নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে : আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, উন্নয়ন কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে : আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, উন্নয়ন কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

একি সঙ্গে তিনি নতুন সংসদ তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন বিপুল সংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধি হীন থাকায় এ নির্বাচনের কোন গ্রহণযোগ্যতাই নেই।

সংলাপের এ পর্বে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দ্বন্ধ সংঘাত আরও বাড়াবে কি-না, বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িতদের সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক দলের সংলাপের সাফল্যের সম্ভাবনা বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

শনিবার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এবং উন্নয়ন কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

তিনি জানতে চান এক তৃতীয়াংশের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কারণে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন কি এরই মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে ?

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কোন কারণ নেই। কারণ এ মুহূর্তে নির্বাচন ছাড়া সরকারের হাতে সাংবিধানিক আর কোন পথ খোলা নেই”।

তিনি বলেন, “বিরোধী দল আসলে ভালো লাগতো। তারা আসলে জিততে পারতাম বা হারতাম এটা পরের কথা। কিন্তু নির্বাচন ছাড়া আর কি করার আছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য”।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, “একটি স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দরকার ছিল গণতন্ত্রের জন্য"।

তিনি বলেন, "মোট প্রার্থীর অর্ধেকই যদি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় হয়ে যান তাহলে সে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকে কি করে”।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন হতে হবে এমন পরিবেশে যেখানে অনেক রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতোমধ্যেই বিপুল সংখ্যক প্রার্থী ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। তাই এ নির্বাচন ইতোমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে”।

একজন দর্শক বলেন, “সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করতে বাধ্য”। আরেকজন দর্শক বলেন, “সংবিধান মেনে নির্বাচন চলে তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য”।

আসিফ মুনীর বলেন, “প্রতি মূহুর্তে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। এ মুহূর্তে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বলার সময় আসেনি। কারণ এখনো দু প্রধান দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করি নির্বাচন হবে এবং ভোট প্রয়োগ করতে পারবো”।

আরও দ্বন্ধ সংঘাত ?

শাহ আরাফাত হোসেন জানতে চান বিচারের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়া হলেও তাদের সমর্থকদের ক্ষোভ কি ভবিষ্যতে আরও দ্বন্ধ সংঘাত সৃষ্টিকরতে পারে ?

আসিফ মুনীর বলেন, “সমাজে বিভাজন থাকবেই। যুদ্ধাপরাধের পক্ষে যারা কাজ করছেন তারা সবাইকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাই সবাইকে সচেতন থেকেই এ বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে”।

তিনি আরও বলেন, “আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের সব দিকেও প্রস্তুতি থাকতে হবে। তবে অধিকাংশই মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া দরকার এবং সেটা হতে হবে”।

ড. দিলারা চৌধুরী বলেন আওয়ামী লীগ বিচারের বিষয়টিকে রাজনীতি করন করেছে বলেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টা অনেক দেরি করে নিষ্পত্তি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধাপরাধীরা এবং তাদের লোকজন অনেক প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে”।

তিনি বলেন, “সরকারের উচিত ছিল প্রথম তিন বছরের মধ্যেই বিচারটা করে ফেলা। তাহলে এতো বিভাজন হতোনা”।

একজন দর্শক বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত না করা হলে এ বিভাজন হতোনা”।

তবে মিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু মানুষ স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনৈতিক কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের এদেশে বিভিন্ন ভাবে শক্তিশালী করা হয়েছিলো এবং এখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিচার নিয়ে চালাকি করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে”।

রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, “বিচার নিয়ে অধিকাংশ মানুষ সমর্থন করে। যুদ্ধাপরাধীদের স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার হোক। পুরো জিনিসটা নিয়ে রাজনীতি করার কারণেই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে”।

সংলাপে সাফল্যের সম্ভাবনা কতটুকু ?

হাসিনা আক্তার জানতে চান জাতিসংঘ ও বিদেশী কূটনীতিকদের উদ্যোগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সংলাপ শুরু হয়েছে তাতে সাফল্যের সম্ভাবনা কতটুকু ?

