সংলাপে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক

বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, দশম সংসদ নির্বাচনে জনগণ যে ভোট দিতে পারেনি তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এবারের উপজেলা নির্বাচনে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় উপজেলা নির্বাচনের ফল নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সংলাপে আল-কায়েদা প্রধানের কথিত অডিও বার্তা, প্রবাসে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মৃত্যু এবং রাজশাহীতে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়েও বিতর্ক হয়েছে।
সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান এবং রাজশাহী ডিস্ট্রিক্ট উইমেন বিজনেস ফোরামের প্রেসিডেন্ট রোজেটি নাজনীন।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: শাহাদত হোসেন। তিনি জানতে চান প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের উল্লেখযোগ্য বিজয় রাজনীতিতে কি ইঙ্গিত দিচ্ছে ?
জবাবে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন উপজেলার মতো স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জয় পরাজয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত গুণাবলীর উপর নির্ভর করে এবং এবারের নির্বাচনেও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় এ নির্বাচনের ফল নিয়ে আমি বা আওয়ামী লীগ উদ্বিগ্ন নয়”।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির আহবানে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। সে নির্বাচনে যে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি এবার উপজেলা নির্বাচনে তারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে”।
তিনি বলেন নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণ বিএনপিকে ভালোবাসে।
ড. মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, “রাজনৈতিক না হলেও উপজেলা নির্বাচন রাজনৈতিক রূপ পেয়ে গেছে। এবারের উপজেলা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। অর্থাৎ এটি প্রমাণ করছে যে মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ কাজ দেখতে চায়”।
তিনি বলেন, “মাত্র তো প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন হলো। তবে এরপরের গুলোতেই একই ধরনের রেজাল্ট আসবে। অন্তত ফল দেখে তাই মনে হয়”।
রোজেটি নাজনীন বলেন, “উপজেলা নির্বাচনের ফল রাজনৈতিক দলের পছন্দ অপছন্দের বিষয়টি প্রমাণ করেনা। এটি প্রমাণ করে মানুষ তার নিজের অধিকারের প্রতি অনেক বেশি আস্থাশীল হয়ে উঠেছে”।
একজন দর্শক বলেন, “উপজেলা নির্বাচনের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আওয়ামী লীগ তৃণমূলে সংগঠিত নয়”।
আল-কায়েদার বার্তা
শফিকুল ইসলাম জানতে চান আল-কায়েদার কথিত অডিও বার্তাকে কি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে ?
ড: হান্নান বলেন, “বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যু ইচ্ছে করে তৈরি করে দেয়া হয়। স্বার্থান্বেষী মহল এটি করে। সাধারণত যারা ক্ষমতায় থাকে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এমন ইস্যু করে আবার বিরোধী দলও করে”।
রোজেটি নাজনীন বলেন, “তদন্ত না করে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায়না। তবে একটা ঘটনা যেহেতু সামনে এসেছে তাই তদন্ত করা উচিত"।
তিনি বলেন, "এমনি দু রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বিরোধের সুযোগে তৃতীয় পক্ষ একটা সুযোগ নিতে পারে”।
একজন দর্শক বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এটা করা হয়েছে”।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য সরকার এ ধরনের একটি বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নাম ব্যবহার করছে তাকে হেয় করার জন্য”।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সহ অনেক দেশ বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। সেটি আদায়ের জন্য এ কাল্পনিক বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে”।
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “এটি তদন্ত করে বলতে হবে। তবে এটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছেনা। আমরা সরকারে থাকলে এক ধরনের কথা বলি আবার বিরোধী দলে গেলে আবার কথা বলি। এটি ঠিক নয়”।
মিনুর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমেরিকা বা ব্রিটেন কি বললো তাতো আমাদের দরকার নেই”।
প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু
সামিমা নাসরিন কনক জানতে চান প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে কি উদ্বেগের কারণ রয়েছে?
রোজেটি নাজনীন বলেন, “প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণ ঠিক মতো জানা যাচ্ছেনা। সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিলে এবং মন্ত্রণালয় থেকে এগুলো তদন্ত করা উচিত। তবে অবশ্যই এটি উদ্বেগের কারণ”।
ড: হান্নান বলেন, “এসব মৃত্যুর ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত। যেসব কোম্পানির ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ঘটে তাদের জবাবদিহিতা চাওয়া দরকার”।
মিজানুর রহমান মিনু বিদেশে এ ধরনের মৃত্যু সবার জন্য উৎকণ্ঠার। সরকারের এক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। অন্য দেশের শ্রমিকরা এতো মারা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, "সরকারের অবহেলার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আশা করি সরকার উদ্যোগী হবে"।
একজন দর্শক বলেন, “এটা বাংলাদেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে প্রবাসীরা। সরকার দৃষ্টি না দিলে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে”।
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “প্রবাসী শ্রমিকদের একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সবার তথ্য হাতে থাকলে দুর্ঘটনাগুলো কমানো যাবে"।
তিনি জানান সরকারের মন্ত্রণালয় গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ চলছে। তবে মিশনগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজশাহীতে কর্মসংস্থান
শাহিনুর পারভিন আল্পনা জানতে চান রাজশাহীতে শিল্প কল কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা আদৌ আছে কি-না ?
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “বড় শিল্পের জন্য যে ধরনের সাপোর্ট লাগে সেগুলো পর্যাপ্ত রাজশাহীতে ডেভেলপ করেনি। মাত্র কিছুদিন আগে এখানে গ্যাস আনতে পেরেছি"।
তিন বলেন, "যেহেতু জ্বালানীর ব্যবস্থা করা গেছে তাই উদ্যোক্তারা এখন উদ্যোগ নিতে পারবে”।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “ভৌগলিক কারণে রাজশাহী একটু প্রতিকূল অবস্থায়। কৃষিভিত্তিক শিল্প ইতোমধ্যেই গড়ে উঠছে"।
তিনি বলেন, "রাজশাহীতে অনেক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে”।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে বড় জুট মিল এবং ফুড প্রসেসিং জোন গড়ে উঠছে এবং সরকারের সাপোর্ট থাকলে বড় শিল্প কারখানা আরও হবে”।
ড: হান্নান বলেন, “শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট থাকা দরকার। এছাড়া সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা থাকা দরকার। অবকাঠামো ও পুঁজির সহযোগিতা দরকার হবে”।

রোজেটি নাজনীন বলেন, “উন্নয়ন হচ্ছে এবং সবকিছুর উন্নয়ন হলে শিল্পের ক্ষেত্রেও হবে। মানুষরা উদ্যমী হলে বিনিয়োগকারীরা আসবে। এজন্য সাহস বাড়াতে হবে”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
Upazila election and It's result indicates people looking for a national election as soon as possible.
Mohammed Islam, New York
অর্থবহ সংলাপ উপহার দেওয়ার জন্য বিবিসিকে ধন্যবাদ। প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার কাজের চেয়ে অকাজই বেশী করে, যেমন:বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তনের অর্থ দিয়ে বন্দরকে অত্যাআধনিক করা যেত, অথচ সরকার প্রতিহিংসা চরিত্রায়িত করেছে, দূতাবাসগুলোতে প্রর্যাপ্ত লোকবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে শ্রমিকেরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে না। একটি ম্যাশিনরিডআবল পাসপোর্ট পেতে ৭/৮ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।








