লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে- মেনন

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান ।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কালীন সরকারই সব দলের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারবে।

তবে বিরোধী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন সংসদ ও কেবিনেট বহাল রেখে কোনভাবেই নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হতে পারে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে নির্বাচন নিয়ে বিদেশী চাপ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নিতে পারে কি-না, বিরোধী দলের হুমকি অনুযায়ী দেশ অচল হলে সরকার তার দায়ভার এড়াতে পারে কি-না এবং গার্মেন্ট খাতে বেতন কাঠামো নিয়ে অস্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান ।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কালীন সরকার কি সবার জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারবে?

জবাবে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটি সম্ভব হবেনা। সংসদ বলবত রেখে কেবিনেট বহাল রেখে সবার জন্য সমান সুযোগ হতে পারেনা।বিরোধী দল অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে”।

তিনি বলেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো নয়ই, বিরোধী দল এ ধরনের নির্বাচনে আসবেনা। সরকার নিজেরাও এটা জানে। গোটা দেশ বলছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া উচিত। সরকার যদি জোর করে নির্বাচন করে তার মতো করে সেটা কখনোই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেনা।

নাসিম ফেরদৌস বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করাতো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কমিশনকে আইন করতে হবে যারা সংসদে থাকবে নির্বাচন কালীন সরকারে থাকবে তারা নির্বাচন করতে পারবেনা”।

তিনি বলেন, “ কমিশনের এখনো আইন সংশোধনের সুযোগ আছে। কারণ সংসদ বাতিল হয়ে যায়নি। তারা সদিচ্ছা থাকলে আইন করতে পারে”।

একজন দর্শক বলেন নির্বাচন কালীন সরকারের অধীনে দলীয় কেউ থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারেনা।

রাশেদ খান মেনন বলেন, “এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার। দৈনন্দিন কাজের বাইরে সরকারের কাজ শুধু নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। এর বাইরে সরকারের ভূমিকা থাকেনা”।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ফলও তো অনেকে মেনে নেয়নি। সংসদ বর্জন হয়েছে। নির্বাচনে এতো পর্যবেক্ষক থাকবে, এতো মিডিয়া এতে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই”।

হাসান আরিফ বলেন এ মূহুর্তে যে পরিস্থিতি আছে সে পরিস্থিতিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চরমভাবে অনুপস্থিত এবং এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচনে কোন সম্ভাবনা নেই। আর এদেশে আসলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিই গড়ে উঠেনি।

চাপ থেকে নিষেধাজ্ঞা ?

শেখ কামাল হোসেন জানতে চান একতরফা নির্বাচন না করতে বাইরের বিশ্ব যে আহবান জানাচ্ছে তা সরকার উপেক্ষা করলে আন্তর্জাতিক চাপ কি নিষেধাজ্ঞায় রূপ নিতে পারে ?

নাসিম ফেরদৌস বলেন, “এগুলো এবারই প্রথম ঘটছেনা। মনে হয়না কোন নিষেধাজ্ঞার পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সমাজ যাবে। এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি”।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজ উদ্বিগ্ন। তবে তারা নিষেধাজ্ঞা দিবেনা। বরং যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে”।

হাসান আরিফ বলেন, “বিশ্বে সব নেতৃস্থানীয় দেশ চায় সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক। সেজন্য চাপ আসছে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদ্ধতিতে। বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র কাজ করছে কি-না। গণতন্ত্র না থাকলেই নিষেধাজ্ঞা হবে তাও না”।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও নিষেধাজ্ঞা সম্ভব হবেনা”।

একজন দর্শক বলেন, “চাপ থাকলেও নির্বাচন হবে, না থাকলেও নির্বাচন হবে। কারণ সরকার সংবিধানের মধ্যে থেকেই কাজ করছে”। আরেকজন দর্শক বলেন, “সংবিধানের আওতায় হলেও একতরফা নির্বাচন হলে সমস্যা বাড়তেই থাকবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে অশান্তি বাড়বে। গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে। দেশ সংকটের মুখে। গোটা বিশ্ব উদ্বিগ্ন। সংকট কাটাতে দুই পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে”।

তিনি বলেন, “এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিদেশীদের চাপে নতি স্বীকারের কিছু নেই। বরং আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহায়তায় দেশের সমস্যা দেশেই সমাধান হবে”।

রাশেদ খান মেনন বলেন, “যতই সংকট হোক এটা নিষেধাজ্ঞায় রূপ নিবে বলে মনে হয়না। তবে তাদের মতো আমরাও চাই সব দল নির্বাচনে আসুক। সেখানেই তো যেতে হবে আমাদের। এর বাইরে যাওয়ার অবকাশ নেই। কেউ নির্বাচনে না আসলে তাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে”।

অচলের হুমকি এবং সরকারের দায়

নাজমুল হাসান জানতে চান নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির দেশ অচলের হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে সরকার কি দায় এড়াতে পারবে ?

জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, “বিএনপি তো বারবারই দেশ অচল করেছে। এটা তো নূতন কিছু নয়। কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা চোরা গুপ্ত হামলা হচ্ছে। এর সাথে মানুষের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে সরকার যেহেতু দায়িত্বে আছেন শান্তি শৃঙ্খলার দায়িত্ব তো নিতেই হবে”।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “দেশের সবাই এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ আর সেটা হল অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। বিরোধী দল জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আন্দোলন করছি।”।

তিনি বলেন, “মানুষ জানেনা কিভাবে নির্বাচন হবে। এ অবস্থায় মানুষ চুপ থাকতে পারেনা। অবাধ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। মানুষ বেরিয়ে আসবে। দেশ তো আধা অচল হয়েই গেছে। সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে”।

একজন দর্শক বলেন, “সরকার বা বিরোধী দল কেউই দায় এড়াতে পারবেনা”।

নাসিম ফেরদৌস বলেন, “দুপক্ষেরই দায় আছে সংকট সমাধানের বিষয়ে। সেটি না পারলে দুদলই সমভাবে দায়ী থাকবেন”।

হাসান আরিফ বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকাতেই সংকটের সৃষ্টি। দেশ অচলের হুমকি সরকারের উপর পড়বে। তবে এ হুমকির সাথে আমরা একমত নই”।

রাশেদ খান মেনন বলেন, “সরকার দায়িত্ব এড়াবেনা। তবে দায় বিরোধী দলের উপরও আসবে। তিনি বলেন আন্দোলন জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া হবেনা। আন্দোলন, সন্ত্রাস বা সহিংসতা এক বিষয় নয়”।

গার্মেন্টে স্থিতিশীলতা

মোহাম্মদ ফরহাদউজ্জামান জানতে চান গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারিত হওয়ার পর অস্থিতিশীলতা দেখতে পাচ্ছি, এর কারণ কি ?

নাসিম ফেরদৌস বলেন, “স্থিতিশীলতা আসবে যতক্ষণ না পর্যন্ত জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবেনা। বাজারে দাম হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে। এর সমাধান করতে হবে। আইএলও বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রণীত লেবার ল এতদিন ঠিক মতো মানা হয়নি। এগুলো কঠোর ভাবে মানাতে হবে”।

হাসান আরিফ বলেন, “এখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক বাজার দর অনেক কিছু জড়িত। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলোও রয়েছে। বেতন বেড়েছে কিন্তু সেটা কি শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট কি-না সেটাও দেখতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “বেতন বাড়াতে হবে এবং একই সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সব কারখানা তো অস্থিরতার শিকার হচ্ছেনা”।

দর্শকদের একাংশ
ছবির ক্যাপশান, দর্শকদের একাংশ

মাহবুবুর রহমান বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় খাত গার্মেন্ট। মালিকরা ধনী এবং তারা আরও ধনী হতে চান। শ্রমিকরা শোষিত হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নেই। তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রভাবও এ খাতে পড়ছে”।

রাশেদ খান মেনন বলেন, “অস্থিরতা হয়েছে মালিকদের কারণেই। শ্রমিকরা নিশ্চিত হতে পারছেনা যে বেতন কাঠামো তাদের উপকারে আসবে কি-না। অনেক ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশও নিরাপদ নয়”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

বর্তমান সরকারের অধীনে কি করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা আমাদের আজো বোধগম্য নয়। কারন যেখানে সব ক্ষমতার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। যারা এখন ক্ষমতায় আছেন সব ব্যবহার করে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে সাংবিধানিক বাবে প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন তাহলে নির্বাচনে তিনি আবার ভেটো দিতে পারবেন। সব দিক দেখলে কি করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে দয়া করে আলোচনা করুন।

মুসা হক আলী, ঢাকা।

রাজনৈতিক সংকটের কারনে বাংলাদেশে সামরিক সম্ভাবনা থেকে যায়। সুশীল সমাজ সম্পর্কে ও মধ্য রাতে টিভিতে বুদ্ধি জীবীদের টকশো বড় বড় কথার সমালোচনা হয়ে আসছে। অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় আসলে তার বিচার, মিডিয়া কিছু বললে তাও বন্ধ, মিটিং-মিছিল করলে গুলি,তবে গনতন্ত্র কি? ১। তত্তাবধায়ক অবৈধ ২। ভোটে নিদিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত শপত করা সরকার মেয়াদ শেষে থাকা এই দুইয়ে পার্থক্য কি? । নির্বাচনকালীন স্থায়ী পদ্ধতি হওয়া উচিত তা না হলে বার বার সংলাপ, সরকার সংকট থেকে যাবে।

আবু জাফর, ঢাকা।

এদেশে বর্তমানে জনগণের ভোট প্রয়োগে সরকার নির্বাচনের অধিকারই নাই। মেনন ভাই বিরোধীদলে থাকলে একমত হতেন।

মারুফ, ঢাকা।

বিগত মন্ত্রীসভা পুনর্গঠনের সময় তোফায়েল আহমেদ বলেছেন এক বছরের জন্য ব্যর্থতার দায় নিবেননা। আমার প্রশ্ন তিনি কিভাবে দুমাসের জন্য মন্ত্রী হলেন।

আবু হাসান, জামালপুর।

বাংলাদেশে একমাত্র পাগল ও শিশু বাচ্চা ছাড়া নিরপেক্ষ মানুষ নাই। কাজেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার সম্ভব নয়। সবাই কনো না কোন দল করে। তা হলে কে হবে সেই নিরপেক্ষ সরকার প্রধান ? হরতালের নামে অরাজকতা করলেই কি নিরপেক্ষ মানুষ পাওয়া যাবে ?

ড. উবায়েদ, ঢাকা।

দেশের মানুষের জন্য মায়া থাকলে প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক দিয়ে ইলেকশন করতে ভয় পাচ্ছে কেন ?

আলী, রাঙ্গামাটি।