এ মূহুর্তে সংলাপের প্রয়োজন নেই: আওয়ামী লীগ

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাষ এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সারোয়ার।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাষ এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সারোয়ার।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তাই নতুন নির্বাচন নিয়ে এ মুহূর্তে সংলাপের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।

অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য সমঝোতা না হলে আন্দোলন ছাড়া বিএনপির আর কোন উপায় থাকবেনা।

সংলাপের এ পর্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ, বরিশালের স্থানীয় সমস্যা সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরিশালে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবুর রহমান সারোয়ার, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল এবং বরিশাল ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাষ এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: মানজুরুল ইসলাম তুহিন।

তিনি জানতে চান সরকারের কি উচিত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বড় দুই দলের মধ্যে দ্রুত সংলাপের ব্যবস্থা নেয়া ?

জবাবে পংকজ দেবনাথ বলেন, “নির্বাচন হয়ে গেছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। জনগণ যদি এ সরকারকে গ্রহণ করে তাহলে তো এ সরকার টিকে গেল। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর নির্বাচন হবে”।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় আসলে তখন আলোচনা হতে পারে। এখন এ মূহুর্তে সংলাপের কোন প্রয়োজন নেই”।

মজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, “নির্বাচনের আগেই সরকার বলেছিল দশম নির্বাচন হচ্ছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য এবং নির্বাচনের পরই একাদশ নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হবে। এখন তারা যদি সেটি না করে তাহলে আন্দোলন ছাড়া বিএনপির আর কোন উপায় থাকবেনা”।

তিনি বলেন, “যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। যেখান ১৫০র বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ৪১টি কেন্দ্রে কোন ভোটই পড়েনি সেখানে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে একটি সরকার বৈধ হতে পারে”?

মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, “দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা না থাকা একটি অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। সংলাপ প্রতিদিনই হওয়া উচিত। নতুন নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হতেই হবে। তবে সেই নির্বাচন কি ২০১৪ সালে হবে নাকি ২০১৯ সালে হবে সেটি ভিন্ন কথা”।

রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, “এর আগে এরশাদের আমলে এবং পরে বিএনপি আমলেও ভোটার বিহীন নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে সংবিধানও সংশোধন হয়েছে। সেগুলোতে মেনে নিয়েছি আমরা। এবারের নির্বাচনও তেমন একটি নির্বাচন হয়েছে”।

তিনি বলেন , “সংলাপের জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার যে শর্ত দেয়া হয়েছে জানিনা আসলে বিএনপি জামায়াত ছেড়ে কত দ্রুত আসতে পারবে।

একজন দর্শক বলেন, “বিএনপি তো সরকারকে বৈধ বলছেনা। তাহলে অবৈধ সরকারের সাথে আলোচনা কি বৈধ হবে”? আরেকজন দর্শক বলেন, “সরকারই তো বলেছিল যে নির্বাচনের পর দ্রুত সংলাপ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এখন তাহলে আওয়ামী লীগ উল্টা কথা বলছে কেন” ?

অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ হচ্ছে ?

মো: রিয়াজুল ইসলাম জানতে চান বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে দায়ী করেছে আন্তর্জাতিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। আপনারা কি এ অভিযোগের সঙ্গে একমত ?

মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত নই। আবার রিপোর্টটিকে একপেশেও বলবোনা। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কৌশলী হওয়া উচিত। তাদের প্রশিক্ষণ আরও ভালো হওয়া উচিত এবং দলীয় আনুগত্য ত্যাগ করা উচিত”।

রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, “বাহিনীগুলো আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে। তাই শুধু বাহিনীগুলোকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই”।

একজন দর্শক বলেন, “আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। কিছু ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর মতো আচরণ করছে”।

মজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, “কেউ অন্যায় করলেই ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হবে, গুলি করা হবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। দোষ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে। এটি আসলে রাজনৈতিক ভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে”।

পংকজ দেবনাথ বলেন, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট। এটা বরাবরই করেন তারা। জামায়াত যখন পুলিশ মারে সেটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়?আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় যা যা করা দরকার সেটি করাই সরকারের দায়িত্ব”।

ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেগ

মোসা: মাহ-ই-জাবীন জানতে চান টেস্ট ক্রিকেটের সংস্কারের লক্ষ্যে তিনটি দেশ যে প্রস্তাব করেছে, তাতে কি বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে ?

মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, “বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে তাচ্ছিল্য করার জন্যই নতুন প্রস্তাবটি এসেছে। বাংলাদেশের জোড় প্রতিবাদী হওয়া উচিত। যারা প্রস্তাবটি এনেছেন তাদের বাদ দিয়ে বাকীদের ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত”।

পংকজ দেবনাথ বলেন, “আমরা সব দলকেই হারিয়েছি এবং ক্রিকেট বোর্ড চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে টেস্ট খেলার সুযোগ থেকে বাদ দিলে এটি অন্যায় হবে এবং জনগণ মানবেনা। যে কোন উপায়েই হোক টেস্ট মর্যাদা রাখতে হবে।”

একজন দর্শক বলেন, “এটা অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটা বাতিল না হলে ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ হুমকিতে পড়বে”।

রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, “যেসব দেশ খুব ভালো খেলছে তারা খেলাটিকে ব্যবসায়িক ভাবে নিয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড কি পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটি দেখতে হবে”।

মজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, “ভারতের কাছে নতজানু হয়ে ক্রিকেটে কিছু পাওয়া যাবেনা। তবে ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশ চেষ্টা করবে।

বরিশালের সমস্যা বেকারত্ব

ইশরাত জাহান জানতে চান বরিশালের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব। এই সমস্যা দূর করতে এই অঞ্চলে কি ধরনের শিল্পায়ন করা উচিত ?

রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, “বরিশাল যেহেতু নদীমাতৃক তাই এখানে কলকারখানা গড়ে তোলা উচিত। ভোলার গ্যাস এনে শিল্পায়নের উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে”।

মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, “বরিশালে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার বড় সমস্যা জ্বালানি। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বেসরকারি উদ্যোগ নেয়াও কঠিন। স্বপ্নের পদ্মা সেতু হলে এ সমস্যার সমাধান হতো”।

পংকজ দেবনাথ বলেন, “যোগাযোগ ও জ্বালানীর কারণে শিল্পায়ন হচ্ছেনা। বরিশালের সাথে চট্টগ্রামের নৌ যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে”।

মজিবুর রহমান সারোয়ার বলেন, “গ্যাস যোগাযোগ ও জ্বালানীই বড় সমস্যা। ডকইয়ার্ড ও শিপব্রেকিং হতে পারে। কৃষিভিত্তিক শিল্প হতে পারে”।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

বিবিসি পক্ষপাত দোষে দুষ্ট, যেমন এই পর্বেই প্যানেল সদস্য চারজনের মধ্যে তিনজনই বাম ঘরানার। এর পিছনে বিবিসির কোন উদ্দেশ্য আছে, যাহা আমারা জানি না।

নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা, কাতার।