ক্রসফায়ার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে: শাজাহান খান

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি অধ্যাপক এম তামিম, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি অধ্যাপক এম তামিম, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন সন্ত্রাস দমনের পদক্ষেপ হিসেবে মানুষ ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোকে গ্রহণ করে নিয়েছে।

তবে বিএনপির একজন নেতা অভিযোগ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণেই বেশি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে বিতর্ক হয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও।

এছাড়া নারীর সম-অধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম তামিম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন রানা মাহমুদ। তিনি জানতে চান ক্রসফায়ারের মাধ্যমে কি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হচ্ছেনা ?

জবাবে ফারাহ কবির বলেন, “ক্রসফায়ারের প্রয়োজন কেন? কেউ অন্যায় করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবেনা কেন ? এ বিষয়ে তথ্য পুরোপুরি পাচ্ছিনা। এখানে সরকারের একটা ভূমিকা আছে”।

তিনি বলেন, “ক্রসফায়ার হলে বা সেটি নিয়ম ভঙ্গের কারনে হলেও আমরা বিচার চাইবো”।

এম তামিম বলেন, “বিচার ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারনে ঘোরতর আসামী বেরিয়ে যাচেছ। সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছে লোকজন। বিচার ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা আছে। সে কারনেই বিচার বহির্ভূত হত্যার ভুল পথ প্রথম থেকেই ব্যবহার হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থা জোরালো হলেই এটি থেকে মুক্তি দেয়া যেতে পারে”।

তিনি বলেন, “মানুষ এটিকে গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহারের কারনে এটি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে”।

একজন দর্শক বলেন কোন নিরাপরাধ ব্যক্তি ক্রসফায়ারে পড়েছেন দেখিনি। মানবাধিকার হারাচ্ছে কিন্তু ক্রসফায়ার অন্যায় কিছু না।

আরেকজন দর্শক বলেন অনেক নিরীহ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি ক্রসফায়ারের শিকার হচ্ছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিচার বহির্ভূত হত্যা নিন্দনীয়। সাম্প্রতিক কালে রাজণৈতিক কারণে ক্রসফায়ার হচ্ছে। আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে বিচার হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের হত্যাকান্ড ভালো না। ক্রিমিনালরা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট। বিচার বহির্ভূত হত্যা হতে দেয়া উচিত না।

তিনি বলেন বিএনপির সময়ে ভালো উদ্দেশ্যে র‍্যাব সৃষ্টি করা হয়েছিলো। তখন র‍্যাব নিয়ন্ত্রনে ছিল। তবে বিএনপির সময়ে হলেও নিন্দনীয়। তবে এখন ব্যাপকতা বেড়েছে।

শাজাহান খান বলেন সন্ত্রাসীদের দমন করতে এ ধরনের পদক্ষেপ সব সরকারের সময় কোন না কোন ভাবে করেছে। পুলিশ মানুষ যাত্রী হত্যা কি সভ্যতা। প্রকৃত সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা সাধারন মানুষ তো গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন আইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র এরশাদ শিকদারের বিচার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া কোন সরকার সন্ত্রাসীদের বিচার করতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন সন্ত্রাসীদের কিভাবে দমন করবেন তা নির্ভর করে তাঁক্ষনিক অবস্থার উপর। কেউ সন্ত্রাস দমন করতে পারলে তো সবাই বাহবা দিবে এবং তাই দেয়া হচ্ছে।

নারীর অধিকার এবং নির্যাতন

সুলতানা রাজিয়া জানতে চান কেবলমাত্র বিভিন্ন উচ্চপদে পদায়ন করেই কি নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

প্রায় একি ধরনের আরেকটি প্রশ্ন করেন ড: নীলিমা চৌধুরী। তার প্রশ্ন ছিল – এক জরিপে পাওয়া গেছে যে বাংলাদেশে ৮০ শতাংশের বেশি পুরুষ মনে করে অন্যায় করলে স্ত্রীকে মার দেয়ার অধিকার স্বামীর আছে। সমাজের কি উচিত এই তথ্যে উদ্বিগ্ন হওয়া ?

হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতোই এবং এটি সমর্থনযোগ্য নয়। গত ত্রিশ বছরে নারীরা অনেক এগিয়েছে। নারী এখন আর ক্ষমতাহীন নয়। তবে পুরুষেরও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন”।

তিনি বলেন, “জরিপটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমাদের মানুষ অনেক সংবেদনশীল। স্ত্রীকে মারার মতো মানসিকতা এখন আর পুরুষদের মধ্যে নেই”।

ফারাহ কবির বলেন, “নারী ও পুরুষকে মানুষ হিসেবে চিন্তা না করলেই বৈষম্য সৃস্টি হবে। এটি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতোই। এখনো যেটা হচ্ছে এ ধরনের অন্যায় করলে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না, প্রশ্রয় দেয়া হয়"।

তিনি বলেন, "যৌতুকের জন্য মেরে ফেললে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়? উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কি সমান সুযোগ পাচ্ছি” ?

