কিনা সেটা নিয়েও বিতর্ক হয়। কয়লা খনি হলেও সেটা ভূগর্ভস্থ না কি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত সে বিষয়েও দর্শক এবং প্যানেল সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সিরাজুম মুনিরা
"১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ যেখানে, সেখানে একজন মানুষের জন্য বিশ্বব্যাংক বার বার চলে যাবে এটা কাম্য নয়"
ফুলবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু বলেন কোন বিদেশী কোম্পানিকে যেমন কয়লা খনির কাজ দেওয়া যাবে না তেমনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি আপত্তি করেন। তিনি বলেন
২০০৫ সাল থেকে ফুলবাড়ি, দিনাজপুরসহ সারা দেশের মানুষ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৮০ কোটি লিটার পানি অপসারিত হবে, ১০ লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হবে এবং গোটা উত্তরাঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাবে।
তবে আরেক জন প্যানেল সদস্য দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি লুতফর রহমান মিন্টু দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন পদ্ধতি যেটাই হোক না কেন আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করে, কয়লা উত্তোলন করা উচিত। কারণ কয়লা আমাদের জন্য এখন জরুরী। তিনি বলেন এলাকার মানুষের সাথে আলোচনা করে করা উচিত। এত বড় একটা সম্পদ মাটির নিচে রেখে সারা দেশ সমস্যায় থাকবে এটা ঠিক না।তবে দর্শকদের মধ্যে বেশিরভাগ দর্শক উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিপক্ষে মত দেন। একজন দর্শক বলেন
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে অবশ্যই নয়। এক্ষেত্রে জাতিয় ঐক্যমত্য জরুরি। আর দ্বিতীয় কথা হল, সরকার অনতিবিলম্বে এ ব্যাপারে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করুক।
আমিনুল ইসলাম বাবলু
"কোন বিদেশী কোম্পানিকে যেমন খনির কাজ দেওয়া যাবে না তেমনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে না।"
এদিকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে বলেন কয়লা খনি এখন জরুরী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । একি সাথে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে কি কি সুবিধা হবে সে যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন মানুষের দাবী হল তারা বিদ্যুৎ চাই। আমরা যদি ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারি তাহলে দেশে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি বিনিয়োগ হবে অনেক। আমি মন্ত্রীসভায় বলেছি অনতিবিলম্বে ফুলবাড়ি কয়লা খনির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশে যদি আরও ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে হয় সেটা এখান থেকেই দিতে হবে। যে সরকারই আসুক না কেন তারা এই কয়লা খনির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে আমি তাদের সাথে আছি।
কয়লা খনি এবং পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ ছাড়াও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুত ঘরে ঘরে চাকরী দেওয়া এবং সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে বিতর্ক হয়।
সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধে সরকার কি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন, একজন দর্শকের এমন প্রশ্নে সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ছাড়া বাকি প্যানেল সদস্যরা মনে করেন সরকার এই হত্যা বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
আপনাদের মন্তব্য:
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দায়ী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হোক, এবং সব অপরাধীকে সমানভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এটা অনেকটা স্পষ্ট যে, বিশ্ব ব্যাংক অনেকটা বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাদের দেয়া শর্তগুলো কি জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ছিল, না কি দলীয় স্বার্থ বিরোধী ছিল? সরকার যেই হোক, জাতীয় স্বার্থকে প্রধান্য দিন্, দলের প্রভূত্ব বাড়বে।
-- রওশন ইয়াজদানী, রংপুর
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কয়লা উত্তোলন করা দরকার। কারণ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ গুলোও তাদের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগায়। তবে জনগণের সম্মতিক্রমে তা করা দরকার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠলো না কেন? তাহলে কি এই দেশের লোক এখন আর বিচার চাচ্ছে না? আমি মনে করি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা এখন জরুরি হয়ে গেছে। যতদিন না বিচার শেষ হচ্ছে ততদিন এইদেশে অরাজকতা হবে। তাই আগে বিচার শেষ করা অতি জরুরি।
-- সাখাওয়াৎ হোসেন (সাজু), পার্বতীপুর
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আবুল হোসেন ভাল মানুষ। তার কথা বলবৎ রাখার জন্য দুদক মামলা করছে না। প্রধানমন্ত্রী যেখানে নির্দোষ বলছেন সেখানে দুদক অন্য কিছু বলতে পারে না।
-- শাহাব উদ্দিন সাব্বির, গুলশান, ঢাকা
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে স্থান পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যেদিন টিআইর প্রতিবেদনটি ঢাকায় প্রকাশিত হয়, সেদিনও বিশ্বব্যাংকের যে বিশেষজ্ঞ প্যানেল টিম বাংলাদেশে এসেছিল, তারা অসন্তোষ নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছে! দুদক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে, সেখানে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম নেই।
-- নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
পদ্মা সেতু নিয়ে বর্তমানে যে সমস্যার দেখা দিয়েছে তার একমাত্র দায় সরকারকেই নিতে হবে কেননা সরকার চাইলে সবই করতে পারেন। ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ মাত্র একজনের জন্য থেমে যেতে পারে না। আশা করি সরকার বিষয়টিকে যত্ন সহকারে দেখবে।
-- নাজমুল, রংপুর
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

































