সংখ্যালঘু নির্যাতন: আওয়ামী লীগের কেউ কেউ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন নূর

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বাংলাদেশ সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে প্রধানত দায়ী করলেও আওয়ামী লীগের কেউ কেউ জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে বিরোধী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক একটি দলের একজন নেতা বলেছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় সব দলের লোকজনই জড়িত থাকে।

তাই বিচার না হলে এসব ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

সংলাপের এ পর্বে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে – কি-না এবং নির্বাচন পরবর্তী ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ক -- এমন বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন অলোকা নন্দী। তিনি জানতে চান বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির খুবই বিরল কেন ?

জবাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঘটনাগুলোর বিচার বিলম্বিত হয়েছে। তবে এবারের হামলার ঘটনার তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো যে অনেক ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

জবাবে মিস্টার নূর বলেন, “আমি এটি স্বীকার করি। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ একটি গণ সংগঠন। অনেক সময় অনেকে নানা ভাবে ঢুকে পড়ে। তবে যে ভাবেই হোক সেটি তদন্ত কমিটি, কমিশন বা বিচার বিভাগীয়, যেভাবেই হোক তদন্ত করে এসব ঘটনার বিচার করতে হবে”।

প্যানেল আলোচক বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, "বিচার না করে শুধু দৃষ্টিভঙ্গি সরানোর জন্যই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি ব্যবহার করায় এসব ঘটনা বারবার ঘটছে"।

তিনি বলেন, "বিচার করা হলে এসব ঘটনা আর ঘটবেনা"।

মিস্টার পার্থ বলেন, “২০০১ এর নির্বাচনের পর ভোলায় এধরনের ঘটনা হয়েছিলো। এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। যশোরে কি হয়েছে সবাই জানে। খারাপ মানুষ সব দলে আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী এগুলো করতে বলবেন। তাই এসব ঘটনার বিচার করতে হবে”।

খুশী কবির বলেন, “এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে তো দেখছিনা। তদন্ত করার পর রিপোর্ট প্রকাশ বা ব্যবস্থা নেয়া হয়না। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগও বেশি সিরিয়াস না। রামুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের ব্যক্তিরাও জড়িত ছিলেন”।

একজন দর্শক বলেন, "তদন্ত রিপোর্টু গুলো প্রকাশিত হলে জানা যেত কারা এগুলো ঘটাচ্ছে"।

আশফাকুর রহমান বলেন, “ফায়দা লুটার জন্যই এসব ঘটনা ঘটে। এগুলো অপরাধ এবং সরকারকে সেভাবেই দেখতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে হবে এ বিষয়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দায়িত্বও শিখাতে হবে”।

ভারতের চাপ থাকবে ?

সাদিয়া আফরিন ঈশিতা জানতে চান ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূলত ভারত সমর্থন দিয়েছিল। তাই ভবিষ্যতে ভারত কি বাংলাদেশকে সবক্ষেত্রে চাপে রাখার সুযোগ পাবে ?

আশফাকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কি হয় না হয় সেটা এখন সবাই খেয়াল করছে। আওয়ামী লীগ সুযোগ না দিলে চাপ দেয়ার সুযোগ পাবেনা। কোন দেশের উপর আরেক দেশের চাপ সবক্ষেত্রে সম্ভব হয়না”।

আন্দালিব রহমান বলেন, “কোন নির্দিষ্ট দলের সাথে নয়, কিন্তু ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র যেই হোক জনগণের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। না হলে সেটি ভালো হবেনা"।

তিনি বলেন, "ভারত আওয়ামী লীগের প্রেমে পড়লে সেটা ভারতের দেউলিয়াত্ব। আমাদের স্বার্থ রক্ষা করেই সবার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে আমাদের”।

একজন দর্শক বলেন, “ভারতের চাপ বা বিরোধিতা এখানে কোন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করিনা”।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “ভারত চাপ সৃষ্টি করে দখল করে ফেলবে এসব কথা এখন চলেনা। পৃথিবী এখন চলে পারস্পারিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। বিএনপি জামায়াতের সময় কি ভারতে সম্পর্ক খারাপ ছিল”?

খুশী কবির বলেন, “ভারতের নিজের দেশে অনেক সমস্যা। বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মতো বোকা তারা হবেনা বলেই মনে করি। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে রক্তের বিনিময়ে। এদেশ তো অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেটা আমরা হতে দিবোনা”।

বিএনপি ভুল করেছে ?

কামরুল মজিদ জানতে চান বিএনপি কি ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বড় রকমের রাজনৈতিক ভুল করেছে ?

