পর্ব-৬
![]() | বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের রহস্য দুদক উন্মোচন করতে পারবে। কিন্তু বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, রহস্য এরই মধ্যে উন্মোচিত হয়ে গেছে। | দেখুন:ক্লিক করুন |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন মুরশিদ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের রহস্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উন্মোচন করতে পারবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
বাংলাদেশ সংলাপ
বাংলাদেশ সংলাপ
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের মতে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির রহস্য এরই মধ্যে উন্মোচিত হয়ে গেছে এবং এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠানে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু দুর্নীতি ছাড়াও সাম্প্রতিক হরতাল এবং বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা হয়।
এইচ টি ইমাম
"দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু সাবেক নন, বর্তমান মন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে গিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যে দুর্নীতি দমন কমিশন এ সাহস রাখেন, পাশাপাশি সরকারেরও তাদের ওপর আস্থা আছে যে সবকিছুই তারা উদঘাটন করবেন।"
ঢাকায় বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে এ পর্বের প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন মুরশিদ।
দর্শকদের পক্ষ থেকে প্রথমেই প্রশ্ন আসে পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে যে রহস্য তৈরি হয়েছে, তা জাতির সামনে কখনো উন্মোচিত হবে কিনা?
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, এ ঘটনার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপর তাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং এনিয়ে কমিশনের ওপর সরকারের বিন্দুমাত্র চাপ নেই।
দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু সাবেক নন, বর্তমান মন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে গিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যে দুর্নীতি দমন কমিশন এ সাহস রাখেন, পাশাপাশি সরকারেরও তাদের ওপর আস্থা আছে যে সবকিছুই তারা উদঘাটন করবেন। কেননা জাতির প্রত্যেকটি নাগরিকের জানার অধিকার রয়েছে যে কি হয়েছিল? কেন হয়েছিল? বলেন মি. ইমাম।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে যেসব অভিযোগ এসেছে তার অনেকটাই ‘বায়বীয়’ উল্লেখ করে মি. ইমাম বলেন, তারপরও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্তে এগিয়ে এসেছেন।
তবে মি. ইমামের একথার বিরোধিতা করে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির রহস্য উন্মোচন হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
"আমি মনে করি এটি উন্মোচিত হয়ে গেছে। জনগণের একটি প্রত্যাশা ছিল এই পদ্মা সেতু হবে। কিন্তু যে কারণে পদ্মা সেতু হতে পারল না সেটি হল দুর্নীতি"
মি. নোমান বলনে, জনগণের কাছে পদ্মা সেতুর এ দুর্নীতি তার ‘পারসেপশনে’ চলে এসেছে, তাই আমি মনে করি এটি উন্মোচিত হয়ে গেছে। জনগণের একটি প্রত্যাশা ছিল এই পদ্মা সেতু হবে। কিন্তু যে কারণে পদ্মা সেতু হতে পারল না সেটি হল দুর্নীতি।
সরকারের মন্ত্রী এবং সচিবদের কর্মকাণ্ডের দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে, তিনি সরকারকে বিষয়টি স্বীকার করে নেয়ার আহ্বান জানান।
হরতাল ও সরকার
সম্প্রতি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে বাম দলগুলোর হরতালে পুলিশ এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন একজন দর্শক।
তার প্রশ্ন ছিল হরতালের বিষয়ে, এটি সরকারের দ্বৈত নীতি কিনা? মি. নোমান এটিকে দ্বৈত ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করলেও, এইচ টি ইমাম বলেন ঐ হরতাল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সফল হয়েছে।
শারমীন মুরশিদ
"হরতাল আমার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, আমি রাস্তায় বের হতে পারি না, আমি সন্ত্রাসের ভয়ে থাকি, গাড়ি পুরিয়ে দেয়ার ভয়ে থাকি, বাচ্চাকে স্কুলে নিতে পারি না। আমাদের কি সময় আসেনি হরতাল নিয়ে এখন একটু অন্যভাবে ভাবার? "
