পর্ব-১০:
![]() | দু'দেশের মধ্যে সরাসরি চুক্তির কারণে অস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। অস্বচ্ছতার সুযোগ আছে বলেই মন্ত্রিপরিষদে বিষয়টি তোলা হয়নি, মন্তব্য বিএনপি নেতা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুস সামাদ এবং বিএনপি নেতা ও ফরিদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর।
বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রাশিয়ার সাথে সাম্প্রতিক অস্ত্র ক্রয় চুক্তির বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়নি। তবে দু'দেশের মধ্যকার সরাসরি চুক্তির কারণে এ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব১০
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব১০
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
শনিবার ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল চত্বরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিরোধী দল বিএনপি নেতা ও ফরিদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, অস্বচ্ছতার সুযোগ আছে বলেই মন্ত্রিপরিষদে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি উত্থাপন করেননি বলে তারা মনে করেন। তাছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী বিডিআর পুলিশ সবাইকে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংলাপে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির ও ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুস সামাদ।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন কবীরুল ইসলাম। তিনি জানতে চান রাশিয়ার সাথে সম্পাদিত অস্ত্র চুক্তিতে দেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা করা হয়েছে ? তিনি বলেন যেখানে ছয়বার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে সে মূহুর্তে ঋণ করে অস্ত্র ক্রয় কিসের স্বার্থে ?
খন্দকার মোশাররফ হোসেন
"মন্ত্রিপরিষদে আলোচিত হয়নি। আমি জানতামনা। তবে এখানে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা ও চুক্তি হচ্ছে, তাই অস্বচ্ছতার কোন সুযোগ নেই। সংগত কারণেই আর্মিকে সুসজ্জিত করা হচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরকালে গত ১৫ই জানুয়ারি দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্র কেনার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ৮০০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে রাশিয়া যা দেশে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
মন্ত্রিসভায় এ অস্ত্র কেনার বিষয়টি আগে আলোচনা হয়েছে কি-না উপস্থাপকের এমন একটি প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ-মন্ত্রী বলেন, ''মন্ত্রিপরিষদে আলোচিত হয়নি। আমি জানতামনা। তবে এখানে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা ও চুক্তি হচ্ছে, তাই অস্বচ্ছতার কোন সুযোগ নেই। সংগত কারণেই আর্মিকে সুসজ্জিত করা হচ্ছে।''
খুশী কবির বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হল মূল বিষয়। অস্ত্র দিয়ে দেশ রক্ষা হয়না। তিনি বলেন, ''সামরিক বাহিনীকে খাটো করা নয় তবে ছোট করা হল আমার প্রস্তাব। এতো বড় সামরিক বাহিনী যার এতো অস্ত্র দরকার হবে সেটার পক্ষে আমি কখনোই নই।''
খুশী কবির
"সামরিক বাহিনীকে খাটো করা নয় তবে ছোট করা হল আমার প্রস্তাব।"
শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ''যখন প্রধানমন্ত্রীর শান্তি প্রস্তাব জাতিসংঘ গ্রহণ করছে তখন এতো অস্ত্র কেনা হচ্ছে ঋণ করে। কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন প্রধানমন্ত্রী? বিরোধী দলকে দমনের জন্যই এ অস্ত্র আনা হচ্ছে। সীমান্তে যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে যে অস্ত্র আছে তার একটা গুলিও তো ফুটতে শুনিনি।''
তিনি বলেন, ''যা অস্ত্র আছে প্রশিক্ষণের জন্য তা-ই যথেষ্ট ছিল। নতুন করে অস্ত্র কেনার কোন প্রয়োজন ছিলনা।''
একজন দর্শক বলেন, বিরোধী দল বলছে এ অস্ত্র তাদের দমনের জন্য আনা হচ্ছে। অথচ বিএনপি আমলে ১০ ট্রাক অস্ত্র আনা হয়েছিলো কোন চুক্তি ছাড়াই। তাহলে তখন সেগুলো কাকে দমন করতে বা কি কারণে আনা হয়েছিল?
