যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিতে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মরিয়ম সুলতানা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
তিন বছর, কেউ কেউ তারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন – কবে পরিবারের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকা যাবে। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি বলছেন, তাদের নানা পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে। কবে নাগাদ ভিসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা না থাকায় তাদের চাপ ও উৎকণ্ঠা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
তেমনই একজন হলেন বাকের মজুমদার (আমরা তার নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রতিবেদনে ছদ্মনাম ব্যবহার করছি) যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
তিনি বিবিসি বংলাকে জানিয়েছেন, ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
তার ভাষ্যমতে, শুরুতে তিনি পেশাগত কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বছরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম, তথা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এটি পেতে তার আরও বছরখানেক লেগে যায়। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়ে যান।
এরপর কেটে যায় আরও এক দশক। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা 'গ্রিন কার্ড' পান এবং দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাবার অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশে আসেন।
পরবর্তীতে তিনি নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেন এবং ২০১২ সালে সেটি পেয়েও যান।
বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানে কাজ করছেন।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের 'গ্রিন কার্ড ও সিটিজেনশিপ পুনর্মূল্যায়ন' করার অবস্থান থেকে শুরু করে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তে অন্য অনেক প্রবাসীর মতো তিনি নিজেও কিছুটা চিন্তিত। কারণ এই তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
'নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না'
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মি. মজুমদার জানান, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই অবৈধ পন্থায় মার্কিন আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। মূলত, তাদের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন-পুরাতন সবার গ্রিন কার্ড ও সিটিজেনশিপ রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
"তাই, কনসার্নটা এখানেই যে আমি যতই বৈধ হই, এর একটা সাইকোলজিক্যাল ইম্প্যাক্ট আছে। কারণ নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। আগুনের তাপটা তো আমাদেরও লাগে। সেজন্যই, আমার মতো যারা শুরুতে অ্যাসাইলাম সিক করেছেন, এই ঘটনায় তারাও এখন কনসার্ন," বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে "তৃতীয় বিশ্বের দেশ" থেকে অভিবাসন "স্থায়ীভাবে স্থগিত" করবেন।
ট্রাম্পের সেই ঘোষণার দেড় মাস পেরোতেই গতকাল ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয় এবং কবে নাগাদ এসব দেশের মানুষ মার্কিন অভিবাসন ভিসা পাবে, সেটাও জানানো হয়নি।

ছবির উৎস, Getty Images
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রিনকার্ডধারী থেকে শুরু করে সিটিজেনশিপ প্রাপ্ত, এমনকি ঘুরতে বা ভিসার মেয়াদ বাড়াতে যারা বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন, তারাও অনেকেই এখন দ্বিধা-উৎকণ্ঠার মাঝে রয়েছেন।
তেমনই একজন হলেন, রেহনুমা রহমান; তার ক্ষেত্রেও আমরা ছদ্মনাম ব্যবহার করছি।
তিনি কয়েক বছর আগে লেখাপড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পড়াশোনা চলা অবস্থায়ই সহপাঠী, যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক, তাকে বিয়ে করেন।
মিজ রহমান আশা করছিলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ তার গ্রিন কার্ড হয়ে যাবে এবং এরপর তারা সবাই বাংলাদেশে ফিরবেন ও এখানে বিয়ের পরের অনুষ্ঠান করবেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিতের এই ঘোষণায় তিনিও কিছুটা মুষড়ে পড়েছেন।
গ্রিন কার্ডধারীদের সম্পর্কে মি. মজুমদারও বলছিলেন, "ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের এই ঘোষণার ফলে গ্রিন কার্ডধারীরাও এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশে যেতে পারবেন না"।

