সংলাপে সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের একজন নেতা চলমান সংকট নিরসনে রাজনৈতিক নেতারা ব্যর্থ হলে সেনা হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন সেনাবাহিনী শুধুমাত্র নির্বাচন পরিচালনা বা আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করবেন। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন সাংবিধানিক বা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা কোন অজুহাতেই কেড়ে নেয়া যাবেনা।
অনুষ্ঠানে সহিংসতার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের বিচার, বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতা এবং জাতীয় পার্টির ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মীর্জা আব্দুল লতিফ। তিনি প্যানেল আলোচকদের কাছে জানতে চান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে বিদেশী গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। আপনারা কি একমত ?
জবাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন গণতন্ত্র বিঘ্নত হলে বা দেশের রাজনৈতিক নেতারা ব্যর্থ হলে সমঝোতায় আসতে সেক্ষেত্রে একজন আম্পায়ার দরকার হতে পারে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমঝোতা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আনতে চাইনা। তারা এমন কিছু করবেননা যাতে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়। তারা আসবেন গণতন্ত্র কায়েম করার জন্য যদি প্রয়োজন হয়। আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা যাই হোক না কেন একজন আম্পায়ার দরকার হতে পারে যে এসে রাজনৈতিক নেতাদের সোজা পথে নিয়ে যাবেন”।
তবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন আম্পায়ার দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারেনা। চলমান সমস্যা রাজনীতিকদেরই সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী সংবিধানের মধ্যে থেকেও সাহায্য করার সুযোগ আছে। সব নির্বাচনেই তারা সহযোগিতা করছে। কিন্তু সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বা জনগণের অধিকার কোন অজুহাতেই কেড়ে নেয়া যাবেনা”।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সেনা হস্তক্ষেপের পক্ষে একটি জনমত গড়ে উঠছে এবং একটি বিপজ্জনক মন্তব্য করে তিনি বলেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কোন ভূমিকা রাখা সমর্থনযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, “একটি জনমত গড়ে উঠছে যেহেতু প্রধান দলগুলো সমস্যার ইতিবাচক সমাধান দিচ্ছেনা। সেক্ষেত্রে অনেকে বলছেন সেনাবাহিনী এসে স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করলে আমাদের জন্য ভালো”।
অপর প্যানেল আলোচক বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেন দেশের সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু জনগণ ও রাজনীতিকদের মধ্যে সেনাবাহিনীর অবস্থান নেয়া ঠিক হবেনা।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি একেবারেই বেসামাল হলে আমরা দেখি সেনাবাহিনী আসে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে রাজনীতিকদের পরিপক্বতা আসা উচিত। সেটি আসলে সেনাবাহিনী আসবেনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারা কি জনগণের কথা ভাববেন কি-না”।
একজন দর্শক বলেন, “সামরিক হস্তক্ষেপ হলে অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ পিছিয়ে যায়”। আরেকজন দর্শক বলেন, “সেনাবাহিনী আসা মানে গরম তেল থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়া”।
রাজনীতিকদের বিচার হবে ?
মেহরাব হোসেন জানতে চান বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কোন রাজনীতিকে কি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি দাড় করানো যায় ?
ফরহাদ মজহার বলেন, “অবশ্যই সেটি করা যায়। এখন বিশ্বে মানবাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হবে তারা দায়ী হবেন। এ অভিযোগ নাগরিক, মানবাধিকার সংস্থা বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও তোলা যায়”।
আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “এমন কোন অবস্থা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে মাত্র। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নিজেদের মধ্যে বিরোধ আছে। কিন্তু সংবিধান বা সংসদের মাধ্যমে পথ খুঁজে হবে। কেউ অন্যায় করলে এখানে আদালত আছে”।
একজন দর্শক বলেন এটা দেশের ভিতরের সমস্যা। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিকদের বিচারের মতো কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি এখনো হয়নি। তবে রাজনীতিকদের মধ্যে সহমর্মিতা থাকা দরকার”।
সেলিমা আহমাদ বলেন, “যে কোন অপরাধেরই বিচার হওয়া দরকার। রাজপথে রাজনীতিকদের কারণেই মানুষ মরছে। যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে তার জন্য দায়ী কে। রাজনীতিকদের কাছে তো কষ্ট লাগেনা। মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিক হওয়া উচিত”।
বিদেশী কূটনীতিক নাকি দু নেত্রী ?
মো: মামুনুর রশিদ জানতে চান বিদেশী কূটনীতিকরা কি রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে পারবে ? দেশের শীর্ষ দু নেত্রী সেটি করতে পারেন কি না ?