আরেকজন দর্শক বলেন যেখানে ঋণ করে পদ্মা সেতু করা হলোনা সেখানে ঋণ করে এতো অস্ত্র কেনার দরকার হল কি করে? জবাবে মন্ত্রী বলেন, ''দুটি আলাদা বিষয়। পদ্মা সেতুর আলোচনা চলছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিবো বিশ্বব্যাংক নাকি অন্য কারো কাছ থেকে অর্থ নেবো।''
শেখ আব্দুস সামাদ বলেন, ''জনগণের মৌলিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজন আছে আবার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে সেনাবাহিনীকেও আধুনিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আগে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।''
শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর
"যখন প্রধানমন্ত্রীর শান্তি প্রস্তাব জাতিসংঘ গ্রহণ করছে তখন এতো অস্ত্র কেনা হচ্ছে ঋণ করে । কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন প্রধানমন্ত্রী ? বিরোধী দলকে দমনের জন্যই এ অস্ত্র আনা হচ্ছে।"
বিদেশে নিহত শ্রমিক পরিবারকে সহায়তা
দর্শক খাদিজা বেগম মনি জানতে চান, বাংলাদেশী শ্রমিক মারা গেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কি না। সম্প্রতি বাহ্রাইনে ১০ জন বাংলাদেশী শ্রমিক নিহতের সূত্র ধরে এটি আলোচনায় উঠে আসে।
ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর কোন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটলে তার ঋণ মওকুবের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান আরেকজন দর্শক।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ''বাহ্রাইনে নিহত ছয় জনের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের কোন সদস্যের চাকরির বিষয়ে আমরা চিন্তা করিনি। তবে কেউ যদি যেতে চান তাহলে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে তা দেখবো।''
একজন দর্শক বলেন অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণের সব অর্থ হাতে পায়না। আরেকজন দর্শক বলেন অনেকে ঋণ করে বিদেশে যায়। তারা দুর্ঘটনায় পড়লে ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
মি. জাফর বলেন সরকারের উচিত বিদেশে বাংলাদেশীদের শ্রমিক কর্মস্থল ও বাসস্থান নিরাপদ করা এবং ঋণ মওকুবের ব্যবস্থা করা উচিত।
শেখ আব্দুস সামাদ
"স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আন্দোলন দমন করতে আমি কি ফুলের মালা নিয়ে যাবো। তার এ মন্তব্য আমার ভালো লাগেনি। "
বিদেশে মিশনগুলোতে শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগ করেন খুশী কবির।
পেপার স্প্রে নিয়ে সমালোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে পুলিশের পেপার স্প্রে ব্যবহার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য কি-না জানতে চান দর্শক তাহমিনা ইয়াসমিন শেলী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন এ অস্ত্রকে কোমল অস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
খুশী কবির বলেন, ''পেপার স্প্রে অনেক ক্ষতিকর ও এতে ক্যান্সার হতে পারে। এটা ব্যবহার উচিত নয়। যারা ক্ষমতায় থাকে আন্দোলন দমন করতে চায়। যেখানে ক্যান্সার হতে পারে সেখানে এটাকে কোমল অস্ত্র বলা যায়না।''
মি. সামাদ বলেন, ''স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আন্দোলন দমন করতে আমি কি ফুলের মালা নিয়ে যাবো। তার এ মন্তব্য আমার ভালো লাগেনি। আন্দোলন দেশের জন্য মঙ্গলজনক হলে তাকে ফুলের মালাও দেয়া যেতে পারে।''
অস্ত্র ক্রয় প্রসঙ্গে একজন দর্শক
"যেখানে ঋণ করে পদ্মা সেতু করা হলনা সেখানে ঋণ করে এতো অস্ত্র কেনার দরকার হল কি করে ?"
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো কথার কথা হিসেবে এটি বলেছেন। সরকার এমন কোন অস্ত্র প্রয়োগ করবেনা যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করবে। তবে আন্দোলন যেন সহিংস না হয়।
একজন দর্শক বলেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে অঙ্গহানি হতে পারে এমন অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের কৌশল অগণতান্ত্রিক।
নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধি প্রসঙ্গ
স্থানীয় একটি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা সুলতানা জানতে চান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্যদের কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বেশি দেয়া যায় কি-না।

বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শকদের একাংশ।
মি. জাফর বলেন উপজেলা পরিষদকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। এক আরও ক্ষমতাবান ও গতিশীল করা উচিত। এখন সংসদ সদস্যরাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।
খুশী কবির বলেন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেন নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিদের যথেষ্টই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
আপনাদের মন্তব্য:
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে
অস্ত্র ক্রয় করে সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে- এটা মাথা-মোটা ছাড়া কেউ বলবে না। সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করতে রাশিয়ার সাথে চুক্তি হতে পারতো, কারণ কারণ কয়টি আধুনিক অস্ত্র আপনি কিনবেন এই টাকা দিয়ে? যেসব আধুনিক অস্ত্র আপনি কিনতে পারবেন না, সেগুলোর প্রশিক্ষণ আপনি কিভাবে দেবেন? মূলত কমিশন খাওয়ার উদ্দেশ্যেই যে এটা করা হচ্ছে তা পরিস্কার।
মোহাম্মদ দিদারুল আলম, টঙ্গী
শুধু অস্ত্র চুক্তি নয়, সব রকম চুক্তির বিষয়ে সরকারকে স্বচ্ছতা দেখাতে হবে। |অস্ত্র কেনার জন্যে চুক্তি হয়ে গেছে,অথচ আমরা জানিনা কি অস্ত্র কেনা হচ্ছে।এই ঋণ জাতিকে পরিশোধ করতে হবে, সুতরাং জাতিকে জানতে দিতে হবে কেন ঋণ করে অস্ত্র কেনা হচ্ছে এবং কি অস্ত্র কেনা হচ্ছে। গেলবার শেখ হাসিনা মিগ কিনেছিলেন, সেগুলো সামরিক বাহিনীর জন্যে সম্পদ না হয়ে বরং বোঝা হয়ে গেছে। মিগ আকাশে উড়ার পরিবর্ততে মাটিতে বসে আছে ! এবার তিনি বিশাল অংকের যে অস্ত্র কিনছেন,তা যদি বোঝা হয়ে ওঠে,জাতির কাছে কি তার কোন জবাবদিহিতা থাকবে না?
নাজিম উদ্দিন মাহামুদ, লস এঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র
আমার মনে হয় সব ধরণের সরকারী প্রকল্প ঘিরেই দুর্নীতি হয়। সরকার দুটি উদ্দেশ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে। একটা উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীকে খুশি করা। আরেকটা হচ্ছে সামনের নির্বাচনের জন্য টাকা জোগাড় করা।
ইকবাল হোসেন, রাজশাহী

































