বাংলাদেশ সংলাপে আলোচনা: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত হত্যার জবাব দেবে

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 7 জানুয়ারি, 2013 16:11 GMT 22:11 বাংলাদেশ সময়

পর্ব-৮

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন ভারত সীমান্তে বাংলাদেশীদের নিহত হওয়ার ঘটনা কোন অজুহাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিরোধী দলীয় নেতা হান্নান শাহ বলেন তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে ভারতের আচরণের জবাব দেবে।

দেখুন:

ক্লিক করুন ইউটিউব

sanglap panel

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বেসরকারী সংস্থা বাংলাদেশ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা সারা আফরীন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম হান্নান শাহ।

বাংলাদেশ সংলাপ: অষ্টম পর্ব

বাংলাদেশ সংলাপ: অষ্টম পর্ব

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

সীমান্তে বাংলাদেশীদের নিহত হবার ঘটনা কোন অজুহাতেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এবারের বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একই অনুষ্ঠানে দেশটির বিরোধী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম হান্নান শাহ বলেন তার দল ক্ষমতায় এলে সীমান্তে ভারত যেভাবে আচরণ করছে, তারা তার জবাব দেবে।

হাসানুল হক ইনু

News image"সীমান্তে নিরস্ত্র জনগন হত্যা সমর্থন করিনা। ফেলানী থেকে সব হত্যার নিন্দা করি এবং ভারত সরকারকে এটা বন্ধের আহবান জানাই।"

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এবার প্যানেল আলোচকদের মধ্যে মি. ইনু ও মি. শাহ ছাড়াও ছিলেন বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সারা আফরীন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মোহাম্মদ মনির হোসাইন নামে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন, সীমান্তে বিএসএফ –এর নির্বিচারে গুলি চালানো বন্ধু রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে কি-না। সম্প্রতি সীমান্তে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে যাবার পর এই প্রশ্নটি সামনে চলে আসে।

এনিয়ে প্যানেল সদস্য এবং দর্শকদের সবাই বিএসএফ এর সমালোচনা করেন।

আ স ম হান্নান শাহ বলেন, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের কথা কেউ ভুলতে পারেনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় লজ্জাবোধ করছি।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে সম্প্রতি সীমান্তে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগির বলেছিলেন, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে দু’দেশের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের গুলি ছোঁড়ার অনুমতি দেয়ার বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লী নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে মি. শাহর মন্তব্য ছিল, ‘বন্ধুর বন্দুকের গুলিতে আমরা মারা যাবো এটা কাম্য নয়’।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিবে এমন এক প্রশ্নে মি. শাহ বলেন, ‘প্রথমে কূটনৈতিক ভাবে ভারতের সংগে একটা সমঝোতার চেষ্টা করবো। যদি তা না হয় তাহলে নিউটনের তৃতীয় সূত্র’।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সীমান্তে নিরস্ত্র জনগণ হত্যা সমর্থন করিনা। ফেলানী থেকে সব হত্যার নিন্দা করি এবং ভারত সরকারকে এটা বন্ধের আহবান জানাই। সীমান্তের এ ঘটনা সমর্থনের কোন অজুহাত তৈরি করা উচিত না’।

আ স ম হান্নান শাহ

News image"প্রথমে কূটনৈতিক ভাবে ভারতের সঙ্গে একটা সমঝোতার চেষ্টা করবো। যদি তা না হয় তাহলে নিউটনের তৃতীয় সুত্র।"

তবে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড প্রতিহত করতে যেসব রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল তা নেয়া হয়নি বলে মনে করেন সারা আফরীন।

আর মি. মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বড় প্রতিবাদ দেখিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের চেয়ে বিএসএফ এর পক্ষে কথা বলার জন্য বেশি উদ্যোগ নিয়েছেন’।

একজন দর্শক বলেন, ‘চাইনা পৃথিবীর কোন সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হোক। ভারতের কোন প্রান্তে হলে ভারত যে প্রত্যুত্তর দিতো বাংলাদেশেরও সে ধরনের উত্তর দেয়া উচিত’।

নারী নির্যাতন নিয়ে বিতর্ক

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্নটি করেন একজন দর্শক সৈয়দা মরিয়ম বেগম। তার প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, বিরোধী নেত্রী একজন নারী, পররাষ্ট্র থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত নারীদের দায়িত্বে, তারপরও দেশটির নারীরা কেন এত নির্যাতিত হচ্ছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা সারা আফরীন

News image"দিল্লীর ঘটনাটা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে এভাবে চলতে পারে না।"

মূলত: সম্প্রতি দিল্লীতে একটি বাসে একজন মহিলাকে গণ-ধর্ষণ করে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলা এবং পরবর্তীতে ওই মহিলার মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ভারতে যে উত্তাল আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের এই প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা হয় প্যানেল সদস্যদের মধ্যে।

এই প্রশ্নের জবাবে সারা আফরীন বলেন, ‘আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। দিল্লীর ঘটনাটা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে এভাবে চলতে পারে না। এর প্রতিবাদ করার দরকার আছে’।

সাম্প্রতিক সময়ে এই নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন মিস আফরীন।

বাংলাদেশে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীরা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নারীর ক্ষমতায়-ন ও সামাজিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করা যায়নি, এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন সব প্যানেল আলোচকরাই।

তবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশে নারীর সামাজিক নিরাপত্তার মান ভাল’।

তিনি আরও বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ঘটনার সুরাহা বহু ক্ষেত্রে হয়নি, তার প্রধান কারণ হল প্রশাসন কাজ করেনি। দ্বিতীয়ত শক্তিশালী রাজনৈতিক মহল সেই ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেছে। এটা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে’।

রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র চর্চা

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান

News image"বাংলাদেশের বড় এবং ছোট কোনো রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।"

অনুষ্ঠানের আরেকটি আলোচনার বিষয় ছিল, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা কতটুকু রয়েছে?

