হিন্দুদের ওপর হামলা: এবার নওগাঁর দুটি গ্রামে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর, কালীপূজার আগে আতঙ্কে হিন্দুরা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার দুটি গ্রামে সোমবার রাতে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
খবর শুনে আজ মঙ্গলবার সকালেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হামিদ রেজাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মি. হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন এবং এখন এর জন্য জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, মন্দিরগুলোতে ঢুকে প্রতিমা ভাংচুরের এমন ঘটনা ওই অঞ্চলে অনেকটাই নজিরবিহীন।
তবে, এ ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন সারা দেশের প্রশাসন ও পুলিশ গত ১৩ই অক্টোবর কুমিল্লায় একটি মন্দিরে কোরআন পাওয়ার পর সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির মণ্ডপ ও বাড়িঘরে দুর্গাপূজার সময় যে হামলা হয়েছে তার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার থেকেও দফায় দফায় হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তাদের পাশে থাকা এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

হিন্দু নেতা হতাশ ও বিভ্রান্ত
পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ বলছেন, সরকার যা বলছে আর মাঠে যা হচ্ছে তাতে তারা রীতিমত হতাশ ও বিভ্রান্ত।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় যে সহিংসতা হয়েছে তা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছিল, সেটি তাদের বিস্মিত করেছিল এবং তাদের প্রতিবাদের পরেও সেটিই এখন বিদেশি মিশনগুলোতে দেয়া হচ্ছে।
মি. দেবনাথ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছেন তাতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় যে, সরকারকে বিব্রত করতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৃত্যু ও ধর্ষণের গল্প ছড়ানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে সহিংসতায় যে দুজন হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে তাদের একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু আর অন্যজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে এ বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র সমালোচনা করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।
তবে ওই বিবৃতিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে সরকারের যে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে তাও বলেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
'নওগাঁর ঘটনাও আগের হামলাকারী চক্রেরই কাজ'
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের নানা পর্যায় থেকে হিন্দুদের আশ্বস্ত করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
কিন্তু এরপরেও হামলা বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন বলছেন ''নওগাঁর ঘটনাও আগের হামলাকারী চক্রেরই কাজ যারা এখন বিচ্ছিন্নভাবে হামলার কৌশল নিয়েছে''।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে যা সরকার কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করছে।
যদিও বিএনপি প্রথম থেকেই এ ধরণের ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করছে ও নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
'কী জবাব দেব আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে?'
ওদিকে সম্প্রতি নোয়াখালীর চৌমুহনীতে হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সহায়তা দেয়ার এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সম্পৃক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন।
তবে একই সাথে তিনি কেন তার দলের স্থানীয় নেতারা হামলার সময় হিন্দুদের পাশে না দাঁড়িয়ে নীরব ছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, "এতগুলো মণ্ডপ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলো চৌমুহনীতে আপনারা কি নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন? একটা প্রতিরোধও তো হলো না। এটা আমাকে দু:খ দিয়েছে। নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে আমি নিজে লজ্জা পেয়েছি। কী জবাব দেব আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে?"
মি. কাদের অবশ্য হিন্দু সম্প্রদায়কে অভয় দিয়ে ও আশ্বস্ত করে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকার তাদের পাশেই আছে ও থাকবে।
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:








