ইরানের হামলার পর আতঙ্ক আর উদ্বেগের দুবাই

ছবির উৎস, Reuters
দুবাইয়ের অধিবাসীরা দুদিন ধরে ঘরেই অবস্থান করছেন। কারণ তাদের শহরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ব্যাপক এবং চলমান হামলার জবাবে ইরান এই হামলা করছে।
সেখানকার অধিবাসী এবং ছুটিতে থাকা মানুষদের সাথে কথা বলেছে বিবিসি। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবন থেকে একেবারেই ভিন্ন।
বেকি উইলিয়ামস নামে সেখানকার একজন বাসিন্দা জানান যে, তিনি গতকাল তার বাড়ির পেছন থেকে প্রায় ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপিত হতে দেখেছেন।
তিনি জানান, এগুলো উৎক্ষেপণ করা হচ্ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ।
তিনি আরও বলেন, "আপনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ শুনতে পারেন।"
তার বিশ্বাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমা রক্ষা করতে পারবে এবং তিনি মনে করেন "শীঘ্রই সব ধাক্কা কেটে যাবে।"
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Muskaan Kataria
দুবাইয়ের বিলাসবহুল কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ পাম জুমেরাহ এলাকায় পাঁচ তারকা ফেয়ারমন্ট দ্য পাম হোটেলে একটি বড় বিস্ফোরণ হয়েছে। আবার প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাঁচ তারকা বুর্জ আল আরব হোটেল-এর বাইরের অংশে পড়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আরেকজন বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, "সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানুষ যে পরিস্থিতিতে বাস করে সেটিই আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় দেখেছি"।
এদিকে, সত্য জগনাথনের রোববারের হাইকিং-এর পরিকল্পনা এই ঘটনার কারণে ভেস্তে গেছে।
তিনি বললেন, "এবং এখন আমরা এখানে নিরাপদ আশ্রয়ে আছি।"
পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি জানান, তার বোনের পরিবার ও পোষা প্রাণীগুলোকে তাদের বাসায় আশ্রয় নিতে হয়েছে, কারণ তারা থাকতো জেবেল আলী বন্দরের কাছে। সেখানে অনেক ধ্বংসাবশেষ পড়ছিল।
শনিবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহতের পর একটি বার্থে তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে গিয়েছিল। বন্দরটি বিশ্বের নবম ব্যস্ততম বন্দর।
"এখনও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে, কারণ কয়েক ঘন্টায় পরপরই কেবল জোরালো শব্দ হচ্ছে, তবে এটি ভয়ঙ্কর কারণ এটি সেই দুবাই নয়, যেটায় আমরা অভ্যস্ত," জগনাথন বলছিলেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষ "দুর্ঘটনা" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আসা যাওয়ার হাজার হাজার ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। কোভিড মহামারীর পর বিমান চলাচলে এটাই বড় বিঘ্ন বলে মনে করা হচ্ছে।
জুডি ট্রটার শনিবার ছুটি শেষ করে লন্ডনে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে জানানো হয় যে সব ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে।
তিনি বললেন, "বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ ছিল। আমি এমন মানুষদেরও দেখেছি যারা বলেছিলেন যে তারা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।"
তিনি আরও বলেন, অনেক যাত্রী "যাত্রাপথে ছিলেন, ট্রানজিট যাত্রী ছিলেন" এবং এখন তারা আটকে গেছেন।
ট্রটার প্রায় এক হাজার আক্রান্ত যাত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন যাদের একটি হোটেলে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাদের জানালার কাছে না যেতে বলা হয়। "দিনভর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শুনেছি," বলছিলেন তিনি।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
অন্য একজন ব্রিটিশ পর্যটক বাকিংহামশায়ারের কেট ফিশার। তিনি জানান, তিনি এবং তার পরিবার 'খুব ভীত'।
শনিবার সন্ধ্যায় তারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন যে, যদি আগুনের কারণে বের হয়ে যেতে হয়।
রোববার দিনটি তার মতে ছিল 'অদ্ভূত দিন'।
"সবাই যখন তাদের ছুটি উপভোগ করার চেষ্টা করছে এবং শিশুরা আনন্দ করছে। তখন আমরা যখন কাছাকাছি এলাকা থেকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করা জায়গাগুলো থেকে ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম, এটি একটি খুব অদ্ভুত অভিজ্ঞতা," বলছিলেন তিনি।
ভিকি প্যাট্টিসন ও তার স্বামী এরকান রামাদা ছুটি উপভোগ করছিলেন। কিন্তু তাদের অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।








