কী কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়? রোজা নিয়ে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব

মানুষ রোজা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানতে গুগলের শরণাপন্ন হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মানুষ রোজা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানতে গুগলের শরণাপন্ন হয়।
    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজান মাসে যারা রোজা রাখেন, তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছুই মুখে দেন না। এ বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রোজা শুরু হচ্ছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের বেশিরভাগ মানুষও এসময় রোজা রাখেন।

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিশ্বাস করেন, এ মাসে স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ ও বেশি সময় ধরে প্রার্থনার ভেতর দিয়ে তারা নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারবেন।

তাই, ধর্মে রোজা সংক্রান্ত যেসব নিয়মের কথা বলা আছে, রমজানে তারা সেগুলো মেনে চলেন।

কিন্তু এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো সম্বন্ধে ধর্মে সরাসরি কিছু বলা না থাকলেও অনেকে সেসবও মানেন।

রোজা নিয়ে ধর্মে কী কী বলা আছে, কী কী বলা নেই, ধর্ম নিয়ে কী কী ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, এরকম অনেক প্রশ্নের উত্তর মানুষ গুগলের কাছে জানতে চেয়েছে।

গুগলের কাছে জানতে চাওয়া সেরকমই কিছু প্রশ্নের উত্তর এই প্রতিবেদনে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সারাদিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজানের শব্দ শুনলে রোজাদাররা আহার গ্রহণ করে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সারাদিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজানের শব্দ শুনলে রোজাদাররা আহার গ্রহণ করে।

কী কী কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়

সাধারণ মুসলমানরা অনেক কিছুকেই রোজা ভাঙ্গার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, রোজা ভাঙ্গার মূল কারণ আসলে পাঁচটি। সেগুলো হলো—

  • ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খেলে
  • ইচ্ছাকৃতভাবে পান করলে
  • শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লে
  • মুখ ভর্তি বমি হলে
  • রোজা রাখা অবস্থায় সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “রক্তপাত বা বমি হলে রোজাদার ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করতে পারেন। সেজন্যই ধর্মে এসব ক্ষেত্রে রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

অধিকাংশ রোজাদারের ইফতার আয়োজনে খেজুর থাকেই।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অধিকাংশ রোজাদারের ইফতার আয়োজনে খেজুর থাকেই।

রোজা সম্বন্ধে প্রচলিত ভুল ধারণাসমূহ

এই পাঁচ কারণের বাইরে আরও কিছু বিষয়কে রোজা ভাঙ্গার কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। কিন্তু সেগুলো আদতে রোজা ভাঙ্গার মতো কোনও কারণই নয়।

বরং, সমাজে প্রচিলত থাকার কারণে রোজাদাররা সেগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এতে করে তিনি নিজে যেমন কষ্টে থাকেন, সেইসাথে তার চারপাশের মানুষকেও বিড়ম্বনায় ফেলেন।

অধ্যাপক শামছুল আলম এই প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো সমন্ধে বলেন, “মানুষ এগুলো জানাশোনা বা পড়াশোনার অভাবে বলে। তারা আধুনিক শিক্ষা পায়নি।”

তাই, রোজা সম্বন্ধে প্রচলিত তেমনই কিছু ভুল ধারণা সম্বন্ধে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

বিবিসি বাংলায় আরও খবর:
রাস্তায় থু থু ফেললে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রাস্তায় থু থু ফেললে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। (ফাইল ছবি)

মুখের লালা গিলে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যায়

মুখের লালা যদি পেটে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে; এটি একটি বহুল চর্চিত কথা।

এই প্রচলিত ধারণার কারণে রমজানে মানুষ যেখানে সেখানে থু থু ফেলে। এতে করে রোজাদার ব্যক্তিটি একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি করছেন, অন্যদিকে তিনি পাশের মানুষকেও অস্বস্তিতে ফেলছেন।