আসিফ মুনীর বলেন, “ভাবতে খারাপ লাগে যে বাইরে থেকে এসে আমাদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। তারপরেও আশা করি এ প্রক্রিয়া বন্ধ হবেনা। তবে সমঝোতা করতে হলে ছাড় দেয়ার বিষয়টি থাকতে হয়। এখানে তেমন কিছু দেখছিনা”।

দিলারা চৌধুরী বলেন, “সময় অনেক কম। সমঝোতা করতে সদিচ্ছা থাকলে সেটি দ্রুত করতে হবে। সংলাপ করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ”।

একজন দর্শক বলেন, “দু দল ছাড় দিলেই কেবল সংলাপ সাফল্য আনতে পারে”।

রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, দুপক্ষ যে করেই হোক সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতি আনতে হবে যাতে সাফল্য আসবে। এখনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা। তবে এটা করতেই হবে।

ড. রাজ্জাক বলেন, “সংলাপের বিকল্প নেই। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচনে যেতে হচ্ছে। বৃহত্তরে স্বার্থে সমাধান আসতে হবে। আলোচনা হচ্ছে। নিশ্চয়ই জাতি একটা সমাধানে আসবে”।

সাক্ষীদের সুরক্ষা জরুরী ?

মুনির জামান জানতে চান যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িতদের সুরক্ষা দেয়া কি জরুরী নয় ?

আসিফ মুনীর বলেন, “ নিরাপত্তার জায়গা যথেষ্ট নয়। আমি নিজে এবং অন্য শহীদ স্বজনদের বিষয়েও আমি জানি। এখানে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে”।

রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, “বিচারে যারা সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সরকারকে এ দায়িত্ব নিতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “চলমান অরাজকতা সরকার কঠোরভাবে দমন করতে পারলেই সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে”।

দিলারা চৌধুরী বলেন, “সরকারের দায়িত্ব জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে সেরকম পরিস্থিতি দেখছিনা। শহীদ পরিবারের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্কটা কেমন সেটা বুঝতে পারছি”।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সরকারের কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরদার করতে হবে”।

sanglap51 audience
ছবির ক্যাপশান, দর্শকদের একাংশ

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনলো। আবার বাতিল করা নির্বাচন দিলেন। তাহলে তারাই কি সব ? আমরা জনগণ সংবিধান বুঝিনা। এতো ভোটে জয়ী করা সরকারের কাছ থেকে এটা আশা করিনি।

রাসেল, রাজশাহী ।

আমি বিবিসি সংলাপে অংশ নিতে চাই।

মো: মোশাররফ হোসেন, নোয়াখালী।

বর্তমান ট্রাইব্যুনালে যারা অপরাধী হিসেবে বিচার প্রক্রিয়াধীন আছে তারা ১৯৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সময়ে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলো। সে অপরাধীদের সাথে শেখ হাসিনা ৯৬ সালে সমঝোতা করে সরকার গঠন করেছিলো। ২০০৯ সালের নির্বাচনের ইশতেহারে তাদের বিচারের কথা বলা হয়েছিলো। তাই দিলারা চেৌধুরীর সাথে একমত হয়ে বলতে চাই শেখ হাসিনা তাদের নিয়ে রাজনীতি করেছে।

ওমর ফারুক,আজিমপুর, ঢাকা।

Why we are dividing our country after 42 years? Do we have to fight again? If so for what? We are independent. We all are freedom fighter that is absolute true. why we are focusing on them? they (Razakar) are rubbish. what will happen next?

Farhana

একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী এতো নিষ্ঠুর হতে পারে কল্পনাই করা যায় না. কষ্ট হয় আওয়ামী লীগকে এভাবে নিজ হাতে ধংস করা হচ্ছে.

এনামুল হক, চট্রগ্রাম।

যুদ্ধঅপরাধী তো শুধু জামায়াতে ইসলামিতে না আওয়ামী লীগেও আছে তাহলে কেন এরকম বিচার। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু আমি যদি শিবির করি তাহলে আমি কেন গনতান্তিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হই। কেন আমাকে গুলি করবে।

মাহমুদ, কুমিল্লা।

If political leader always speak truth then election, develop, nation, everything will improve.

Nandan, dubai uae

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণই ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, অথচ সরকার জনমত উপেহ্মা করে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচেছ, এটি গণত্ন্ত নয় স্বৈরতন্ত্র।

মোঃ কামরুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ

Bangladesh need eleaction for all party including Jamaat.

Akter hossain, comilla

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই । তাই একতরফা নির্বাচন করে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম ও হত্যা, নির্যাতন করে পূনরায় ক্ষমতা যাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু বাংলার জনগন হাসিনাকে প্রত্যাখান করেছে ।

সাগর, টাঙ্গাইল।

5th January, 2014 election is totally unacceptable. Election should be held including all parties like BNP & Jamat. People should decide the fate of Jamat.

Md. Anwar Hussain, Dhaka

আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজত ইসলামের শান্তি পূর্ণ সমাবেশে, বাধা দিয়ে আবারো প্রমান করল তারা স্বৈরাচারী বাকশালী।

কামরুল, কিশোরগঞ্জ।