বাংলাদেশে সম্প্রতি সরকারী দল আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটি ওঠে।

এ এন এম মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় এবং ছোট কোনও রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি’।

‘একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়, এবং তাকে অনুরোধ করা হয়, আপনি বাকি সবাইকে নির্বাচন করে দেন। এর ফলে চাটুকারেরাই বেশী সুযোগ পায়’। বলেন মি. মুনীরুজ্জামান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দলের ভেতরেই যেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না, সেদলের কাছ থেকে দেশের মানুষ কি আশা করবে’?

আর সারা আফরীন বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যে সঠিকভাবে হয়নি, এটার একমাত্র কারণ হচ্ছে যে দলগুলোর নিজেদের ভেতরে কোনও গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না’।

হান্নান শাহ বলেন, তার দল বিএনপির যদি প্রত্যেকটি পদে নির্বাচন করতে হয়, তাতেই অনেক সময় লেগে যাবে। তবে ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির কমিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটাভুটি হয় বলে উল্লেখ করেন মি. শাহ।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে একজন দর্শক

"ভারতের কোন প্রান্তে হলে ভারত যে প্রত্যুত্তর দিতো বাংলাদেশেরও সে ধরনের উত্তর দেয়া উচিত।"

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন আওয়ামী লীগে এখন আগের মতো গণতন্ত্র চর্চা নেই।

‘যখন জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়, তখন দেখা যায়, সবাই মিলে নেত্রীর ওপর ছেড়ে দেন। এই জিনিসটা কুড়ি-পঁচিশ বছর পর এমন থাকবে বলে আমার মনে হয়না’। বলেন মি. শাহ।

দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হওয়া প্রয়োজন বলে একমত প্রকাশ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বড় দল বা ছোট দল বলে কথা নয়, গণতন্ত্রের জন্য সময় দিতেই হবে’।

হান্নান শাহর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মি. ইনু মন্তব্য করেন, ‘বড় দলের নির্বাচন করতে সময় লাগে না। কাউন্সিল দুদিনেরই হয়। এই দুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর বৃহত্তম দলগুলোও নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কমিটি প্রস্তুত করে। এটা আমরা করছি না, সেটাই হচ্ছে আসল কথা’।

sanglap audience

৫ই জানুয়ারী বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শকদের একাংশ।

অনুষ্ঠানের আরেকটি প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গ। দর্শক ও প্যানেল সদস্যদের সবাই মনে করেন সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক। অন্যতম প্যানেল সদস্য এ এন এম মুনীরুজ্জামান বলেন পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।

তবে তথ্যমন্ত্রী বলেন বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সরকারের কোন ভূমিকা ছিলোনা এবং সেটি ক্রিকেট বোর্ডের এখতিয়ার।

আপনাদের মন্তব্য:

আমার মতামত নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে । আমদের রাজনীতিবিদদের রাজনীতির মূলমন্ত্র হল ব্যক্তিস্বার্থ, বড়জোর দলীয় স্বার্থ, অবশ্য এখানে যদি অর্থের লেনদেন থাকে সেখানে আর দলীয় স্বার্থও থাকেনা, পুরোপুরি ব্যক্তি স্বার্থই থেকে যায় । সুতরাং নারী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী যাই থাকুক না কেন, বেশী কিছু আশা করার কিছুই নাই।

কল্যাণ কুমার মণ্ডল, ঢাকা

নারী ধর্ষণ নিয়ে আলাপ সম্পর্কে আমি বলবো, যদি নারীরা ইসলামি পোশাক পরিধান করে তার কর্ম সাধন করেন, তাহলে ধর্ষণ তো দূরের কথা, আমার মনে হয় নারীর সাথে খারাপ ব্যবহারও করবে না। আমি নারী সমাজকে বলবো, আগে আপনারা ঠিক হয়ে যান, তারপর পুরুষদের দোষারোপ করবেন।

এ বি সিদ্দিকি চেীধুরী, ঢাকা

নারী নির্যাতনের সাথে বেশীর ভাগ নারীরাই জড়িত, যেমন শাশুড়ি, ননদ ও বান্ধবীরা কোন না কোনভাবে নির্যাতনে সহযোগিতা করে থাকেন,আর ইভ-টিজিং ও ধর্ষণের মূল কারণগুলো হলো অশালীন পোশাক, অশ্লীল চলচ্চিত্র, নৈতিকতামূলক শিক্ষা ও স্ব-স্ব ধর্মীয় অনুভূতির অভাব। এইগুলি পূরণের পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই নারী নির্যাতন রোধ করা অবশ্যই সম্ভব।

নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা, কাতার

সত্য কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে শুধুমাত্র জামাতে ইসলামী আর ইসলামী ছাত্র শিবিরের ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা আছে। অন্যান্য বড় দলগুলোর গণতন্ত্র চর্চার শিক্ষা নেওয়া উচিত।

জামাল হোসেন, ঢাকা

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

মন্তব্য করুন

* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻

]]>