জামায়াত নিষিদ্ধ করতে শীঘ্রই পদক্ষেপের ইঙ্গিত

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 23 ফেব্রুয়ারি, 2013 16:19 GMT 22:19 বাংলাদেশ সময়

পর্ব-১৫:

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুক্রবার ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য জাতীয় সংসদে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হতে পারে।

দেখুন:

ক্লিক করুন ইউটিউব

bangladesh_sanglap_feb22

বাংলাদেশ সংলাপের ২২শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে আলোচকরা

বাংলাদেশের আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুক্রবার ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য জাতীয় সংসদে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জামায়াত নিষিদ্ধ করতে শীঘ্রই পদক্ষেপের ইঙ্গিত

জামায়াত নিষিদ্ধ করতে শীঘ্রই পদক্ষেপের ইঙ্গিত

শুনুনmp3

আপনার ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সনটি সঠিক নয়

বিকল্প মিডিয়া প্লেয়ারে বাজান

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য দুই-তিনটি উপায় আছে। এর মধ্যে যে কোনওটি প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম উল্লেখ করেন।

ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে একজন দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে আইন প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন - শাহবাগ আন্দোলন থেকে যে ছয়দফা দাবি তোলা হয়েছে তার বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? শাহবাগ আন্দোলনকারীদের একটি প্রধান দাবি হচ্ছে আগামী ২৬শে মার্চের আগেই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

অনুষ্ঠানের বেশির ভাগ দর্শক মনে করেন শাহবাগ আন্দোলন থেকে যে দাবী তোলা হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়।

kamrul_islam

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম

এ প্রসঙ্গে কামরুল ইসলাম বলেন, প্রজন্ম চত্বরের ছয় দফা দাবি গণজাগরণে পরিণত হয়েছে। এ দাবির বাস্তবায়ন হবেই।

তিনি জানান, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে হতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে দুটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, তার দুটিতে ব্যক্তিকে সাজা দেয়া হয়েছে।

কামরুল ইসলাম, আইন প্রতিমন্ত্রী

"জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার জন্য দুটো তিনটে রাস্তা আছে, সবগুলোই বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে যে কোনওটাই প্রয়োগ করা যেতে পারে।"

এই দুটি রায়েও জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সুতরাং জামায়াতের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালও ব্যবস্থা নিতে পারে।

তা ছাড়া সংসদেও সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। সব কটি বিকল্প বিবেচনায় দলটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনপ্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের আরেকজন প্যানেলিস্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন শাহবাগ থেকে যে দাবী তোলা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন না হাবার কোন কারণ তিন দেখছেন না।

মি. কবির বলেন, “আমরা নাগরিক সমাজের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি হাইকোর্টে একটা রিট করব। আমরা হাইকোর্টে যাচ্ছি এজন্য যে, সরকার কেন এ ধরনের একটি সংগঠনকে ছেড়ে রেখেছে যাদের জঙ্গী সম্পৃক্ততা আছে।’’

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংবিধানসম্মত দল হলেও তারা অসাংবিধানিক কাজ করছে । তিনি উল্লেখ করেন, কোনও দল যদি সংবিধানের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে সংবিধানের ৩৮ ধারা প্রয়োগ করে সেটা নিষিদ্ধ করা যায়।

এছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করেও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা যায় বলে শাহরিয়ার কবির উল্লেখ করেন। সরকার চাইলেই এটা করতে পারে বলে মনে করেন মি. কবির।

প্যানেলে অন্যতম আলোচক বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এলিনা খান বলেন, শাহবাগের আন্দোলনকারীদের দিক থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে সেটা তাড়াতাড়িই পূরণ করা যায়।

এলিনা খান বলেন, “জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার জন্য রিট দায়ের করার দরকার নেই। সংসদে সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সেজন্য সরকার চাইলে এক্ষুনি সংবিধান সংশোধন করে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে পারে।”

elina_khan

এলিনা খান

তিনি বলেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষটি যদি ন্যায্য ও আইনসংগত হয় তাহলে সেটির প্রতি তার সমর্থন আছে। তিনি প্রশ্ন করেন সরকার যেটি সংসদে এখনই করতে পারে সেটা কেন বিলম্ব করছে?

এলিনা খান মনে করেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ফলাফল দুই রকমের হতে পারে। একটি হচ্ছে তারা আরও খারাপ হয়ে মারাত্মক কিছু করতে পারে। সেজন্য সরকার কতদূর যেতে পারবে সেটি সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এলিনা খান, মানবাধিকার আইনজীবী

"জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে তো রিট দায়েরের প্রয়োজন নেই, সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সরকার এখনই তো সেটা করতে পারে।"

অনুষ্ঠানে একজন দর্শক মন্তব্য করেন, জামায়াতে ইসলামী একটি বড় দল । তাদের নিষিদ্ধ করা হলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি হবে সে বিষয়টিও দেখতে হবে।

তবে তিনি বলেন, যেহেতু তরুণ প্রজন্মের দিক থেকে একটি দাবি উঠেছে এবং দেশে বিদেশে এর সমর্থন আছে সেজন্য এ দাবি পূরণ করা স্ম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে আরেক দর্শকও মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে একজন দর্শক প্রশ্ন করেন বিএনপি নেতা এবং সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিনকে। দর্শক প্রশ্ন করেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে তারা যদি পরবর্তীতে বিএনটি করতে চায় তাহলে বিএনপি তাদের দলে নেবে কি না?