এখানে সরকারের কোন ভূমিকা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে এর আগে সংগঠিত হরতালগুলোর প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির হরতালে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার জন্য সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেন।
মি. কবির বলেন, বাম দলের হরতালে কোন বাধা দেয়া হয়নি। আর বাধা দেয়া হয়নি বলেই এটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আপনি এইরকমভাবে বিএনপি বা অন্যান্য দলের হরতালে বাধা দিয়েন না, তাহলে সেটাও শান্তিপূর্ণ হবে
এদিকে অপর প্যানেলিস্ট শারমীন মুরশিদ বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে হরতালের ভূমিকা পুনরায় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
হরতাল আমার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, আমি রাস্তায় বের হতে পারি না, আমি সন্ত্রাসের ভয়ে থাকি, গাড়ি পুরিয়ে দেয়ার ভয়ে থাকি, বাচ্চাকে স্কুলে নিতে পারি না।
"আমাদের কি সময় আসেনি হরতাল নিয়ে এখন একটু অন্যভাবে ভাবার? আমার অবস্থানটা সেখানেই, আমরা এটার ব্যাপারে আরও গভীরভাবে ভাবি। আদৌ এটা এভাবে হওয়া উচিত বা উচিত নয়।"
আমানুল্লাহ কবির
"বাম দলের হরতালে কোন বাধা দেয়া হয়নি। আর বাধা দেয়া হয়নি বলেই এটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আপনি এইরকমভাবে বিএনপি বা অন্যান্য দলের হরতালে বাধা দিয়েন না, তাহলে সেটাও শান্তিপূর্ণ হবে"
বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবী করেন, তাদের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সরকার থেকে নানারকম বাধা দেয়া হচ্ছে এবং তারা তাদের নূন্যতম গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পাচ্ছেন না।
আর সেকারণেই তারা হরতাল দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির পূর্ববর্তী বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলনের ছলে বিএনপি চাচ্ছে যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করা হয়।
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড
এরপরই দর্শকদের পক্ষ থেকে আসে, বিশ্বজিৎ দাস হত্যা প্রসঙ্গে সরকারের বক্তব্য নিয়ে একটি প্রশ্ন। বেশ কয়েকজন দর্শকও এবিষয়ে তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
একজন দর্শক এঘটনার পর রাজনীতিবিদদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, যে বিশ্বজিৎ সেদিনের ঘটনার শিকার হয়েছে সে সরকারী দলের কেউ নয়, বিরোধী দলেরও কেউ নয়। সে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ। সেই অর্থে আমি একজন বিশ্বজিৎ, আজকে এখানে যারা বসে আছেন তাদের প্রত্যেকে একেকজন বিশ্বজিৎ। আমি সরকারী দল এবং বিরোধী দল দুজনের কাছেই জানতে চাই, আপনাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আমাদের জনগণকে নিয়ে আর কতদিন এধরণের খেলা খেলা হবে?
বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে একজন দর্শক
"যে বিশ্বজিৎ সেদিনের ঘটনার শিকার হয়েছে সে সরকারী দলের কেউ নয়, বিরোধী দলেরও কেউ নয়। সে আমাদের মতো সাধারণ জনগণ। আমি সরকারী দল এবং বিরোধী দল দুজনের কাছেই জানতে চাচ্ছি, আপনাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আমাদের জনগণকে নিয়ে আর কতদিন এধরণের খেলা খেলা হবে?"
এপ্রসঙ্গে বিএনপি নেতা মি. নোমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যসহ বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি সরকারের নেতৃত্বকেই দায়ী বলে মনে করেন।
তবে মি. ইমাম বিশ্বজিৎ দাসের হত্যাকারীদের খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদেরকে কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত না করে আইনানুযায়ী তাদের বিচার করা হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
(বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের সঞ্চালক ছিলেন আকবর হোসেন। আর এটি প্রযোজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ।)
আপনাদের মন্তব্য:
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

































