ইরানের 'ব্ল্যাক প্যান্থার' আশরাফ পাহলাভি, যিনি ক্ষমতায় যেতে ভাইকে সাহায্য করেছিলেন

ছবির উৎস, Bettman via Getty Images
- Author, ওয়াকার মুস্তাফা
- Role, বিবিসি নিউজ উর্দু
- Author, ইরফানা ইয়াসের
- Role, বিবিসি গ্লোবাল জার্নালিজম
সাহসী, সপ্রতিভ ও দৃঢ়চেতা এক ব্যক্তিত্ব, নাকি নিজ দেশ থেকে পালিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা এক নারী?
মৃত্যুর দশ বছর পরও রাজকুমারী আশরাফ পাহলাভি সম্পর্কে এই দুই রকম মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। অনেক ইতিহাসবিদের মতে সত্তরের দশকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ইরানের শাহ রেজা পাহলাভির যমজ বোন আশরাফ পাহলাভি তার ভাইয়ের চেয়ে যোগ্য ও সফল শাসক হতে পারতেন।
তবে অনেক ইতিহাসবিদ আশরাফ পাহলাভিকে যোগ্য শাসক মনে করলেও কিছু ইতিহাসবিদের বিবেচনায় তিনি ছিলেন সিংহাসনের এক দ্বিধাগ্রস্ত ও ভীরু উত্তরসূরি।
আর তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এসব তত্ত্ব আর জল্পনা তার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত পিছু ছাড়েনি।
সত্তরের দশকে তার ভাই ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং পরবর্তীতে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময়জুড়ে ইরানের রাজনীতিতে সবসময়ই আলোচনায় ছিলেন আশরাফ পাহলাভি।
পাহলাভি তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'ফেইসেস ইন এ মিরর: মেময়ারস ফ্রম এক্সাইলে' লিখেছেন: "রাজনীতিতে আমার সম্পৃক্ততার কারণে আমাকে নিয়ে নানা গুজব নিয়মিতই তৈরি হতো। সরকারি বিভিন্ন বিষয়ে আমার প্রভাব থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব শোনা যেত নিয়মিতই। আর এগুলো এতোটাই ধারাবাহিক ছিল যে ইরানের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপের পত্র-পত্রিকাগুলোও একটা সময় আমাকে 'সিংহাসনের পেছনের শক্তি' আর 'ব্ল্যাক প্যান্থার অব ইরান'এর মত উপাধি দেয়া শুরু করে।"
তবে তার ভূমিকা যাই হোক না কেন, তার ভাইয়ের ক্ষমতায় আরোহণ থেকে শুরু করে শাহ'এর শাসনের উত্তাল কয়েক দশক বিবেচনায় নিলে ইরানের ইতিহাসে আশরাফ পাহলাভি একটি অনস্বীকার্য অধ্যায়।
অপারেশন এজাক্স
শাহ রেজা পাহলাভি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ইরানের রাজনীতিতে আশরাফ পাহলাভির এক ধরনের প্রভাব ছিল। আর সেই প্রভাব এতোটাই গভীরভাবে প্রোথিত ছিল যে ১৯৫২ সালে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর তৎকালীন জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ মোসাদ্দেগ আশরাফ পাহলাভি ও তার মাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।

ছবির উৎস, Keystone features via Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মোসাদ্দেগ আশরাফ পাহলাভি ও তার মাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
ইতিহাসবিদদের হিসেবে, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনামাফিক হওয়া ইরানের যে সামরিক অভ্যুত্থানে – যেটি অপারেশন এজাক্স হিসেবে পরিচিত – প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেগ ক্ষমতাচ্যুত হন, সেই অভ্যুত্থান ঘটার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল আশরাফ পাহলাভির।
নিজের লেখা বইয়ে আশরাফ পাহলাভি ঐ অভ্যুত্থানে তার সংশ্লিষ্টতার পেছনে যুক্তি দিয়েছেন যে 'কমিউনিস্টদের হাত থেকে ইরানকে রক্ষা' করার জন্য অভ্যুত্থানে তার জড়িয়ে পড়া জরুরি ছিল। যদিও তার চূড়ান্ত অভিসন্ধি কী ছিল, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে।
পঞ্চাশের দশকে ইরান থেকে নির্বাসিত হয়ে আশরাফ পাহলাভি যখন প্যারিসে ছিলেন, তখন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এজেন্টরা তার সাথে একাধিকবার দেখা করেন।
ইরানের প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাত করে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ রক্ষার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আশরাফ পাহলাভির সাথে সুসম্পর্ক রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিল তারা।
মোসাদ্দেগ সরকারকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের সরকারের সাথে সমঝোতা করার বিষয়ে শুরুতে রাজী হননি আশরাফ পাহলাভির ভাই রেজা পাহলাভি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) নথি অনুযায়ী – যেগুলো পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল – ফ্রান্স থেকে গোপনে ইরানে ফিরে যান আশরাফ পাহলাভি। পরে সিআইএ'র সহায়তায় তিনি মোসাদ্দেগের পতন ও তার ভাই রেজা পাহলাভির ক্ষমতায় আরোহণের জন্য কাজ করেন।