একজন দর্শক বলেন, “অধিকার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। অনেক কঠোর ও সচেতন হতে হবে”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “ধর্মীয় গোঁড়ামিই এক্ষেত্রে মূল সমস্যা”।

অধ্যাপক তামিম বলেন, “স্ত্রী অন্যায় করলে মার দেয়া যায় সেটা অনেক জায়গাতেই আছে। মানসিকতার পরিবর্তণ না হলে সম-অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন। শিক্ষার মাধ্যমে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা সবার দায়িত্ব”।

শাজাহান খান বলেন, “নারীরা উচ্চপদে থাকলে নারীদের জন্য কিছুটা কাজের সুযোগ থাকে। নারীদের বাদ দিয়ে কিছু হবেনা। কোন জায়গায় এখন নারীরা নেই” ?

তিনি বলেন, “ধর্মান্ধতা একটা সমস্যা। নারীদের অধিকার বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র ধর্মান্ধতা থেকেই আসে”।

বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গ

মো: শাহীন জানতে চান এই মূহুর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কি খুবই প্রয়োজনীয় ?

অধ্যাপক তামিম বলেন বিদ্যুৎ বিতরন কোম্পানী ১০ থেকে ২৩ শতাংশ বাড়ানোর দাবি করেছে। তিবে রেগুলেটরী কমিশন বলছে ৩ থেকে ৬ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে। কমিশন ভালো করে দেখলে এ পর্যায়ে দাম না বাড়ালেও চলে।

তিনি বলেন, " তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না হলে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা লোডশেডিং হতো। কিন্তু এ উচ্চমূল্য কতদিন বহন করবে মানুষ"।

তিনি আরও বলেন, "সরকার একদিকে যেমন বিদ্যুতে সার্থক সরবরাহের মাধ্যমে তেমনি অন্যদিকে ব্যর্থ হয়েছে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী উৎপাদনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারনেই এ উচ্চমূল্য বহন করতে হবে"।

ফারাহ কবীর বলেন, “যারা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ তাদের জন্য দাম বৃদ্ধি দু:সংবাদ। আমাদের আয় তো বাড়ছেনা। কেন দাম বাড়ানো হচ্ছে সে তথ্য জানানো উচিত। অবশ্যই সবাই বিদ্যুৎ চাইবে। তবে আমাকে তো ব্যয় করার ক্ষমতাও দেখতে হবে”।

হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত নয়। এ সরকারের সেই অধিকারও নেই। এটি কোন নির্বাচিত সরকার নয়। অনির্বাচিত সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই"।

তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে যা করা দরকার সেটাই করছে”।

শাজাহান খান বলেণ, "বর্তমান সরকারের সময়ে গ্যাস পানি বিদ্যুতের অভাবে জনগণকে আন্দোলন করতে হয়নি। বিদ্যুতের দাম বাড়ালে মানুষের কষ্ট হবে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি কষ্ট হবে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলে"।

তিনি বলেন, "বেশি টাকা দিলেও মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বাস্তবতার কারনেই সরকার কিছুটা দাম বাড়ানোর কথা চিন্তা করছে"।

মন্তব্য করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, মন্তব্য করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

বিশ্বে নারী নির্যাতন নিয়ে অনেক কথা কিন্তু নর নির্যাতন নিয়ে কোন কথা হয় না। আর নারী নিয়ে সকল আলোচনায় দেখা যায় শুধুমাত্র ধর্মের উপর (ইসলাম ধর্ম) আক্রমণ করে কথা বলা হয়। নারী দিবসের সকল আলোচনায় এ আক্রমণ করা হয়ে থাকে। অথচ নারীদেরকে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত। স্বামীর পায়ের নিচে নয়। তাই যারা স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেস্ত বলে নারীদের প্রহার করে সেটার দায় দায়িত্বতো ধর্ম নিতে পারে না, এটার জন্য শুধুমাত্র নির্যাতনকারীরাই দায়ি।

মোশতাক, ঢাকা।

শাজাহান খান ক্রসফায়ার সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।

শাকিল, ফেনী।

আমরা যারা প্রবাসী তারা প্রবাসে বসে সবকিছু দেখছি, শুনছি। সরকার যা করছে তা আমাদের কাম্য নয়।

কবি মিজান দুখু,দুবাই।