খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের আশংকা বিএনপির

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতারের আশংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন নির্বাচন থেকে বিএনপিকে বাইরে রাখতেই সরকার দমন পীড়ন শুরু করেছে।
তবে সরকারের একজন মন্ত্রী অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের কারণে নির্বাচন থেকে বিএনপির সরে যাওয়ার কারণ নেই।
তবে তারা উভয়েই বলেছেন সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের সুযোগ নেই। এছাড়া সংলাপে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের রায় এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরীর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেসরকারি সংস্থা উবীনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মির্জা শাখেছেপ শাকিব। তিনি জানতে চান বিরোধী দলের ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থান কি বিএনপিকে নির্বাচন থেকে আরও দুরে ঠেলে দিচ্ছে ?
জবাবে হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্যই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে দুরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিএনপিকে ক্রমান্বয়ে দুরে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সংলাপ চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ চায়না। যেকারনে গ্রেফতার দমন পীড়ন শুরু হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রীকেও ঘিরে রাখা হয়েছে। যে কোন মূহুর্তে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাদের লক্ষ্যই হল বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখা”।
মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন তিন চার জন নেতাকে আটকের কারণে বিএনপির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ নেই। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য কিছুটা দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন থেকে দুরে রাখার কোন কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী আলোচনার কথা বলেছেন। আলোচনার দরজা খোলা আছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তার সাথে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। গ্রেফতার করা হয়েছে আইন শৃঙ্খলা জনিত কারণে। দু দফা হরতালে ২৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে”।
একজন দর্শক বলেন বিএনপিকে দুরেই ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তারা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারছেনা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মীর নাসির হোসেন বলেন ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর গ্রেফতারে তারা আশাহত হয়েছেন এবং এ কারণে সংকট নিরসনে সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি কার্যত ভেস্তে গেছে। তিনি সংকটের জন্য রাজনীতিকদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “গত ২২ বছরের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু দু:খজনক ভাবে রাজনীতিকরা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ঠিক করে দিতে পারেননি। এজন্য নির্বাচনের আগে সহিংসতা হচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার একটি স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে”।
ফরিদা আখতার বলেন সরকারের পদক্ষেপের কারণে শুধু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিই নয়, ভোটাররাও নির্বাচন থেকে দুরে সরে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “গ্রেফতার এবং যে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার সেকারণে ভোটারদেরও দুরে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু বিএনপি নয়, আমাদের ভোটারদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে এভাবে নির্বাচন আমরা চাই কি-না”।
রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ নেয়া উচিত ?
মৌসুমি রহমান এ আলোচনার সূত্র ধরেই আরেকজন দর্শক জানতে চান চলমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতির কি কোন উদ্যোগ নেয়া উচিত।
ফরিদা আখতার যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে একটা উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে। তিনি নিতে পারেন এবং নেয়া উচিত হবে।
নাসির হোসেন বলেন সংকট সমাধান করতে পারেন দু নেত্রী। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব বেশি। তিনি আবার উদ্যোগী হলে সংলাপ হবে। আন্তরিকতা না থাকলে রাষ্ট্রপতি ডাকলেও সমাধান হবেনা। তবে রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই উদ্যোগ নিতে পারেন।
একজন দর্শক বলেন, “এতগুলো উদ্যোগ যেহেতু ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রপতির কথাই ভাবতে পারছি”। আরেকজন বলেন, “রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিতে পারেন কিন্তু মুল বিষয়টা নির্ভর করবে দুই নেত্রীর উপর”।
এ বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত। তবে নীতিগত ভাবে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিলে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ফারুক খান বলেন রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে এমন কোন পরিস্থিতি হয়নি যে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক ভাবেই সংকটের সমাধান করতে হবে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের রায় প্রসঙ্গ
মোস্তাফিয়া বেগম জানতে চান বিডিআর মামলায় ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পেরেছে?
ফরিদা আখতার বলেন, “ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা খুবই দু:খজনক। কিন্তু একি সাথে ১৫২ টি মৃত্যুদণ্ড—এটা গণহারে রায় হয়ে গেছে। বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় মনে হয় একটু তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এ মামলায় যারা ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে দেখা গেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে কিন্তু ষড়যন্ত্রের মূল নায়করা আড়ালে রয়ে গেছে। এ ঘটনার সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল আমাদের ধারনা”।
তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পুনবির্বেচেনা করে মূল নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করবো। কারণ এ ধরনের ঘটনা কঠোর হস্তে দমন করা উচিত। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুদন্ড না হলে এগুলো ঘটতেই থাকবে”।
একজন দর্শক বলেন ন্যায় বিচার হয়নি। খুব তাড়াহুড়ো করা হয়েছে।
ফারুক খান বলেন, “এর আগেও এ ধরনের ক্যু সেনাবাহিনীতে হয়েছে জিয়াউর রহমানের সময়। তখন ১৫ দিনে ১৫শ মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কেউ জানতোনা”।
তিনি বলেন, “এখন গণতান্ত্রিক সরকার আছে বলে চার বছর নয় মাস লেগেছে বিচার করতে। যথাযথভাবেই এ বিচার হয়েছে এবং এ বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “জিয়াউর রহমান যেভাবে বিদ্রোহ দমন করেছেন সেভাবে সব বিদ্রোহ দমন করতে পারলে কোনদিন বিদ্রোহ হবেনা। যে কোন বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করতে হবে”।
মীর নাসির হোসেন বলেন, “এ ধরনের বিদ্রোহের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দরকার। এ ম্যাসেজটা হয়তো গেছে যা কিছুটা শান্তি এনে দিবে। কিন্তু যেভাবে পুরো প্রক্রিয়ায় বিচার হয়েছে সেটা হয়তো অনেক জায়গায় সুবিচার বিঘ্নিত হয়েছে”।
প্রসঙ্গ: গার্মেন্টে ন্যুনতম মজুরি
বকুল আখতার পোশাক খাতের জন্য ৫৩০০ টাকা ন্যুনতম মজুরি প্রস্তাব করা হলে মালিক পক্ষ ও কোন কোন শ্রমিক সংগঠন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ খাতে যৌক্তিক মজুরি আসলে কত হওয়া উচিত ?