ছবির উৎস, Keystone-France via Getty Images
নিজের বইয়ে আশরাফ পাহলাভি লিখেছেন: "অভ্যুত্থানের পেছনের পরিকল্পনাকারী জন ফস্টার ডালস (তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ও উইনস্টন চার্চিলের (তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী) প্রতিনিধিরা এমন কাউকে চেয়েছিলেন যার বিশ্বস্ততা নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।"
ইতিহাসবিদ স্টিফেন কিনজার অবশ্য তার বই 'অল দ্যা শাহস মেন' এ ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, আশরাফ পাহলাভি যখন 'ফরাসী ক্যাসিনো আর নাইটক্লাবে জীবন উপভোগ' করছিলেন, তখন আসাদোল্লাহ রাশিদিয়ান নামের একজন ইরানি এজেন্ট তার সাথে দেখা করেন। ঐ এজেন্ট কারমিট রুজভেল্টের হয়ে কাজ করতেন।
কারমিট রুজভেল্ট সে সময় ইরানে সিআইএ'র কার্যক্রমের তদারকি করতেন এবং তিনি ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্টের নাতি।
আশরাফ পাহলাভি শুরুতে ঐ এজেন্টের কথা গুরুত্ব না দিলেও পরে যখন বৃটিশ এজেন্ট নরম্যান ডার্বিশায়ারের নেতৃত্বে মার্কিন ও বৃটিশ এজেন্টদের একটি দল তার সাথে দেখা করে বিপুল অঙ্কের টাকা দেয়, তখন তার 'চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে' – এই বর্ণনা পরবর্তীতে উঠে আসে নরম্যান ডার্বিশায়ারের বয়ানে।
মিজ পাহলাভি অবশ্য তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন যে তাকে ফ্রান্স থেকে ইরানে ফিরে তার ভাইকে রাজি করানোর জন্য 'ব্ল্যাঙ্ক চেক' দেয়া হয়। তার লেখায় তিনি দাবি করেন যে ঐ চেক তিনি শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেননি।
তার লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সম্ভাব্য ফলাফলের বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল হয়ে গোপন ফ্লাইটে করে ইরানে গিয়েছিলেন।
তিনি লিখেছেন: "যদি মোসাদ্দেগের লোকদের কেউ আমাকে বিমানবন্দরে চিনে ফেলতো? যদি আমি গ্রেফতার হতাম? ইরানে অবৈধভাবে প্রবেশের কী ব্যাখ্যা দিতাম আমি?"

ছবির উৎস, Getty Images
আশরাফ পাহলাভি শেষ পর্যন্ত ইরানে প্রবেশ করতে এবং তার উপর পশ্চিমা এজেন্টদের দেয়া দায়িত্বও পূরণ করতে পেরেছিলেন।
ঐ সামরিক অভ্যুত্থানকে তিনি সিআইএ'র সরাসরি সামরিক দখল হিসেবে মনে করেন না। পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি রেজা পাহলাভির প্রতি মানুষের সমর্থন যোগানোর একটি 'তথ্যগত অভিযান' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
'আমি কখনোই ভালো মা ছিলাম না'
আশরাফ পাহলাভির প্রথম বিয়ে হয় ১৯৩৭ সালে, ১৭ বছর বয়সে। সেটি ছিল তার তিনটি বিয়ের মধ্যে প্রথম। তার তিনটি বিয়েই ডিভোর্সের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
তার তিন সন্তানও ছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ১৯৮০ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন: "আমি কখনোই ভালো মা ছিলাম না। কারণ আমার জীবনধারা এমন ছিল যে আমি কখনো আমার সন্তানদের সময় দিতে পারিনি।"
তার পরিচয়ের কারণে যে তাকে সবসময় জল্পনার কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে, এই বিষয়টি তিনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। বিভিন্ন সময় নানা উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সাথে তাকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
তার বইয়ে তিনি লিখেছেন: "আমি বহু গুজবের কেন্দ্রে ছিলাম। যেসব রাজনীতিবিদদের সাথে আমি কাজ করেছি, প্রায় সবার সাথেই আমার প্রেমের গুজব ছড়িয়েছে কোনো না কোনো সময়। তাই যখন আমার মনে হয়েছে যে আমি আসলেই কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চাই, আমি সে বিষয়ে খুব সচেতন ছিলাম।"

