পর্ব-১১:
![]() | যুদ্ধাপরাধের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও বিচার করবে বিএনপ, জানালেন বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন। আওয়ামী লীগের ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, তেমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবেলা করবে তার দল। | দেখুন: |

প্যানেল সদস্য (বাঁ থেকে) : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, নোয়াখালী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি শিরীন আখতার এবং জাতীয় সংসদের একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজীম।
বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে তাতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোরও বিচার হবে।
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব ১১
বাংলাদেশ সংলাপ পর্ব ১১
আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়
শুক্রবার নোয়াখালীর মাইজদিতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দল তা রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবেলা করবে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন
"বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হবে এবং এ ট্রাইব্যুনাল এখানে থাকবে। ৭১ সালে যারা হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের বিচার হবে। বাংলাদেশে যখন যে সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এ সরকারের সময় সহ তার সবগুলোরই বিচার হবে।"
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি এক রায়ে জামায়াতের সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি এখনো।
সংলাপে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে আরও ছিলেন জাতীয় সংসদের একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজীম ও নোয়াখালী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সভাপতি শিরীন আখতার।
অনুষ্ঠানে দর্শক একেএম ছায়েদ উদ্দীনের প্রশ্ন ছিল বিএনপি ক্ষমতায় এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া কি অব্যাহত রাখবে ?
জবাবে মি. খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কোন যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছেনা। হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের বিচার আমরা চাই। সেটি অবশ্যই ন্যায় বিচার হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হবে এবং এ ট্রাইব্যুনাল এখানে থাকবে। ৭১ সালে যারা হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের বিচার হবে। এ সরকারের আমলেও তার চেয়ে খারাপ অপরাধ হয়েছে। বাংলাদেশে যখন যে সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এ সরকারের সময় সহ তার সবগুলোরই বিচার হবে।
জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার সরকারের নির্বাচনী এজেন্ডায় ছিল। এ বিচার অব্যাহত থাকা উচিত। মি. খোকনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি মেজরিটি পেলে কি করবে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগ তা রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবেলা করবে।’
মোহাম্মদ ফজলুল আজীম
"পুলিশ এমন পর্যায়ে এসেছে যে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তার শক্তি হিসেবেই পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী হিসেবে কাজ না করে সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে তারা কাজ করছে।"
সাম্প্রতিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে শিরীন আখতার বলেন, ‘সরকার ন্যায্য বিচার করেছে। তাড়াতাড়ি এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। বিএনপি আমলেও এ বিচার অব্যাহত রাখা উচিত’।
ফজলুল আজীম বলেন, ‘ প্রক্রিয়াটি রাখা উচিত। সংজ্ঞার বিভ্রাট আছে এখানে। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা-বিরোধী অপরাধ এখানে সংমিশ্রণ হয়ে গেছে। যাদের বিচার হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হত্যা, লুণ্ঠন বা নারী নির্যাতনের অভিযোগ আছে। এর ভিত্তিতে বিচার হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিত। সরকার যদি সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে সবিকছুই ঠিক মতো চলবে।’
পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার
দর্শক ডা. মুনীর আহমেদ –এর প্রশ্ন ছিল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বর্তমান সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেননা। সত্যিই কি পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছেনা ?
সম্প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্ট পদক দেয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য যে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপকে নির্যাতনের ঘটনাও ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে পদক দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে-এর সূত্র ধরেই সংলাপে প্রসঙ্গটি আলোচনায় উঠে আসে।
শিরীন আখতার
"শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্র সংসদ না থাকা বেদনাদায়ক। ছাত্র সংসদ থাকলে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি প্রকৃত রাজনীতি চর্চা করতে পারতো।"
মি. আজীম বলেন, ‘পুলিশ এমন পর্যায়ে এসেছে যে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তার শক্তি হিসেবেই পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী হিসেবে কাজ না করে সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে তারা কাজ করছে।’
মি. খোকন পুলিশের ভূমিকা সেবামূখি হওয়া উচিত মন্তব্য করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘এরপর তার আর ওই পদে থাকার অধিকার থাকেনা। উনি শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং মন্ত্রীর উচিত পদত্যাগ করা।’
একজন দর্শক বলেন পুলিশকে সংযত হতে হবে। আবার রাজনীতিকরাও ক্ষমতার অপব্যবহার যেন না করেন।
আরেকজন দর্শক বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হলে পুলিশ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবেনা’।
মি. আহমেদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য করা উচিত হয়নি। তবে পুলিশ সার্ভিস রুল অনুযায়ীই পদক বা প্রমোশন দেয়া হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আগেও পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে এবং কিছু এখনো হচ্ছে।’
শিরীন আখতার বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই পুলিশ একই ভূমিকা পালন করে’।
ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গ
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নূরুন নাহার (তৃষা) জানতে চান বাংলাদেশে বর্তমান ধারার ছাত্র রাজনীতি কি চলতে পারে ?
জামাল উদ্দীন আহমেদ
"এখন যা চলছে তা ছাত্র রাজনীতি নয়। আগামী দিনের নেতৃত্ব পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত।"
মি. আহমেদ বলেন, এখন যা চলছে তা ছাত্র রাজনীতি নয়। আগামী দিনের নেতৃত্ব পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মি. আজীম বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বলে এখন কিছু নেই। ছাত্ররা ব্যবহৃত হচ্ছে দলগুলো দ্বারা। ছাত্র রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব চলছে। সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় অনেক কিছু করে থাকে।’
মি. খোকন বলেন, ‘সবার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত হবেনা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
একজন দর্শক বলেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিত। তবে আরেকজন দর্শক বলেন একেবারে বন্ধ করা ঠিক হবেনা। কারণ ছাত্র রাজনীতির অনেক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন রয়েছে।
শিরীন আখতার বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্র সংসদ না থাকা বেদনাদায়ক। ছাত্র সংসদ থাকলে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি প্রকৃত রাজনীতি চর্চা করতে পারতো।’
গ্রামীণ স্কুলে ইংরেজি শিক্ষা
দর্শক মাহমুদা আক্তার মুন্নার প্রশ্ন ছিল গ্রামীণ স্কুলগুলোতে কেন আধুনিক পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানো হয়না ?
পুলিশকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার প্রসঙ্গে একজন দর্শক
"মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হলে পুলিশ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবেনা।"
মি. আহমেদ বলেন রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ইংরেজি শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া উচিত।
শিরীন আখতার বলেন, শিক্ষকের ভূমিকা বেশি। শিক্ষক আছেন কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে শেখার আগ্রহ কম।
একজন দর্শক বলেন শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
মি. আজীম বলেন, ‘বাংলা অবশ্যই জানতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষকের সুযোগ সুবিধা সীমিত। শিক্ষকদের যথার্থ সুবিধা দিলে যোগ্যরা শিক্ষকতায় আসবে। তখন তারা ভালো করে শেখাতে পারবে।’

বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া দর্শকদের একাংশ।
মি. খোকন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পলিসি দরকার। শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সমমানের সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি বেতন দিতে পারলে মেধাবীরা এ পেশায় আকৃষ্ট হবে। স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো হওয়া উচিত।’
আপনাদের মন্তব্য:
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
মন্তব্য করুন
* এই ঘরগুলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে

































