সংলাপে দ্রুত আরেকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে সরকারের একজন মন্ত্রী আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলেছেন আলোচনা হবে তবে সংবিধান মোতাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থাপনার নির্বাচন হবে।
তবে বিরোধী দল বিএনপির একজন নেতা বলেছেন বিরোধী দলের শর্ত পূরণ করে যত দ্রুত সম্ভব সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত।
সংলাপের এ পর্বে বিরোধী দল মন্ত্রীসভায় থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় কিনা, গণমাধ্যম বন্ধের পদক্ষেপ এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার বিষয়গুলোও উঠে আসে।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সিউতি সবুর।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন রাধেশ্যাম বেপারী। তিনি জানতে চান ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনর প্রতি যে বিরূপ জনমত তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব মেনে আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত ?
মতিয়া চৌধুরী বলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট শুধু নির্বাচনের কথা বলেনি। তারা সহিংসতা বন্ধ ও জঙ্গিবাদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার কথাও বলেছে। এসব বিষয় একটি আরেকটির সাথে জড়িত। আর নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ইইউ তো ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বা দীর্ঘ সামরিক শাসনের সময় কিছু বলেনি। তবে এখন আলোচনার দরজা খোলা আছে। আলোচনা চলবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থাপনায় আগামী নির্বাচন হবে”।
মাহবুবুর রহমান বলেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন রাজনৈতিক সংকটকে আরও তীব্রতর করে তুলেছে। বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোকে অহিংস দাবি করে তিনি বলেন যদি প্রমাণ হয় জামায়াত সহিংসতায় জড়িত তাহলে সরকার তাদের নিষিদ্ধ করলেই পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একজন দর্শক বলেন, “আগামী ৬ মাসের মধ্যে নূতন নির্বাচন হওয়া উচিত”। তবে আরেকজন দর্শক বলেন, “নির্বাচন ও সংলাপের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে”।
তিনি বলেন, “৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিলো একটি প্রহসনের নির্বাচন। জনগণ এ নির্বাচন গ্রহণ করেনি। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরেকটি নির্বাচন করা উচিত। এবং বিরোধী দলের শর্তগুলো পূরণ হলে বিএনপি কেন, সব দলই নির্বাচনে আসবে”।
মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হলে একটি নির্বাচন করতেই হবে। তবে প্রতিবারই এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হতে পারেনা। তাই সব দলকে নিয়ে গ্রহণযোগ্য একটি সাংবিধানিক সংস্কার করতে হবে”।
তিনি বলেন, “আমি ক্ষুদ্ধ, দু:খিত এবং লজ্জিত ভোট ছাড়া এধরনের একটি নির্বাচনের কারণে। এ কালিমা থেকে আওয়ামী লীগ ও দেশকে মুক্তি করতে সবাইকে নিয়ে আরেকটি নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। তবে শুধু নির্বাচন করলেই হবেনা, নির্বাচনের আগে একটি সাংবিধানিক সংস্কার করতে হবে”।
সিউতি সবুর বলেন নির্বাচনের চেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হচ্ছে তৃণমূলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। যেভাবে এবং যে আকারে এবার নির্বাচন হয়েছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিত্তি চ্যুত হয়েছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে ?
মো: আসাদুজ্জামান রিগান জানতে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রীপরিষদে যোগ দিলে সেই সংসদে কি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব ?
মাহবুবুর রহমান বলেন, “জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড একটি ধাঁধা, একটি নাটক। তারা সরকারের সমালোচনা করবে এ চিন্তা করা একটি ভ্রান্তিবিলাস। মন্ত্রীপরিষদের থেকে তারা সরকারের কোন কাজের সমালোচনা করতে পারবেনা এবং করবেনা”।
মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “এখন যে বিরোধী দল রয়েছে এটি একটি গৃহপালিত বিরোধী দল। তাদের সবসময় অনুগত থাকতে হবে। কোন অবস্থাতেই সরকারের সমালোচনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবেনা”।
একজন দর্শক বলেন, “এটি একটি জগাখিচুড়ি বিরোধী দল। এটি কোন সরকারও নয়”। আরেকজন দর্শক বলেন, “বর্তমান বিরোধী দলের পক্ষে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা সম্ভব হবেনা”।
সিউতি সবুর বলেন, “বর্তমান অবস্থাটি বেশ ঘোলাটে। জাতীয় পার্টি যেভাবে সরকার ও বিরোধী দলে আছে তাদের প্রতি আস্থা রাখা দূরুহ”।
গণমাধ্যম বন্ধ করা কি একটি হুঁশিয়ারি সংকেত ?
