একাদশ নির্বাচন নিয়ে কথা বলা তামাশা:বিএনপি

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেছেন ৫ই জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার আর কোন সুযোগ নেই।
অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সনের একজন উপদেষ্টা বলেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলা একটি নির্ভেজাল তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে বাংলাদেশের উপর বিদেশী চাপ, রাজনীতিকে ব্যবহার করে সম্পদ বাড়ানো এবং কাদের মোল্লার ফাঁসিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন সহ গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব হুমায়ুন কবির এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন খালেদা আক্তার। তিনি জানতে চান দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে এখনই রাজনৈতিক সমঝোতা করে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায় ?
জবাবে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, “দশম সংসদ নিয়ে আলোচনা করে এখন আর নতুন করে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই”।
তিনি বলেন, “২৪ জানুয়ারির পর বর্তমান সংসদের বৈধতা থাকবেনা। দেশ ও জনগণের জন্য সংসদ ও সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২৪ জানুয়ারির আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে”।
ড. ওসমান ফারুক বলেন, “যেখানে দশম সংসদ নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা একেবারেই নির্ভেজাল তামাশা”।
তিনি আরও বলেন, “যে নির্বাচন জনগণ মানতে রাজি নয়, দুনিয়াতে এমন কোন দেশে নেই যারা এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি এবং যে নির্বাচনে ৪/৫ কোটি ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে সে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কোন গুরুত্ব নেই”।
একজন দর্শক বলেন, “এরশাদের সময় শুনেছি ভোটার বিহীন নির্বাচন আর এবার শুনছি প্রার্থী বিহীন নির্বাচন”।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তানিয়া আমীর বলেন, “আমার মনে হয় এটা একটা টেকনিকাল নির্বাচন যাতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি না হয়। সাংবিধানিক শুন্যতা থাকতে পারেনা”।
হুমায়ুন কবির বলেন, “একটি বড় দল নির্বাচনে নেই। এ অবস্থায় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে একটা প্রশ্ন আসতে পারে। শাসন তান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার বাইরে দু দল মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃজনশীলতার সুযোগ রয়েছে। সদিচ্ছা থাকলে এখনো আলোচনার সুযোগ আছে। উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে”।
বিদেশীর পরামর্শ কি চাপ ?
ফিরোজা রনি জানতে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে যেসব পরামর্শ দিচ্ছে, তাকে কি একটি স্বাধীন দেশের ওপর বিদেশী চাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে ?
হুমায়ুন কবির বলেন, “বিদেশীরা যা বলছে সেটা দেশের মানুষও বলছে। তাদের পরামর্শ যদি দেশের স্বার্থে হয় তাহলে সেটাকে চাপ হিসেবে দেখবো কেন। তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা না করা আমাদের বিষয়”।
তিনি বলেন, “বিদেশীরা আগেও সহায়তা করেছে এবং এখনো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে যাচ্ছে”।
তানিয়া আমীর বলেন, “বিদেশীরা যা করছে সেটা চাপের চেয়ে অনেক বেশি। এটা কেবল ক্ষমতার খেলা নয়। ভূ রাজনৈতিক বিষয়গুলো আমাদেরকে বুঝতে হবে। চাপ তো নিজেরাই অনুভব করছি, এটা বাইরের লোকদের বলতে হবে কেন?”
তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কুটনীতিকদের বাংলাদেশের বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে না যাওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন।
একজন দর্শক বলেন, “দলগুলো দেশের মানুষের নয়, বিদেশীদের পরামর্শ মানছে”।
এইচ টি ইমাম বলেন, “সরকার সব চাপ উপেক্ষা করবেনা কিন্তু সার্বভৌমত্বের বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের স্মৃতিসৌধে না যাওয়া কোন ক্রমেই গ্রহণ করা যায়না, তেমনি ভাবে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়”।
ওসমান ফারুক বলেন, “বিদেশীরা পরামর্শ দিতেই পারে। তবে পরামর্শটি কেমন সেটি বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। মানুষ চায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন”।
রাজনীতি কি সম্পদ বৃদ্ধির উপায় ?