আন্দালিব রহমান বলেন, “কোন দলের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতোনা। নির্বাচনে কেমন কারচুপি হয়েছে সেটা সবাই দেখেছি। ক্ষমতায় যাওয়া নয়, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য ছিল আন্দোলনের। তাই নির্বাচনে না যাওয়া ভুল ছিলনা। এ নির্বাচন জনগণই প্রত্যাখ্যান করেছে”।

তিনি বলেন, “সরকার যদি দেশকে তালেবান বানায় তাহলে আমরাও আফগান হবো। তাই আমাদের উচিত দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা। আর এটি শুধু ১৮ দলের দোষ বলা যায়না”।

খুশী কবির বলেন, “সরকারের উচিত ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে নেয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া। বিএনপি অবশ্যই ভুল করেছে। গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন দরকার যেমন তেমনি বিরোধী দলের অংশগ্রহণও দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি”।

একজন দর্শক বলেন, “বিএনপি ভুল করেনি কারণ এটি ছিল সাজানো নির্বাচন”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “সাংবিধানিক ভাবে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বৈধ নির্বাচন। কোন চাপেই এটা অবৈধ বলা যাবেনা”।

আশফাকুর রহমান বলেন, “বিএনপির রাজনৈতিক আচরণ ভালো ছিলনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির পরিবর্তে জাতিসংঘ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিএনপির উচিত ছিল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো। সেটি হলেই বিএনপির জন্য ভালো হতো”।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। তাদের উচিত ছিল নির্বাচনে অংশ নেয়া। কারণ এর আগে যেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সেখানে তো জয়ী হয়েছে"।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

তিনি বলেন, "নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা যে পথ বেছে নিয়েছে সেটি কি গণতন্ত্রের পথ”?

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

যে যাই বলুক তালগাছ আমার । আমি শুধু বলছি এটি গণতন্ত্র নয়।

মাসুদ রানা, মানিকগঞ্জ।

এত দলাদলি না করে সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকা থাকে বাদ দিলে সব ঝামেলা শেষ।

মিন্টু , মানামা, বাহরাইন ।

নূর ভাই বিএনপি যদি জামায়াত ছেড়ে দিতো তাহলে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিতেন ?

মো:শাকিল আলিম, সাভার।

The only Solution of minority community in Bangladesh apply the '' Separate Election System"

Gobinda chandra pramanik, Dhaka

আওয়ামী লীগ সরকার আসলেই সব ধরনের সমস্যা মাথাচারা দিয়ে উঠে কেন ?

পারভেজ, কুমিল্লা।

বার বার বলা হচ্ছে BNP নির্বাচন এ না গিয়ে ভুল করেছে। আবার বলছেন BNP নেতারা রাস্তাই আসেনি। রাস্তায় আসবে কিভাবে যে বের হচ্ছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ কিন্তু BNP কে এমনি ভয় পায়, না হলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন ?

শাহ আমানত , ওমান।

বর্তমান আওয়ামী সরকার জামায়াতকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তারা জামায়াতকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। আসলে আওয়ামীলীগ চায় দেশটাকে তালেবানী রাষ্ট্র বানিয়ে নিজেরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হবে। মানুষ এখন বোকা নয়। আর একটা কথা বলতে চাই জামায়াতের মধ্যে যারা যুদ্ধ‍াপরাধী তাদের বিচার না করে এটাকে ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরা ফায়দা লুটছে। আমি চাই শান্তি, আমি চাই সুস্থ গণতন্ত্র।

মোঃ মোস্তফা কামাল রিয়াজ , ঢাকা।

আসাদুজ্জামান নূর যিনি আমার একজন প্রিয় অভিনেতা। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারনে তিনি যে এতবড় মিথ্যা কথা বলবেন তা আমি কখনও ভাবিনি। তিনি বলেছেন ১৯৬২ সাল থেকে রাজনীতি করছেন কখনও নাকি বর্তমানের মত এত সহিংসতা দেখেন নি।। তার নিকট আমার প্রশ্ন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি কি পৃথিবী থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন?? কারন ২০০৬ সালে তাদের মানুষ মেরে তার উপর নৃত্য করার মত ঘটনা ঘটেছে। সারা বিশ্ব লাইভ দেখেছে। এছাড়াও ২০০৪ সালে গানপাউডার দিয়ে ১১ জনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

এমকে মোশতাক, ঢাকা।

All party in try to take hindus property.

Babu, new york

সংখ্যালঘু নির্যাতনে কেউ কেউ নয়, পুরোটাই আওয়ামীলীগ জড়িত,উপরের দিকে থু থু মারলে নিজের গায়েই পড়ে। স্বাধীনতার পর থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে তারাই হিন্দুদের বেশী ধন-সম্পদ,জায়গা-জমি, মান-ইজ্জৎ লুটে-পুটে খেয়েছে,কারণ আওয়ামী লীগেরই বাহুশক্তি বেশী,তাই এই পর্যন্ত সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি ঘটনারও সঠিক বিচার হয়নি,তার পরও জানি না কেন সত্য কথাটা বলতে হিন্দুরা সাহস পাচ্ছে না।

নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা, কাতার।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করতেই হবে

Siam, detroit

৯৪৭ সনে দেশ বিভাগ হয়েছিলো সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে । কিন্তু তৎপরবর্তী সময়ে পৃথকিকৃত ভারত নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় । এ বিষয়ে স্বাধীনতা পরর্বতী বাংলাদেশের অবস্থান কি ?

অরুন দত্ত , ঢাকা