সরকারী পদক্ষেপের কারণে একটি গণমাধ্যম বন্ধ হলে তাকে কি অন্য গণমাধ্যমের জন্যে একটি হুশিয়ারি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যায় ?
সিউতি সবুর বলেন, “আমি সীলগালার পক্ষপাতী নয়। তবে যে রিপোর্টের ভিত্তিতে সীলগালা করা হয়েছে সেটি অত্যন্ত আপত্তিকর। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। সেখানে একটি অবস্থান নেয়া দরকার ছিল। আবার যে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে তার জন্য গণমাধ্যমও দায়ী। সম্প্রতি দেখলাম গুলশানে আড়ংয়ের কাছে ক্যামেরা সেট করা আছে। পরে শুনেছি সেখানে একটি সিএনজি পোড়ানো হয়েছে। গণমাধ্যমকেও বুঝতে হবে কি ছাপানো হচ্ছে”।
মাহবুবুর রহমান বলেন, “যেভাবে সংবাদটি প্রকাশ হয়েছে মনে হয়না তার মধ্যে বাস্তবতা আছে। কেন প্রয়োজন হবে ভারতের সেনাবাহিনী আনা। কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে। ভুল হলে আইন আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। প্রেস সীলগালা এখন একটি কমন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
একজন দর্শক বলেন, “যে ভুল করেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। হাজার হাজার কর্মীকে বেকার করা ঠিক নয়”। আরেকজন দর্শক বলেন, “পুরোপুরি বন্ধ করা হলে অন্যদের উপর একটি চাপ সৃষ্টি হয়”।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, “এদেশে মানুষ ছাপার অক্ষরে কি লেখা হয়েছে বা টেলিভিশনে কি দেখানো হচ্ছে সেটা মানুষ বিশ্বাস করে। তবে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ব্যবস্থাটা সাময়িক।দায়িত্বশীল যারা সবাইকেই বুঝতে হবে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে”।
মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “ভুল তথ্য দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ। মিডিয়াগুলোকে সংযত হতে হবে এবং কথায় কথায় যেন সরকার কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে”।
হিন্দুরা শুধুই ভোট ?
সাবিনা পারভীন জানতে চান বাংলাদেশে কি হিন্দুরা শুধুই ভোট, মানুষ নয় ?
সিউতি সবুর বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেখানে শক্ত সেখানে এধরনের সহিংসতার সম্ভাবনা কম। প্রতিটি ঘটনাই পরিকল্পিত। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত সবাই নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিত ভাবে এগুলো করছে”।
মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “শুধু ভোট নয় হিন্দুদের সম্পত্তিও তাদের উপর আক্রমনের একটি কারণ। একজন গবেষক বলেছেন হিন্দুদের সম্পদ ৬০ শতাংশ দখল করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন”।
একজন দর্শক বলেন, “সরকার কি আসলেই সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনকারীদের বের করবে”?
মাহবুবুর রহমান বলেন, “ হিন্দুরা দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৪২ বছর পরও এ প্রশ্ন আসছে কেন? এজন্য গণতান্ত্রিক সংস্কার করা দরকার”।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, “এটা সবার লজ্জাজনক। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু দেখছিনা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও উপদ্রুত এলাকায় যাবেন”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
no bnp
Firozalam, Al jubail, KSA
জামায়াতকে বিএনপির ছাড়তে হবে এটা সরকার বলছে কেন ? এ ধরনের দাবি সরকার বা বিরোধী দলের কেউ করতে পারে ?
রেজাউর রহমান, ঢাকা।
Both party's leader knew how can take stand themselves Is necessary now for bangladeah Breakdown allaince both party's. They can prove party's popularly and then we can organise fair election. Then we can get third new genaration party on future who can take over our beloved country
Mohammed akram, Doha , Qatar
আওয়ামী লীগের ভুলকে ভুল বলা যাবেনা তা প্রমাণ করলেন মতিয়া চৌধুরী। সেখানে সরকারে থেকে ভুল ধরতেই পারেনা।
আবু বকর, চট্রগ্রাম।
আমার মনে হয়না এতো তাড়াতাড়ি আরেকটা নির্বাচন হবে। কারন নির্বাচন হলেই আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ পরাজয়কে ভয় পায়। তার প্রমান পাওয়া যায় এমপিদের বক্তব্যে।
মাসুদ রানা, মানিকগঞ্জ।
Most of the answer by Matia Chowdhury was incorrect. It looks like she was not answering directly and blaming BNP for unnecessary. Our political leaders need to change their behaviors when faced on public.