ফারুক খান বলেন, “রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগ পোশাক খাত থেকে আসে। ৫৩০০ বা কাছাকাছি একটা অংক সঠিক। মালিক ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেই এটা ঠিক করা উচিত”।
তিনি আরও বলেন, “মালিকদের উচিত ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করে পোশাকের দাম বাড়ানো এবং তার সুবিধা শ্রমিকদের দেয়া”।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মজুরি বোর্ড যেটি নির্ধারণ করেছে সেটি যৌক্তিক। মালিকদের তা মেনে নেয়া উচিত। শ্রমিকরা যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে সেটি দেখা উচিত”।
একজন দর্শক বলেন প্রধান দুদল এ বিষয়েও একটা সমঝোতায় আসা উচিত।

ফরিদা আখতার বলেন, “শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে ৫৩০০ টাকা শুরু হিসেবে ঠিক আছে। বাস্তবায়ন হলে এবং ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে মেনে নেবো”।
মীর নাসির হোসেন বলেন, “ ৫৩০০ টাকা আপাত দৃষ্টিতে ঠিক আছে। সাত হাজার ফ্যাক্টরি। সবার অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। মালিক ও শ্রমিকদের বসে ঠিক করতে হবে”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
বিএমপির কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা হরতাল ঢেকে শুধু নিরিহ মানুষের প্রান ছারা আর কি করতে পেরেছেন? যেখানে আলোচনার দার খোলা সেখানে হরতালের কোন যৌক্তিকতা আছে কি ?
রতন কুমার বর্মণ
we all now know that the main difference between the BNP and the AL is about who will head the interim government or whatever we call it. since all plans and proposals have failed between the two parties may i suggest a devil's alternative, thats the alternative when all others fail. can we have an interim government with two heads of the govt. (hasina and khaleda). both are elected MPs so the constitution remains intact. both will have equal powers and no decision can be taken regarding the elections unless both have agreed.
can that alternative save us from the current situation we are in?
syed sajjad hayat
আমার মনে হয় আলোচনা ঠিক ছিল, তবে দেশের যে অবস্হা তাতে রাজনৈতিক বিষয়কে অরো একটু প্রাধ্যন দেওয়া দরকার ছিল।
মো: আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিএনপির যে সকল নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খালেদা জিয়া সহ যদি গ্রেফতার হয়, তাহলে দেশে আরও সংঘাত সৃষ্টি হবে। তার কারন তৃনমূল নেতাদের বারন করার কেউ থাকবে না, তারা যা খুশী তাই করবে। তাই গ্রেফতার ই সমাধান নয় ।
আনিসুর রহমান, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দেশের অভিভাবক , তাই দায়িত্বশীলতার দায়িত্ব নিয়েই তাকে সংলাপের জন্য এগিয়ে এসে ফলপ্রসূ ও সুসংলাপ অনুষ্ঠিত করতেই হবে। তাহলেই তিনি জনগণের সত্যিকারের অভিভাবক।
nhbanu, Dhaka
শেখ হাসিনা বলছেন তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাননা, শান্তি চান, লাশ চাননা। তাহলে কেন পদত্যাগ করছেনা ? এটা কেমন শান্তি ?
আমিরুল ইসলাম, রিয়াদ, সৌদী আরব।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব চান না শান্তি চান। আমার মনে হয় না তার কথার সাথে কাজের কোন মিল আছে। বর্তমানে দেশে অশান্তি শুরুই হয়েছে তার পদত্যাগ নিয়ে, তিনি যদি শান্তিই চাইতেন তাহলে এতদিনে পদত্যাগ করতেন। আর বিডিআর বিদ্রোহের সুষ্ট তদন্ত না করেই বিচার করা ঠিক হয় নি।
খায়রুল মোস্তাক, ঢাকা ।
বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে বিরোধী দলে যায় তবে তারা নির্বাচন কালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য (যে কোন ধরনের- দলীয় বা নির্দলীয়) আন্দোলন করবেন কিনা?? মন্তব্য- করবে এবং হরতাল (জ্বালাও পোড়াও) হবে বিরোধীদলের গনতান্ত্রিক অধিকর ।
মারুফ, ঢাকা।
হরতালে মানুষ মারা গেল এই জন্য , আওয়ামীলীগ দায়ী, কারন তত্তাবদায়ক সরকার বাতিল করল কেন ??
আসাদ , তাইফ।
we are requesting the election commission to hold a good election.
Dider hossain, dhaka
We want fair election. prime minister want baksal . We dont like go to dictatorship one party baksal. Hindustan want pro- Hindustan govt . We should get back our choice not from Delhi selection we need another movement anti baksal anti India . Hasina govt make sky high corruption in judicial bank share market administration so she not only corrupted looter .she is a notorious dictator .