সেলিমা আহমাদ বলেন, “রাজনীতিকদের সমাধান আনতে হবে। কিন্তু সমস্যা হল তারা সমাধানের চেষ্টা করেনা। তারা যদি নির্বাচন কিভাবে হবে ঠিক করতে পারতো তাহলে এসব বিষয়ে আসতো না”। তিনি বলেন দু নেত্রীকে সমাধান করতেই হবে কারণ মানুষ একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “ বিদেশী কূটনীতিকরা সমঝোতা নিশ্চিত করতে অবশ্যই পারবেননা। তবে তারা সৎ পরামর্শ দিতে পারবেন বা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন”।
একজন দর্শক বলেন, “ দু নেত্রী পদত্যাগ করে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব দিলে সমস্যার সমাধান হবে”।
ফরহাদ মজহার বলেন, “আত্মসম্মান থাকলে বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতার প্রতিবাদ করা উচিত। নাগরিকরা শান্তি চায় কিন্তু লড়াই ছাড়া কোন অর্জন হয়না। তরুণরা দেশ রক্ষা করতে না চাইলে বিদেশীরাই এগিয়ে আসবে”।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “বিদেশীরা কোন কথা বলতে পারবেনা তা নয়। তারা তো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করা আর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলছেন। বিদেশীদের উপর নির্ভরশীলতার দিন আর নেই। তবে বিশ্ব থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হতে পারবোনা”।
এরশাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
তাফাজ্জল হোসেন জানতে চান সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কি রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে ?
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “এরশাদের বিকল্প এরশাদই। জাতীয় পার্টি তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমরা আশা করি সব বিষয় আলোচনা মাধ্যমে ইতিবাচক পরিসমাপ্তি হবে। রাজনীতিতে দর কষাকষি কখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে হয়”।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “এরশাদ চমক দিয়েছেন এবং সেটায় সরকার বেকায়দায় পড়েছে। এরশাদ সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের কথা বলেছেন। আশা করি তিনি এ অবস্থানে থাকবেন। এরশাদের সিদ্ধান্ত সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করেছে”।
একজন দর্শক বলেন, “এরশাদের সিদ্ধান্ত রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে”।
সেলিমা আহমাদ বলেন, “জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত একটা সমাধানের দিকেও নিয়ে যাচ্ছে। কারণ অংশ্রগহন করলে আরও জটিল হতো। কারণ সবাই দু প্রধান দলের অংশগ্রহণ চায় নির্বাচনে”।
ফরহাদ মজহার বলেন, “এরশাদের সিদ্ধান্তের কারণে আমরা যদি রক্তপাত বা একতরফা নির্বাচন থেকে বাঁচি তাহলে তার প্রশংসাই করতে হয়”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় শুনে এদেশে যে অবস্থা, যদি তার ফাঁসি হয় তাহলে কি আমাদের দেশের ভাবমূর্তি কি হবে আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয় নিয়ে কি ভাবছেন, এবং আমরা সাধারন জনগণ কি নিরাপদ থাকবো ?
উজ্জ্বল, শ্রীমঙ্গল
যদি সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমাদের দেশের গণতন্ত্র ক্ষুন্ন হবে। আমার মনে হয় দু নেত্রীর বসে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিত।
তুহিন, ঢাকা।
আওয়ামী লীগের জন্য সমস্যা হবে সেনা বাহিনী আসলে। কারন তারা দেশে সহিংসতা তৈরি করেছে,দুর্নীতি করেছে অনেক। এটা জাতির জন্য ভয়াবহ।
মো: শেফাকুল ইসলাম ইমরান, ঢাকা।
জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচন চাই।
সৌরভ, চট্রগ্রাম।
আমি চাই দেশের হাল নতুনদের ধরা উচিত । তবেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে।
মো: আমিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ।
My question is for Mr. suronjeet gupta, is the constitution for the people? If so, why so many clauses has been made unchangable.In democracy people decide what is best for them. If in future people think some clause are unnecessary they have ever right change or delete the same.
Ashraf, Dhaka
আমি বলতে চাই যে দু নেত্রী যদি সংলাপ বা মুখোমুখি আলোচনা করে তাহলে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। বর্তমান অবস্থায় সেনাবাহিনী নামানোর দরকার নেই বলে আমি মনে করি। বিবিসি বাংলার কাছে প্রশ্ন আপনাদের সংলাপের মাধ্যমে দু নেত্রীকে আমন্ত্রণ করা যায় কিনা ?
গৌতম গায়েন, ঢাকা।
আমাদের সেনা বাহিনীর দেশে এবং বিদেশে অনেক সূনাম আছে এমনকি জাতিসংঘে ও বাংলাদেশ সেনাদের কদর কম নয়। আমি মনে করি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই পারে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে ।
বাচ্চু চির্শতী, ঢাকা।
All I want to say; Rules regulation or constitution all these for People and to save their RIGHTS. So Govt Should do which will be good for country people.
Imran BHUIYAN, Ukraine, Kiev
fine
Md Saiful Islam Rana, Chittagong
My question is for Mr. suronjeet gupta.He always talking constitution,constitution,constitution.Create constitution for democracy or his governemnt?








