জামায়াত কোথায় কোথায় শক্তিশালী, কেন?

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 1 এপ্রিল, 2013 17:13 GMT 23:13 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন দেশের বিশেষ কয়েকটি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা এবং শক্তি অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি।

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, গাইবান্ধা ও বগুড়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রামের একটি অংশে জামায়াতে ইসলামী অব্যাহতভাবে তাদের তৎপরতা জোরেশোরে চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। এসব জায়গায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

প্রশ্ন হলো, এসব অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী কতটা শক্তিশালী এবং কি করে সেই শক্তি অর্জন তারা অর্জন করতে পারলো?

দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সাথে পুলিশের সহিংসতা বারবারই খবরের শিরোনাম হচ্ছে। যে জায়গাগুলোতে এ ধরণের সংঘাত বেশি হচ্ছে সেখানে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তেমনি একটি জায়গা হলো রাজশাহী শহর।

অনেক সময় সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। রাজশাহীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী বলছিলেন, মূলত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে। তিনি বলেন, রাজশাহী শহর এবং তার আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্কযুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “রাজশাহীতে জামাতের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। গত মাসেই রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার বলছিলেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় বিল্ডিং বানিয়ে বানিয়ে তাদের কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করে ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। রাজশাহীতে কোচিং সেন্টার সহ তাদের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে।"

এসব জায়গায় সহিংসতার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও পুলিশ পরস্পরকে দায়ী করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা ও বগুড়ার কিছু এলাকা এবং চট্টগ্রামের একটি অংশেও জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা আবু জাফর মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলছিলেন, চট্টগ্রামের একটি অংশে তারা সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেছেন।

মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, “সাতকানিয়া , লোহাগড়া , বাঁশখালী দক্ষিণ চট্ট্রগামের দিকের এলাকায় আলেম ওলামাদের সংখ্যা বেশি। ঐতিহাসিকভাবেই এ সমস্ত এলাকায় ইসলামের একটা ভিত্তি তৈরি হয়ে আছে।” পাশাপাশি জামায়াতের একটা ভিত্তি তৈরি হয়ে আছে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “শিবিরের দীর্ঘদিনের কাজের ফলে এসব এলাকায় মানুষের ভিতরে জামাত-শিবিরের জন্য একটা ভালোবাসা আছে। এখানে দুটোই একসাথে আছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সাঈদীর জন্য ভালোবাসা দুটো জিনিসই কাজ করছে। এসব এলাকার মানুষের মধ্যে তাই 'সাঈদী-ভক্ত' বিষয়টা আছে । যার কারণে লোকেরা অনেক বেশি রাস্তায় নেমে এসেছে।”

কিন্তু দেশের অন্য কয়েকটি জায়গায় কেন জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তি এবং সমর্থন জোরালো হলো? সমানভাবে সব জায়গায় সেটি গড়ে উঠল না কেন?

ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ডঃ এমরান হোসেন বলেন, “জামাতের কিছু কিছু কেন্দ্রীয় নেতা আছে - তাদের যে প্রতিপত্তি এবং তারা যে ইসলামিক অনুষ্ঠানগুলো করে তার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে ভীতি বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আবদ্ধ করার প্র্রক্রিয়া তারা চালু করে।”

তিনি বলেন, "এগুলোর মধ্য দিয়ে তারা ক্রমান্বয়ে এই অঞ্চলগুলোতে তাদের জন্য একটা সমর্থনের ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু তারা এখনো প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করতে পারে না।"

মি: হোসেন বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতন মানুষ আছে বলেই তারা শিকড় গড়তে পারেনি। যেভাবে তারা চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে প্রতিপত্তি গড়তে সক্ষম হয়েছে।"

BBC © 2014বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻

]]>