আগাম নির্বাচনের চাপ অনুভব করছিনা: খাদ্যমন্ত্রী

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমেনা মোহসিন, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমেনা মোহসিন, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ভালো ফল করলেও সরকার একে আগাম নির্বাচনের জন্য কোন চাপ হিসেবে দেখছেনা।

তার দাবি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছে বিএনপি এবং এখন দলটি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

তবে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবসময়ই দলীয় সরকারের অধীনে হয়। তাই এবার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন উপজেলা নির্বাচন চাপের মুখেও জনগণ দেখিয়েছে তারা আসলে কি চায়। মনে হচ্ছে সরকারকে আগাম নির্বাচন দিতেই হবে।

সংলাপের এ পর্বে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ দুর হয়েছে কি-না, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আরও তদন্ত সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন খাদ্য মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমেনা মোহসিন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিয়া আমীর।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মোসাম্মৎ রাসুদা আক্তার রাসু।

তিনি জানতে চান এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল কি আগাম নির্বাচনের দাবিকে জোরদার করেছে?

জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবসময়ই দলীয় সরকারের অধীনে হয়। সেজন্যই বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন দেখে মনে হচ্ছে আগাম নির্বাচন সরকারকে দিতে হবে”।

তিনি বলেন তারা যে শঙ্কা করছিলেন যে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না সেটি উপজেলা নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। মারামারি না হলে ফলাফল অন্যরকম হতো। মানুষ এতো চাপের মধ্যেও অধিকার প্রয়োগ করে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা কি চায়।

খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগাম নির্বাচনের দাবি জোরদার করছেনা। বিএনপি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ বেশি উপজেলায় জিতেনি কিন্তু সরকার জিতেছে”।

তিনি বলেন, “এ নির্বাচনের ফলশ্রুতিতে আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনাই নেই। তবে আমরা দলকে সংগঠিত করার চিন্তা করছি। দলের কোন্দল নিরসন করা দরকার। এটি নিয়ে আমরা চিন্তিত”।

আমেনা মোহসিন বলেন, "৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ অংশ নিতে পারেনি। জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন সেটি হয়নি। বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এখন এ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাই এগিয়ে আছে"।

তানিয়া আমির বলেন, "জনগণের অধিকার ভোট দেয়া। কেউ নির্বাচনে না গেলে জনগণ সে অধিকারের চর্চা করবে কিভাবে। যারা নির্বাচনে যায়নি তাদের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল সেটি এখন দৃশ্যমান"।

তিনি বলেন স্থানীয় নির্বাচনের সাথে জাতীয় নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অর্থহীন যদি সংসদ কার্যকর না হয়।

একজন দর্শক বলেন, “ উপজেলা নির্বাচনের ফল বিএনপির আগাম নির্বাচনের দাবি জোরদার করেনা। কারণ স্থানীয় সরকারের সাথে জাতীয় নির্বাচনের সম্পর্ক নেই”।

আরেক জন দর্শক বলেন, “সরকার যদিও জোর খাটাচ্ছে তবু বিএনপি ভালো করছে। দলটি জাতীয় নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে”।

জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে ?

সিরাজম মুনিরা জানতে চান বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ দুর হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কি জঙ্গিবাদের আবার উত্থান ঘটছে ?

তানিয়া আমির বলেন, “এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দল মত বাদ দিয়ে এ নিয়ে ঐক্য হওয়া উচিত। এটা কোন দলীয় বিষয় নয়। সন্ত্রাস দমন আইন এখনো কেন কার্যকর হচ্ছেনা”।

আমেনা মোহসিন বলেন, “এটা জাতীয় ইস্যু। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে। অনেকগুলো বিষয় এর সাথে জড়িত। যে কোন কারণগুলোতে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে সেগুলো কি এদেশ থেকে চলে গেছে?