ছবির উৎস, Getty Images
যে কারণে এই সিদ্ধান্ত ও প্রবাসীদের শঙ্কা
বাংলাদেশসহ যে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, তার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অভিবাসন আইনের 'পাবলিক চার্জ' নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের অভিবাসন ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, "স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে"।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন বিভাগটি তাদের প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখবে, যাতে "এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করা যায়, যারা কল্যাণভাতা ও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে," যোগ করেন পিগট।
মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অবৈধ পথগুলোর পাশাপাশি বৈধ পথগুলো আরও বেশি সীমিত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন এই সিদ্ধান্তে সবারই 'ফ্যামিলি প্রায়োরিটিজ' বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
"গ্রিন কার্ড হোক বা সিটিজেনশিপ হোক, সবার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। ধরা যাক, কারও বাবা-মা, ভাই-বোন অসুস্থ থাকলেও তাদের এখন ভিসা দেবে না। কারণ স্পন্সরশিপে এসে বেশিরভাগ মানুষই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে," বিবিসিকে বলছিলেন মি. মজুমদার।
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ শতাংশ লোকই এই সুবিধা নেয়।
অর্থাৎ, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর জনকল্যাণমূলক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
"আয় কম থাকলে তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাবলিক সুবিধা পায়। কিছু নিয়ম মানলে বয়স্করাও এই সুবিধা নিতে পারে। কিন্তু অনেকে অপ্রয়োজনেও বা তথ্য লুকিয়ে এই সুবিধা নিচ্ছে এবং একইসাথে বাংলাদেশেও টাকা পাঠাচ্ছে। তখন প্রশ্ন উঠবে যে আপনি পর্যাপ্ত আয় করেন না, পাবলিক বেনিফিটস নিচ্ছেন, আবার টাকাও পাঠাচ্ছেন, কীভাবে?" যোগ করেন তিনি।
তার মতে, এখন এই ধরনের হিসাবনিকাশ করা শুরু করবে মার্কিন প্রশাসন এবং এতে করে যারা এতদিন স্পন্সরশিপ দেখিয়ে পরিবার-পরিজনকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছে, তারাও বিপদে পড়বে।
"যারা সাপোর্ট দিয়েছে এর আগে, তারা এখন ধরে পড়বে যে তুমি বলেছিলে যে তার ভরনপোষণ তুমি করবে, কিন্তু সে তো সরকারি সুবিধা নিচ্ছে। অর্থাৎ, এখন তোমাকে সমস্ত ডিউ পে করতে হবে। ধরুন, আমি আমার আত্মীয়কে এনেছি। তারা পাবলিক সুবিধা নিচ্ছে। এই বারডেন আসবে আমার ওপর। সুতরাং, এখন নতুন যারাই আসবে, আপনার যদি যথেষ্ট সামর্থ্য না থাকে, তাহলে আপনাকে ভিসা দেবে না। আর সরকারি সুবিধা দিলেও তাতে এমন কিছু শর্ত দেবে, এমন এত বছরের জন্য বা সারাজীবনের জন্য অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেওয়া যাবে না।"
বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে সুবিধা গ্রহণকারীদের জন্য "যারা সুবিধা ডিজার্ভ করে, তারাও চিন্তিত হয়ে পড়ছে। কারণ উনাদের কারণে তাদেরটাও রিভিউ করা হচ্ছে," যোগ করেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করতে যাওয়া অনেকে বলছেন, পড়াশোনা শেষ করার পর মার্কিন প্রশাসন তাদেরকে যে এক থেকে তিন বছরের জন্য চাকরি খোঁজার জন্য সময় দেয়, এটিও এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা যখন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে যাবেন, তখন তারা সমস্যার মাঝে পড়বেন।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের স্পন্সরশিপে কড়াকড়ি আরোপ হলেও ভিসা জটিলতা বাড়বে।

ছবির উৎস, Getty Images
যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, যেসব দেশের নাম তালিকায় আছে সেগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য সময়সূচিও নির্ধারণ করবে।
তবে এই বিরতির সময়কালে এই নাগরিকদের কোনো অভিবাসী ভিসা জারি করা হবে না।
তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্টসহ আবেদনকারী দ্বৈত নাগরিকরা এই বিরতির আওতা থেকে মুক্ত থাকবেন।
এই নির্দেশনার অংশ হিসাবে কোনো অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি বলেও জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এছাড়া, পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া 'অ-অভিবাসী' (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসাগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।
অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত দেশটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি পড়াশুনা করতে গিয়ে তা ছেড়ে ভুল তথ্য দিয়ে চাকরি করে বা আর্থিক অনিয়ম করে, তখন তারাও জটিলতায় পড়বে বলে জানিয়েছে অভিবাসী বাঙালি এবং শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মী হিসেবে বা এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আবেদনকারীদের বাড়তি এক লাখ ডলার গুণতে হচ্ছে।
এমনকি, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অবৈধভাবে বসবাস করা পিতামাতার সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধ করে আদেশ জারি করেছিলেন তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images
যেসব দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা
যে ৭৫টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানও রয়েছে।
আরো রয়েছে – আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।