মি: আবেদিন বলেন, “এ বিষয়ে তখনই চিন্তা করা হবে যখন দলটিকে বাতিল করা হবে। বিএনপিতে আদৌ তারা আসবেন কিনা সেটা আগে প্রশ্ন। আসলে পরে বিএনপি চিন্তা করবে তাদের নেবে কি নেবে না।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনও দাবি যখন আসে তখন সেটা কীভাবে পূরণ করা হবে সেটা সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ১৯৯৩ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাতে ছাত্রনেতা রিমু হত্যাকান্ডের পরের দিন সংসদে এনিয়ে আলোচনা হয়।

তখন সংসদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং বিরোধী দল আওয়ামীলীগ মিলিতভাবে বলেছিল এদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। কিন্তু দুইদিন আলোচনার পরও সেটা কার্যকর হয়নি।

কারণ সরকার বলেছিল এই প্রস্তাব আসতে হবে বিরোধী দলের দিক থেকে, আর বিরোধী দল বলল এই প্রস্তাব আসতে হবে সরকারের দিক থেকে।

বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন বলেন, সরকার জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।

jainul_abedin

জয়নুল আবেদিন

“যদি তারা জামায়াতে ইসলামীকে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে তখন সরকার কী করবে সেটা নিশ্চয় তাদের একটা চিন্তা আছে,” বলেন মি: আবেদিন।

বাংলাদেশে সংলাপের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল - জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হলেও দলটির যে জনসমর্থন আছে তাকে দমন করা সম্ভব কিনা?

জয়নুল আবেদিন, বিএনপি নেতা

"জামায়াত নিষিদ্ধ করা হলে বিএনপি সেই দলের কর্মীদের নেবে কি না, এই প্রশ্ন তো উঠবে দলটি বাতিল হওয়ার পরে। আর তারা বিএনপিতে আসতে চায় কি না, সেটাও তো দেখতে হবে।"

এর জবাবে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত বর্তমান সংসদে দুইটি আসন পেয়েছে এবং এ থেকেই জামায়াতের সমর্থন কতটা তা বোঝা যায়।

আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জামায়াত সন্ত্রাসী আচরণ করছে এর থেকে খারাপ আর কিছু হয় না। কাজেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। মানুষ চায় জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে যাবে।”

জবাবে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে যেখানে মতিঝিলে তারা সভা সমাবেশ করে, তাদের যদি জনসমর্থনই না থাকত তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এত বড় সমাবেশ করতে দিলেন?

তাঁর কথায়, ‘‘জনসমর্থন না থাকলে জামায়াতকে ওই সভা করতে দেয়া হতনা। নিশ্চয়ই রাজনৈতিকভাবে তাদের একটা সমর্থন রয়েছে। বর্তমান সরকার সেটা জানেন বলেই সময় সময়ে তাদেরকে সুযোগ করে দেন।’’

শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়াত এখন পর্যন্ত একটা আইনি সংগঠন বলে তারা সভা সমাবেশ করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাদেরকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু জামায়াত যখনই নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে তখন আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দায় থাকবে না।

তাঁর বক্তব্য, ‘‘জামায়াতের জনসমর্থন যেটুকু আছে সেটা বিএনপির কারণে। বিএনপি সাথে না থাকলে জামায়াতের কোন জনভিত্তি নেই। তাদের ক্যাডার-ভিত্তি আছে, জন-ভিত্তি নেই।’’

sanglap_audience_feb22

বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে ২২শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে দর্শকদের একাংশ

পাল্টা জবাবে মিঃ আবেদিন বলেন, ‘‘জামায়াত এককভাবে যে হরতালগুলো করেছে কোনটাতেই বিএনপি তাদের সাথে অংশগ্রহণ করেনি। বিএনপি একটি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। বিএনপি জামায়াতের শক্তি নয়, জামায়াত তাদের নিজস্ব সত্ত্বা নিয়ে রাজনীতি করে।’’

এতে দর্শকদের একজন জিজ্ঞেস করেন, বিএনপি যদি মুক্তিযুদ্ধের দল হয় তাহলে শাহবাগের এত বড় আন্দোলনে যেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিচার চাওয়া হচ্ছে, সেখানে তাদের সমর্থন বা সংহতি জানাতে এত দ্বিধা ছিল কেন?