একজন দর্শক বলেন, “জঙ্গিবাদ সবাই ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে। কেউ নির্মূলের চেষ্টা করছেনা।

কামরুল ইসলাম বলেন, “জঙ্গিবাদ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সম্পূর্ণ দমন হয়েছে এটা বলিনি। ত্রিশালের ঘটনা প্রমাণ করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী যে কোন সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ত্রিশালের ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ছিল। তিনজন জঙ্গিকে কি করে এভাবে পাঠানো হল। তবে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন কিন্তু সেটি হচ্ছেনা। ঐক্য না হলে জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা যাবেনা”।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “জঙ্গিবাদ শুরু হয়েছে যখন তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে বাংলা ভাই সহ জঙ্গিদের গ্রেফতার কররে ও বিচার হয়”।

তিনি বলেন জঙ্গিবাদ দমনে চারদলীয় জোট সরকার যত্নশীল ছিল। জঙ্গিবাদ একটি সমস্যা। এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। জামায়াত শিবিরের কথা বলবেন আবার তাদের নিষিদ্ধ করবেনা তা তো হতে পারেনা।

পিলখানা ষড়যন্ত্র

এস এম শিশির জানতে চান কথিত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কি আরও তদন্তের প্রয়োজন আছে ?

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “তদন্তের প্রয়োজন আছে। কারণ এর পিছনে নিশ্চয়ই কোন ষড়যন্ত্র ছিল। ষড়যন্ত্র ছাড়া এটা হতে পারেনা। বিদ্রোহ ষড়যন্ত্র ছাড়া হতে পারেনা। সেটা বের না হলে আসল কি ঘটনা সেটা জাতি জানতে পারবেনা”।

তানিয়া আমীর বলেন, “এখানে একটি সিরিয়ার ষড়যন্ত্র আছে। এটা শুধুই বিদ্রোহ না। এটাও মানবতা বিরোধী অপরাধ। যেভাবে নারী শিশু হত্যা হয়েছে অকল্পনীয়”।

আমেনা মোহসিন বলেন, “আরও তদন্ত ও স্বচ্ছতার প্রয়োজন ছিল। ঘটনাটি যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে সেটাও তদন্তের দাবি রাখে। এক ধরনের ব্যর্থতা ছিল সরকারের"।

তিনি বলেন, "অনেকে গ্রেফতারকৃত অবস্থায় মারা গেছে। এতো বড়ো ঘটনা ষড়যন্ত্র ছাড়া হয়না”।

কামরুল ইসলাম বলেন, " দুটো বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্রোহ আর হত্যাকাণ্ডের। বিচারটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হয়েছে। এর নেপথ্যে বিরাট ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। নেপথ্যে নায়কদের বিচার এখনো করতে পারিনি"।

তিনি বলেন সরকার তদন্ত করে নেপথ্য নায়কদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।”

মতামত দিচ্ছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, মতামত দিচ্ছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী একটি আধুনিক,সুশৃংখল ও সুসংঘবদ্ধ রাজনৈতিক দল, বর্তমান সরকার দ্বারা এত জুলুম-র্যিাতন ভোগ করার পরও তাদের হাতে কোন ধরণের মারণাস্ত্র দেখা যায়নি,অথচ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করে, কুপিয়ে, পিটিয়ে, গলাকেটে বিরোধী মতাদর্শের অহর অহর লোক-জনকে হত্যা করছে।

নুর মোহাম্মদ মজুমদার, দোহা, কাতার

ব্যারিস্টার তানিয়া আমীরের দুটি কথা প্রথমে উদ্ধৃত করছি। ১.জনগণের অধিকার ভোট দেয়া। ২.অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অর্থহীন,যদি সংসদ কার্যকর না হয়। ওনার প্রথম কথাতেই জনগণকে চরমভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করি,জনগণের অধিকার কি শুধুই ভোট দেয়া? নাকি তাদের বিবেচনায় যাকে ভাল মনে হয়, তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে সুযোগ পাওয়াই তাদের অধিকার? অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে কার্যকর সংসদ গঠিত হয় বলে আপনার মনে হয় না। তাহলে, আপনি কি বলতে চাইছেন,ব র্তমানে গঠিত এক দলীয় সংসদই বেশি কার্যকর?

কামিনী আক্তার, ঢাকা

আমি মনে করি বারে বারে জঙ্গিবাদের কথা বলা হলেও সরকারের আসলে জঙ্গিবাদ দমনে নূন্যতম সদিচ্ছা নাই। যার প্রমাণ ত্রিশালে ঘটে যাওয়া দুধর্ষ ঘটনার পরপরই সরাকারের মন্ত্রী-এমপিদের অপরিণামদর্শী বক্তব্য। ঘটনার দিন এবং কয়েকদিন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা “এর সাথে সরাসরি বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার” কথা বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন, সংসদকে উত্তপ্ত করেছেন। অথচ সর্বশেষ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

মো. এ জেড লিমন, ঢাকা