অধ্যাপক শামছুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “মুখের লালা গিলে ফেললে কিচ্ছু হয় না রোজার। এ বিষয়ে ধর্মে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই অর্থাৎ, ইন্টার্নাল কিছু পেটে ঢুকলে রোজা ভেঙ্গে যাবে না।”

তবে অন্য কারও মুখের লালা যদি নিজের মুখে যায়, তাহলে রোজা থাকবে না। অর্থাৎ, রোজা পালন করা অবস্থায় সঙ্গীকে চুমু খাওয়া যাবে না।

অনেকে মনে করেন, রোজা রাখলে দাঁত ব্রাশ করা যায় না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অনেকে মনে করেন, রোজা রাখলে দাঁত ব্রাশ করা যায় না।

দাঁত ব্রাশ করা যাবে না

অনেকে বলেন , রোজা রাখা অবস্থায় দাঁতও ব্রাশ করা যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় দাঁত ব্রাশ না করার কারণে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং তাতে কথা বলার সময় চারপাশে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এই গন্ধ বিষয়ে অনেক রোজাদারকে বলতে শোনা যায়, রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধও ভালো বা রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধে বিরক্ত হওয়া যাবে না।

কিন্তু এ বিষয়ে মি. আলম শুরুতেই এক বাক্যে বলেন, “দাঁত ব্রাশ করলে রোজার কিচ্ছু হবে না।”

“তবে পেস্ট আছে তো, ভুলে গলায় চলেও যেতে পারে। পেস্ট গলায় গেলে রোজা মাকরূহ হবে। সেজন্য এটা সাহরী খাওয়ার আগে করাই ভালো,” যোগ করেন তিনি।

সুতরাং, কেউ যদি সাবধানতা বজায় রেখে অল্প পরিমাণ পেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করেন, তাতে সমস্যা নেই।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
রোজা রেখে চুল, দাড়ি বা নখ কাটায় কোনও বাধা নেই।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রোজা রেখে চুল, দাড়ি বা নখ কাটায় কোনও বাধা নেই বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামছুল আলম।

নখ এবং চুল কাটা যাবে না

এরকমই প্রচলিত আরেকটা ধারণা হলো, রোজা রাখা অবস্থায় কিছুতেই নখ ও চুল কাটা যাবে না।

তবে ‘নখ, চুল কাটা যাবে না; এটা একদম ভুল কথা’ বলে জানান মি. আলম।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “এগুলোতে তো রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে না। আর এগুলো সাধারণত দিনের বেলাতেই মানুষ করে এবং একইসাথে রোজাও মানুষ দিনের বেলাতেই রাখে।”

দাড়ি কামানো যাবে না

রোজা রাখলে পুরুষরা দিনে দাড়ি কামাতে পারবেন না, এমন একটি মিথও প্রচলিত আছে।

কিন্তু বাস্তবে তারা যে কোনও সময়েই দাড়ি কামাতে পারবেন। এ নিয়ে কোনও বাধা-নিষেধ নেই।

তবে দাড়ি কামানোর সময় শুধুমাত্র একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যে ‘গাল কেটে গিয়ে রক্ত না গড়ায়’।

এ প্রসঙ্গে ঢাবি’র এই অধ্যাপক বলেন, “রোজা রেখে শেভ করা যাবে না, এটাও একদমই ভুল কথা। ইসলাম অবৈজ্ঞানিক কোনও বিষয় না। এটা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত বিধান।”

কেউ কেউ মনে করেন, পুরো সমজান মাসে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কেউ কেউ মনে করেন, পুরো সমজান মাসে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।

রমজানে যৌন সম্পর্ক করা যাবে না

কেউ কেউ মনে করেন, পুরো রমজান মাসে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।

কিন্তু যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিধিনিষেধ শুধুমাত্র রোজা থাকা অবস্থায়। আর মানুষ রোজা রাখে দিনের বেলায়।

তাই, রোজা না থাকলে রমজানে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে কোনও বাধা নেই।

“রোজা রাখা অবস্থায় কোনও যৌন সম্পর্ক করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে,” জানান মি. আলম।

সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

অনেকের মতে, রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু, মানুষের মনে গেঁথে থাকা এই ধারণাকেও ভিত্তিহীন বলে জানান অধ্যাপক শামছুল আলম।

তিনি বলেন, “সুগন্ধি বলতে আতর ব্যবহার করা যাবে, এটা তো নবীর সুন্নত। যুগে যুগে নবী রাসূলরা আতর ব্যবহার করে গেছেন। এটা ব্যবহারে কোনও নিষেধ নেই।”

তবে পারফিউমও ব্যবহার করা যাবে কি না, এমন এক প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন যে পাফফিউম ব্যবহারের বিষয়ে এক ধরনের ‘সতর্কতা’ আছে।

“কারণ পারফিউম তৈরিতে নাকি চর্বি ব্যবহৃত হয়। এটা তো আমরা জানি না। তাই এটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকলেই বেশি ভালো হয়, শুধু আতর ব্যবহার করা ভালো।”

তবে তিনি এও বলেন, “কিন্তু আপনি পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন, কারণ এটি তৈরির সময় তো আপনি দেখেননি। তবে বেশি তাকওয়া (ধার্মিকতা বা ধর্মপরায়ণতা) দেখাতে চাইলে দিনের বেলা ব্যবহার না করাই ভালো। একদম-ই ব্যবহার না আরও ভালো।”

পারফিউম বা আতর ব্যবহার করা রোজা ভাঙ্গার কারণ না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “তাছাড়া, পৃথিবীতে কিন্তু এখন সবকিছু হালালও উৎপাদন হয়। তাই, কেনার সময় খেয়াল করা উচিৎ যে কোন দেশ হালাল উৎপাদন করে। এসব বিষয়ে একটু সচেতন হয়ে চলা উচিৎ।”

রোজা রেখে আতর ব্যবহার করা নিরাপদ হলেও শর্তসাপেক্ষে পারফিউমও ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শামছুল আলম।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রোজা রেখে আতর ব্যবহার করা নিরাপদ হলেও শর্তসাপেক্ষে পারফিউমও ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শামছুল আলম।

‘ভুল করে’ পানাহার করে ফেললে রোজা ভাঙ্গে

অনেকসময় এমন হয় যে একজন ব্যক্তি সারাদিন ধরে রোজা আছেন। কিন্তু হঠাৎ হয়তো মনের ভুলে সে খাবার খেয়ে ফেললো বা পানি পান করে নিলো।

কিন্তু সম্বিৎ ফিরে পাওয়ার পর ঐ রোজাদার ব্যক্তি ভাবেন যে তার রোজা সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে। এটা ভেবে হয়তো তখন সে পরিপূর্ণ আহারই করে ফেলেন।

এ প্রসঙ্গে মি. আলম বলেন, “মনের ভুলে ভরপেট খাবার খেলেও রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা ইসলামে বলা হয়নি। এতে রোজা মাকরূহ হতে পারে। রোজা ভেঙ্গে যাবে, যদি ব্যক্তি ইচ্ছা করে পানাহার করে।”

এখানে মাকরূহ অর্থকে তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে, “মাকরূহ মানে অপছন্দনীয়। মাকরূহ মানে— রোজা হয়ে যাবে, কিন্তু রোজার সৌন্দর্যবোধটা শতভাগ হলো না।”

তিনি বলেন, “মুখে খাবার নেওয়ার পর যখনই মনে আসবে, তখন ফেলে দিতে হবে। আর গেলা যাবে না।”

গিলে খেতে হয়, এমন ঔষধ রোজা রেখে খাওয়া যাবে না।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গিলে খেতে হয়, এমন ঔষধ রোজা রেখে খাওয়া যাবে না।

রোজা রেখে ঔষধ খাওয়া যাবে না

অনেক মিথের ভীড়ে আরেকটি মিথ হলো, রোজা রেখে কিছুতেই ঔষধ সেবন করা যাবে না।

যদিও এর আগে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সাথে যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে- রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন, চোখের ড্রপ।

