পর্ব-৩
![]() | আশুলিয়ার পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডের পর বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে): জি এম কাদের, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আকবর হোসেন, শিরিন আখতার এবং ড. ওসমান ফারুক।
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব-৩
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব-৩
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডের পর বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। বিবিসি বাংলার বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এই আশংকা ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাজরীন ফ্যাশন নামে একটি পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়েও বিতর্ক হয় বাংলাদেশ সংলাপে আসা দর্শকদের মধ্যে।
শিরীন আখতার
"যেভাবে তাজরীনে আগুন লেগেছে, সেখানে যে গাফিলতি হয়েছে, সেখানে শ্রম আইন যেভাবে অমান্য হয়েছে এসব কিছু মিলিয়ে যারা এখানে দায়ী তাদেরকে সবাইকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।"
বাংলাদেশ সংলাপের তৃতীয় পর্বের প্যানেল সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর এর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরীন আখতার।
বাংলাদেশের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশন নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় সম্প্রতি অগ্নিকান্ডে একশ’র বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে প্রভাব পরার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে এমন প্রশ্ন করেন সংলাপে আসা একজন দর্শক। সংলাপের প্যানেল সদস্য বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন রপ্তানিতে একটা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে তা মোকাবেলা করার প্রশ্নে তিনি জানান, আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চান তারা।
মি. মহিউদ্দিন বলেন ওয়ালমার্টের একটি বিবৃতি তারা দেখেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, তাজরীন গার্মেন্টস তাদের 'অথরাইজড ডিলার' না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তাদের পণ্য উৎপাদন হয়েছে, সে কারণে তারা সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। মি. মহিউদ্দিন তাদের অনুরোধ করেছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত না নিতে। তিনি বলেন, এই মুহুর্তে বেশ কিছু কারখানায় চলমান কাজ রয়েছে, সেগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পরবে। তাই এ সমস্যাগুলোকে তাঁরা আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে চান।
সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্যানেল সদস্য জি.এম. কাদের বলেন পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
জি এম কাদের
"যদি রপ্তানি কমে যায় তাহলে আমদানি সঠিক সময়ে করতে পারবো না।"
তিনি বলেন ''এখনো আমরা যতটুকু রপ্তানি করি, আমদানি করি তার চেয়ে বেশি। বাকিটুকু আমরা রেমিটেন্স দিয়ে ম্যানেজ করছি। যদি রপ্তানি কমে যায় তাহলে আমদানি সঠিক সময়ে করতে পারবো না।''
সংলাপের আসা অন্য একজন দর্শক এই কারখানায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়া সম্ভব কিনা এমন প্রশ্ন করলে বিএনপির নেতা এবং প্যানেল সদস্য ড. ওসমান ফারুক বলেন, ''অতীতে এই ধরনের উদাহরণ না থাকলেও এবারে তারা আশাবাদী এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেয়া হবে।''
তবে শাস্তি হওয়া না হওয়া নিয়ে উপস্থিত দর্শকের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। বেশির ভাগ দর্শক মনে করছেন অতীতের মত এবারের দুর্ঘটনারও কোনও বিচার হবে না।
একজন দর্শক বলেন, ''আমি মনে করি শাস্তি হবে না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, পুলিশের ওপর যারা আক্রমণ করেছে তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তখন তদন্ত কাজ কতটা সঠিক ভাবে হবে?''
এই একই বিষয়ে অন্য আরেকজন দর্শক বলেন, ''এর আগে হা-মীম গ্রুপেও আগুন লেগেছিল তখন বিচার হয়নি এবারেও বিচার হবে না।''
সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন
"এই মুহুর্তে বেশ কিছু কারখানায় চলমান কাজ রয়েছে, সেগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পরবে।"
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব আশঙ্কাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার বিচার হবে।
তিনি বলেন, ''এর বিচার হবেই; এটা আমাদের জন্য একটা বড় চাপ কারণ আমরা যদি সঠিকভাবে বিচার করতে না পারি তাহলে রপ্তানি বাজারে একটি নেতিবাচক প্রভাবের আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।''
সংলাপের অপর প্যানেল সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরীন আখতার বলেন, তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিচার যে করতে হবে তা নিয়ে সরকার, মালিক, শ্রমিক ও জনগণ সবাই একমত। তিনি বলেন, ''যেভাবে তাজরিনে আগুন লেগেছে, সেখানে যে গাফিলতি হয়েছে, সেখানে শ্রম আইন যেভাবে অমান্য হয়েছে এসব কিছু মিলিয়ে যারা এখানে দায়ী তাদেরকে সবাইকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।''
সংলাপের আরেকজন দর্শক প্রশ্ন করেন পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে কিনা?
ড. ওসমান ফারুক
"(পার্বত্য) শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে এত সময় লাগা উচিত ছিল না। শেষ বছরে সরকার যখন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জর্জরিত তখন আমার মনে হয় সরকারের এত সময় হবে না এই সমস্যার দিকে গভীরভাবে নজর দেওয়ার।"
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ''একটি চুক্তি যখন স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং একটি বৈধ সরকার যখন এই এ চুক্তি অনুমোদন করেছে তখন পরবর্তী যে কোন বৈধ সরকার এটাকে মেনে চলবে এবং বাস্তবায়ন করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের দেশে দুর্ভাগ্যক্রমে এই স্বাভাবিক বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে হয়না। তবে এখন যে অবস্থায় এসেছে সেখানে আমার বিশ্বাস এ শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন হবে।''
তবে বিএনপির ড. ওসমান ফারুক বলেন, ''শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে এত সময় লাগা উচিত ছিল না। শেষ বছরে সরকার যখন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জর্জরিত তখন আমার মনে হয় সরকারের এত সময় হবে না এই সমস্যার দিকে গভীরভাবে নজর দেওয়ার।''
তাদের সরকার এ চুক্তি বাস্তবায়নে কতটুকু সময় দিয়েছিল বা কতটুকু আন্তরিক ছিল সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ''আমাদের সেই চুক্তির ব্যাপারে অনেক দ্বিমত ছিল।''
শিরিন আখতার ড. ওসমান ফারুকের এই মতামতের প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তারা তো সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েছিলেন, তবে তারা কেন এই চুক্তি বাতিল করে নিজেদের পছন্দ মত চুক্তি করেননি?
এছাড়া বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেশ পরিচালনায় আরও একবার সুযোগ চাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে বক্তারা এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেন।
আপনাদের মন্তব্য:
আশুলিয়ার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যা ঘটেছে তা মর্মান্তিক। এর সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারের, বিভিন্ন অনুমোদন প্রদানকারী সরকারী সংস্থার এবং কারখানার মালিকের। ঘুষ আর দুর্নীতির কারণেই মালিক আইন ভেঙ্গে এরকম কারখানা করার অনুমতি পেয়েছেন। যারা এসব অনুমতি দিয়েছে এবং কারখানার মালিক, এদের বিচার এবং সাজা হওয়া উচিৎ। মন্ত্রী জি এম কাদের যে স্বীকার করলেন এর জন্য সরকার দায়ী, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।
এ বি মিয়া, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
এর আগে গার্মেন্টস শিল্পে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সুতরাং জনগণ কিভাবে সরকারের ওপর ভরসা করবে?
মাহফুজুর রহমান, সাভার, ঢাকা
অনেকে বলাবলি করছে তাজরিন গার্মেন্টসে আগুনে এক হাজারের ওপরে মারা গেছে। সত্য গোপন করা হয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক চাপ আসবে। এই দুর্ঘটনায় আসলে কতজন নিহত হয়েছে?
শাহেদ আলী, মিরপুর, ঢাকা
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝুলে আছে গার্মেন্ট পল্লী প্রকল্প । সরকার প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনার্শীপ-পিপিপি’র আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিবিতে অর্ন্তভূক্ত হলেও আলোর মুখ দেখেনি এ প্রকল্পটি । রাজধানীর অদূরে মুন্সিগঞ্জের বাউসিয়ায় ৩০০ একর জমির উপর ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের শুধু আশ্বাসই পেয়ে যাচ্ছে শিল্পোদ্যাক্তারা । আর এর বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সংশয় । বিগত সরকারগুলোও একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি এ প্রকল্প।
-- নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, ঢাকা
এটা আসলে খুনের পর্যায়ে পড়ে। কারণ কারখানার কর্মীরা প্রাণে বাঁচতে চেয়েছিল কিন্তু কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের বাইরে যেতে বাধা দিয়েছে।
মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, ঢাকা

