ছবির উৎস, Getty Images
হিজাব নিয়ে অবস্থান
পত্রিকার মতামত পাতায় ১৯৭৬ সালে ছাপা হওয়া এক লেখায় আশরাফ পাহলাভি নারীদের উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন যে সব নারীদের তাদের সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করা উচিৎ যেন তারা নারীদের বাধা দেয়, এমন আইন বাতিল করে।
ইরানে ১৯৭৯ সালে হওয়া বিপ্লবের আগে বাধ্যতামূলক হিজাব নিরুৎসাহিত করা ও নারী অধিকার বাস্তবায়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আশরাফ পাহলাভি।
নারীদের বিয়ের আইনি বয়স বাড়ানো, পারিবারিক আদালত স্থাপন করা আর ডিভোর্সের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করার মত পদক্ষেপ নেয়ার পেছনেও ভূমিকা ছিল তার।
তার বইয়ে হিজাবকে তিনি উল্লেখ করেছেন ইরানের নারীদের 'পশ্চাৎপদতা'র এ্কটি প্রতীক হিসেবে। ১৯৩৬ সালে তার বাবা রেজা শাহ'এর হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে নারী মুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ব্রায়ান মার্ফির বক্তব্য অনুযায়ী, ত্রিশের দশকে আশরাফ পাহলাভি, তার বড় বোন শামস আর তাদের মা ছিলেন ইরানের প্রথাগত হিজাব ত্যাগ করা প্রথম কয়েকজন নারীর একজন।

ছবির উৎস, Getty Images
দুর্নীতির অভিযোগ
আশরাফ পাহলাভির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগও ছিল। তিনি যেসময় ইরানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে যখন বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছেন, দুই দফাতেই তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ভূমি দখলের নানা অভিযোগ ছিল।
তার বইয়ে অবশ্য আশরাফ পাহলাভি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন: "আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আমাকে একাধিকবার আক্রমণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কখনোই এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি যে সব প্রতিষ্ঠানেরই স্বাধীন বোর্ড অব ডিরেক্টর এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বিভাগ ছিল।"
বিভিন্ন সময়ে তার স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন: "আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা আমাকে চোরাচালানকারী, গুপ্তচর, মাফিয়াদের সহযোগী, মাদক কারবারী সহ বিশ্বের প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে।"
১৯৮০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে তার সম্পদ 'অবৈধ উৎস' থেকে আসেনি, বরং তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জায়গা জমি থেকে এসেছে যেগুলোর দাম অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ইরানের উন্নয়নের পর।

ছবির উৎস, Getty Images
নির্বাসন ও মৃত্যু
ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আশরাফ পাহলাভির ভাই রেজা শাহ পাহলাভি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে থেকেছেন। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ইরানে তার প্রভাব অনেকটাই ম্রিয়মান হয়ে যায়, তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও আগের তুলনায় অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়। তবে সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিদেশি পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন।
সে সময় তার বক্তব্য ছিল অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী। সে সময়ের সাক্ষাৎকার ও লেখায় তিনি বলার চেষ্টা করেছেন যে তার ভাই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা 'প্রতারিত' হয়েছেন।
বিপ্লবের পর আশরাফ পাহলাভির প্রভাব স্তিমিত হলেও তার জীবন যথেষ্ট ঘটনাবহুল ছিল।
ইরানের বিপ্লবের কিছুদিন পরেই তার ছেলে প্যারিসে আততায়ীর হাতে মারা যান। তার বইয়ে তিনি লিখেছেন: "আমার ছেলে শাহরিয়ার খোমেনির সন্ত্রাসীদের হাতে প্যারিসের রাস্তায় নিহত হয়েছে। আমি যদি আমার অতীতের ঘটনা নিয়ে বিপর্যস্ত না থাকতাম তাহলে ছেলের মৃত্যু হয়তো আমাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতো।"
ঐ ঘটনার পর ১৯৮০ সালে তার যমজ ভাই রেজা শাহ পাহলাভি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০০১ সালে তার ভাইয়ের মেয়ে লন্ডনে মারা যায় অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের ফলে। আর তার ভাইয়ের ছেলে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে আত্মহত্যা করেন।
আশরাফ পাহলাভি ফ্রান্সের মোনাকোতে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান আলজেইমার আক্রান্ত হয়ে।