উত্তরে বিএনপি নেতা মিঃ আবেদিন বলেন, “শাহবাগের নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের হাতে যারা নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই রাজনীতি করে থাকেন। তারা দেশের মুক্তি চান, যা ভালো মনে করেন তা নিয়েই এগিয়ে যান। কিন্তু এর পেছনে একটি শক্তি থাকে যেটাকে বিএনপি পর্যবেক্ষণ করছে। ”

এলিনা খান বলেন প্রজন্ম চত্বরের দাবিটা শুধু জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে না, তার সাথে যত যুদ্ধাপরাধী আছে তাদের সবারই বিচার চাওয়া হয়েছে। সরকারী এবং বিরোধী দলেরও অনেক যুদ্ধাপরাধী আছে।

তাঁর কথায়, ‘‘শুধু কাদের মোল্লা বা এ পাঁচ-ছয়জনকে নয়, সকল যুদ্ধাপরাধীদের যারা বড় বড় পোস্টে আছেন, বিশেষত সরকারি দলের যারা আছেন তাদেরও বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ’’ বেশির ভাগ দর্শক এ কথায় সমর্থন জানান।

মি. ইসলাম এর জবাবে বলেন, ৭১-এ ধর্ষণ, লুণ্ঠন, হত্যা, অগ্নিকান্ড সংযোগের সাথে যুক্ত তাদের বিচার চলছে, যাদের বিচার মানুষ আগে দেখতে চায়। ৬০০ অভিযোগ জমা পড়েছে যার পর্যায়ক্রমে তদন্ত চলছে। সরকারের মধ্যেও যদি যুদ্ধাপরাধী থাকে তাদের প্রত্যেকেরই বিচার অবশ্যই হবে।

বাংলাদেশ সংলাপের শেষ প্রশ্নটি করেন মোঃ মনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া । তিনি প্রশ্ন করেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে যেসব গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ায় এগুলোর বিরুদ্ধে কি সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত?

shahriar_kabir

শাহরিয়ার কবির

এ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার কবির জানান তিনি নিজেই এর শিকার। তিনি বলেন, “জামায়াত ও বিএনপির কয়েকটা কাগজ গত কয়েকদিন ধরে অহেতুক আমার বিরুদ্ধে, মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে লাগাতার লিখে যাচ্ছে যে আমরা শাহবাগ করেছি, আমরা নাস্তিক, মুরতাদ ইত্যাদি এবং অভিযোগগুলো সবই মিথ্যা কথা।”

মি: কবির বলেন, “ব্লগে যেটা বলা হচ্ছে এর উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হোক। রাজীবের লেখা আসলে কতটা আর কতটা ম্যানুফ্যাকচার করে তাঁর ব্লগে সেঁটে দেয়া তা তদন্ত করুন। রামুর ঘটনায় উত্তম বড়ুয়ার পেজে ছবি ম্যানুফ্যাকচার করে সেঁটে দেয়া হয়েছিল।’’

শাহরিয়ার কবির, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

"কোনও দল যদি সংবিধানের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে সংবিধানের ৩৮ ধারা প্রয়োগ করে সেই দলকে যে কোনও সময়ই নিষিদ্ধ করা সম্ভব।"

“মুশকিল হল সাইবার ক্রাইম মোকাবেলা করবার মত সাইবার ইন্টেলিজেন্স আমাদের এখানে এখনও ডেভেলপ করেনি, পুলিশ বিভাগ একেবারেই অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে এক্ষেত্রে”, বলেন শাহরিয়ার কবির।

এ ব্যাপারে এলিনা খান বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, যেটা সত্যি না সেটা যদি প্রচার করা হয় এটা সমাজে এক ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে যদি স্বেচ্ছাচারিতার পর্যায়ে যাতে নেয়া না হয় তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।

এ পর্যায়ে একজন দর্শক বলেন, “এ ব্যাপারে ঢালাওভাবে দোষারোপ না করে সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমরা দেখেছি আমাদের পত্রিকাগুলির কোনটাই সত্যি কথা লেখে না। যে যা দল সাপোর্ট করে তার পক্ষে বাড়িয়ে লেখে। অতএব আমাদের সবাইকে লিখতে দেয়া উচিত।’’

বিএনপির নেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, “আমার মনে হচ্ছে এই সরকারের ৫ বছরের ব্যর্থতার শেষ পর্যায়ে এসে এই সমস্ত ইস্যু সরকার সৃষ্টি করছেন। আজকে তথ্যমন্ত্রী বলছেন আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছি আবার কন্ট্রোলও করেছি।’’

তাঁর কথায়, “গণমাধ্যম যদি বিভান্তিকর তথ্য ছড়াত তাহলে সরকার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করত। এইখানে এত বড় একটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এসেছে, তারা একটা পদক্ষেপের মধ্যেও যাননি। ”

এরপর সরকারের উদাসীনতা প্রসঙ্গে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে এবং দু-চার দিনের মধ্যেই সেই তদন্তের ফল আপনারা জানতে পারবেন।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻

]]>