মাহবুবুর রহমান জানতে চান বাংলাদেশের রাজনীতি কি ব্যক্তিগত সম্পদ সৃষ্টির একটি সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ?
ওসমান ফারুক বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আরও জোরদার পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। যাদের সম্পদ অনেক বেড়ে গেছে সেগুলো নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত করা উচিত। এ বিষয়টি দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করা প্রয়োজন”।
তানিয়া আমীর বলেন, “এ বিষয়ে আসলে সবাই একমত হবে দুর্নীতি দমনের বিষয়ে। এটা শুধু বললেই হবেনা, বাস্তবায়ন করতে হবেনা”।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এ ধরনের সম্পদ বৃদ্ধি বা রাজনীতিকে ব্যবহার করে সম্পদ বৃদ্ধি সমর্থন করিনা। যাদের সম্পর্কে কথা উঠেছে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তাদের কাছ থেকে জানতে হবে কি করে সম্পদের মালিক হল। তবে পাঁচ বছর আগে সম্পদের মূল্য যা ছিল এখন অনেক বেড়েছে”।
হুমায়ুন কবির বলেন, “এটা কোন বিশেষ দলের নয় সবার জন্যই প্রযোজ্য হচ্ছে যেটা বাঞ্ছনীয় নয়। দুদকের সাংবিধানিক দায়িত্ব এগুলো নিয়ে কাজ করা। গণতন্ত্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ আসলে দুর্নীতি”।
পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক
শাহাদত হোসাইন জানতে চান কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার যে দাবি উঠেছে তা কি যৌক্তিক ?
ওসমান ফারুক বলেন, “সরকার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আর ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। তীব্র প্রতিবাদ অনেক দেরিতে করেছে সরকার। তারা আসুক বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলুক যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারে”।
এইচ টি ইমাম বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ঠিক হবে কি-না সেটা সবার সাথে আলোচনা করেই ঠিক করতে হবে। এটি এতো সহজ কোন বিষয় নয়”।
একজন দর্শক বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করাই যৌক্তিক”।
তানিয়া আমীর বলেন, “এ বিষয়ে দু দলের মধ্যে পার্থক্য থাকা উচিত নয়। পাকিস্তানের উপর আমরা আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারি কি-না সেটা দেখতে হবে”।

হুমায়ুন কবির বলেন, “কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ আছে। কোন ধাপে গেলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হবে সেটাই করা উচিত। বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে বাংলাদেশ পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
আওয়ামী লীগ কি দেশটাকে খেলার মাঠ পেলো নাকি।
মো: হাবিবুল্লাহ, ইতালী।
সবাইকে সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
খালিদ রাতুল, ঢাকা।
বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার জন্য ফোন করার পরও কেন খালেদা জিয়া গেলেননা ?
Kerington Barua, chittagong
আমি সবসময় বিবিসি বাংলা সংলাপ দেখি। সব কিছুই ঠিক আছে। কিন্তু একটা বিষয় হলো সঞ্চালক কোন একটা প্রশ্নের পর উত্তর দেয়ার জন্য সামান্য সময় দেন। কোন একটি বিষয় তো মূল থেকে আলোচনা না করলে তো পরিষ্কার হবেনা। আর একটু বেশি সময় নিয়ে অনুষ্ঠানটি করা যায় কি?
নাহিদ, ঢাকা।
Dear Mr. Imam, if BNP wins next national election and they wont be able to hold a fair election, then will awamiligue accect that election under BNP?
MOHAMMAD ABUL KASHEM, DHAKA
It is very very tough pressure.But Prime Minister does not bother it.Because She does not accept advice from foreign country.
Md.Shahidul Islam, Chittagong
তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ হলে তাহলে এতো মানুষ মেরে একটা অবৈধ সরকার ৯৬ এ আনা হলো কেন ? এ কারনে সরকারকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং এর সরকার সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় সম্প্রীতিমুলক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে অথচ,সাংবিধানিক ভাবে দেশটিকে'ধর্মনিরপেক্ষ' হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছেনা । এটি কি দ্বিচারন তথা বঞ্চনা নয় ?