ঢাবি অধ্যাপক মি. আলমও বলেন, “যে ঔষধ পেটে যায়, মানে ক্ষুধা কমায়, সেগুলা নিষেধ। কিন্তু নাকে বা চোখে কোনও ড্রপ দিলে, সেটাতে কোনও সমস্যা নাই।”

যেসব ওষুধ গিলে খেতে হবে, সেগুলো ইফতারের পরে বা সেহরির আগে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে পেনিসিলিন, ইনজেকশন, ইনসুলিন অথবা টিকা দেওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইনসুলিন ইফতারর আগ মুহূর্তে নিতে হবে। তবে ইমার্জেন্সি হলে সব বৈধ।”

“মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে, স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা থাকলে ইসলামে সব বৈধ” যোগ করেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন:
সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।

রোজা রেখে ধূমপান করা যাবে

অবাক লাগলেও এটি সত্য যে অনেকে মনে করেন যে সিগারেট তো কোনও খাবার বা মাদক না, তাই রোজা রাখা অবস্থায় ধূমপান করা হলে রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার কোনও বিষয় নেই।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আলমের বক্তব্য, “ধূমপান শুধু রোজা থাকা অবস্থায় না, রোজা ছাড়াও হারাম। মাদকদ্রব্য অন্যের ক্ষতি করে না, এটি শুধু সেবনকারীর ক্ষতি করে। তারপরও মাদকদ্রব্য হারাম।”

“সেখানে ধূমপান নিজের ক্ষতি তো করেই, অন্যেরও ক্ষতি করে। এটি বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটা রোজায় না কেবল, রোজা ছাড়াও খাওয়া ঠিক না। আর যে ধূমপান করছে, সে তো এটা খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছে। অনেকে ভাতের পরিবর্তে সিগারেট খায়। তাই, এটি খেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।”

রান্না করার সময় স্বাদ বোঝার জন্য কিছুটা খাবার খেয়ে দেখতে হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রান্না করার সময় স্বাদ বোঝার জন্য কিছুটা খাবার খেয়ে দেখতে হয়।

রান্নার সময় খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা যাবে না

যিনি রান্না করেন, তাকে অনেকসময় রান্নার স্বাদ বোঝার জন্য কিছুটা খাবার খেয়ে দেখতে হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘরের রান্নাঘর সামলানোর কাছে নারীদের অংশগ্রহণই বেশি থাকে। তাই প্রায় প্রত্যেকের ঘরের মা বা বোন রান্নার সময় লবণ, ঝাল ইত্যাদি পরখ করে দেখেন।

কিন্তু এরকম কথাও অনেকে বলেন যে রোজা রেখে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করলে রোজা মাকরূহ হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলম বলেন, “খাবারের স্বাদ নেয়া যাবে। লবণ, ঝাল বা স্বাদ বোঝার জন্য জিহ্বায় লাগানো যায়, এরপর ফেলে দিতে হবে। রান্নাবান্না থেকে তো আর দূরে থাকা যাবে না।”

তবে তিনি এও বলেন যে, ঘরে যদি কম বয়সী বা রোজা রাখেনি, এমন কেউ থাকে; তাদেরকে দিয়ে খাবারের স্বাদ টেস্ট করালে সবচেয়ে ভালো হয়।

শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়।

কারা রোজা রাখবে?

ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে।

শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়।

তবে বাংলাদেশে অনেক পরিবারেই শিশুদেরকেও রোজা রাখার জন্য বলা হয় বা উৎসাহিত করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আলম বলেন, “অনেক শিশুরা রোজা রাখে। কারণ ইফতারের সময় ওদের জন্য উৎসবের আমেজ। তবে শিশুদের জন্য রোজার কোনও বিধান নাই।”

“নামাজের বিষয়ে বলা হয়েছে যে বাচ্চাদের সাত বছর হলে তাকে নামাজের কথা বলতে হবে। কিন্তু রোজার ব্যাপারে বলা হয়েছে, সাবালকত্ব এলে রোজা রাখা শুরু করে দিতে হবে।”