ছাত্রলীগের কিছু কাজে সরকার বিব্রত: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেসরকারি সংস্থা ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সাদাফ নূর এ ইসলাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেসরকারি সংস্থা ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সাদাফ নূর এ ইসলাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন ছাত্রলীগের কিছু কাজে সরকার বিব্রত হলেও সরকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপ, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা এবং আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

এবারের পর্বে প্যানেল আলোচক ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান, বেসরকারি সংস্থা ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সাদাফ নূর এ ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন রতন দাশ। তিনি জানতে চান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কি নিজস্ব কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে ?

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “ ছাত্রলীগের কিছু বিষয় আমরা যারা সরকারে তাদের কিছুটা বিব্রত করে। আমরা কেন এদের দায়ভার নিবো। তবে যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল সে সরকারের ছাত্র সংগঠন এ ধরনের সমস্যা তৈরি করে আসছে”।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ বোঝা হওয়ার বিষয় এখনো বলবোনা কারণ প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ঘটনা প্রশ্রয় দিচ্ছেননা। আইনি প্রক্রিয়ায় যা যা করার দরকার আমরা তাই করবো”।

আব্দুল্লাহ আল নোমান, “ছাত্রলীগ সরকারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজশাহীর ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তবে আমি আসলে হত্যা ও গুম নিয়ে একটু সন্ত্রস্ত। না হলে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলতাম। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আত্মরক্ষার কথা। এতে যারা সন্ত্রাস করেছে তারা উৎসাহিত হয়েছে”।

আরিফুর রহমান বলেন, “কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করিনা। তবে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। ইতোমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আশা করি আরও হবে। না হলে আমরা নাগরিকরা চুপ থাকবোনা”।

সাদাফ নূর এ ইসলাম বলেন, “ছাত্রলীগকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কিভাবে সামলাবে তার উপরই নির্ভর করে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে কি-না। ছাত্রলীগের হামলা যদি সরকার নিরপেক্ষ ভাবে মোকাবেলা করতে না পারে তাহলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “যদি বিরোধী দলীয় নেতাদের যৌথ বাহিনী দিয়ে গ্রেফতার করলে এ ধরনের সন্ত্রাসীদের যৌথ বাহিনী দিয়ে গ্রেফতার করা হয়না কেন”?

আরেকজন দর্শক বলেন, “মনে হচ্ছে সরকার আন্তরিক। তবে আরও বেশি আন্তরিক হলে আরও ভালো হতো দেশের জন্য ও দলের জন্য”।

স্থিতিশীলতা স্থায়ী হবে ?

রুবাইয়া আক্তার জানতে চান সরকার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ না নিলে আপাত বিরাজমান স্থিতিশীল পরিস্থিতি কি স্থায়ী হবে?

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “দশম সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই নূতন নির্বাচনের জন্য সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অস্থিতিশীলতা বাড়বে"।

তিনি বলেন আলোচনা না হলে দূরত্ব আরও বাড়বে।

আরিফুর রহমান বলেন, “স্থিতিশীলতা একটু নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। আমরা চাই এটা দীর্ঘস্থায়ী হোক। তবে আলোচনা চলমান রাখতে হবে উভয় পক্ষকে"।

তিনি বলেন, "কে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করলো সেটি বিষয় নয়, বিএনপি বড় দল তাই তার সাথে আলোচনা চলমান রাখতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বড় দল। সংলাপ না হলে স্থিতিশীলতা হুমকির সম্মুখীন হবে”।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “সরকার সংলাপের বিষয়ে আগ্রহী। তবে বিএনপিকে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহ পুরনো ইস্যুগুলো বাদ দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিতে হবে”।

সাদাফ নূর এ ইসলাম বলেন, “ সংলাপের জন্য সাবেক বিরোধী দলকে নতুন কৌশল নিরূপণ করা উচিত। সরকারকেও নতুন ভাবে দেখতে হবে”।

বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার যৌক্তিকতা

ফারহানা আখতার জানতে চান দীর্ঘদিন আগে ঘোষণা দিয়েও সরকার চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে অধিষ্ঠিত করেনি। সুতরাং এ ধরণের ঘোষণা দেয়ার যৌক্তিকতা কোথায় ?

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “খালেদা জিয়াই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। এরপর কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছিলো। পরে ১৬ দফা কর্মসূচি নেয়া হয়েছিলো। আশা করি বর্তমান সরকারও সেটি এগিয়ে নেবে”।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম প্রকৃতপক্ষেই বাণিজ্যিক রাজধানী। কারণ ৮৫ ভাগ ব্যবসা বাণিজ্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই। এখানে স্টক এক্সচেঞ্জ আছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে যা যা করার দরকার সেটি আছে। ঘোষণা দিয়ে করার আর কিছু নেই”।

একজন দর্শক বলেন, “মোট রপ্তানি আয়ের ৭৬ ভাগ চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করলেও জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ ও গ্যাস চট্টগ্রাম পাচ্ছেনা কেন” ?

আরিফুর রহমান বলেন, “সব সরকারের আমলেই চট্টগ্রামে কিছু কাজ করা হয়েছে। বন্দর আধুনিকায়ন হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত করা দরকার”।

সাদাফ নূর এ ইসলাম বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রামের যা যা ছিল সেটি বরং কমছে। বহুজাতিক অনেক কোম্পানির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে ছিল। সেগুলো এখন ঢাকায় চলে যাচ্ছে"।

তিনি বলেন, "চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। বাণিজ্যিক রাজধানী দুরের কথা, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে যেভাবে চট্টগ্রাম হওয়ার কথা সেটিই হয়নি”।

আলু চাষ হুমকির মুখে ?

আসমা রহমান জানতে চান আলু চাষিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য যদি খুব দ্রুত নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে কি আলু চাষ আগামীতে হুমকির মুখে পড়তে পারে ?

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আপডেট হয়নি প্রয়োজন অনুযায়ী। কোল্ড স্টোরেজ বাড়াতে হবে"।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মিস্টার নোমান দাবি করেন যে বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ বেড়েছে কিন্তু দাম অনুযায়ী কৃষকরা সুবিধা পাচ্ছেনা।

আরিফুর রহমান বলেন, “চাষের খরচ কমাতে হবে। ফলে কৃষকের লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে বেশি"।

মিস্টার রহমান বলেন, "এ সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। হিমাগার সহ আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমাতে হবে”।

সাদাফ নূর এ ইসলাম বলেন, “ সরকারকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আলু নির্ভর খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে"।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “হুমকির মুখে পড়বেনা। বিগত ছয় মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্যই এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে এটি সাময়িক। আরও হিমাগারের প্রয়োজন আছে। সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

ছাত্রসংগঠনটির অভিভাবক হিসেবে এদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের দায়ভার আওয়ামী লীগ না নিলে তবে কে নিবে এটা ভূমিপ্রতিমন্ত্রী বলে যাননি। যেহেতু পদক্ষেপ নেওয়ার(১৯৯০-২০১৪)এই দীর্ঘ সময়েও চট্টগ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী করার প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হয়নি সেহেতু সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দল এর প্রতিনিধি হিসেবে উভয়কেই বলে যাওয়া উচিত ছিল এটি বাস্তবায়িত হতে আর কতদিন লাগবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্যমূল্য না পেলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরবে।এটি রোধে উভয়দলের করণীয় কি তারা বলেননি।

রুমানা শারমিন লিপি, চট্টগ্রাম।

সন্ত্রাসী ছাত্রনেতাদের সমর্থন করা, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন এবং স্বৈরশাসক এরশাদকে অংশীদার করা ফ্যাসিজিমকেই প্রমান করে।

পথিক, মদিনা।