তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ে ভাঙন, ইন্টারনেট বন্ধের পেছনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব উন্মোচন করল বিবিসি

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
- Author, বিবিসি আফগান
তালেবান নেতার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় কী- সেটি প্রকাশ পায় বিবিসির হাতে আসা এক অডিও বার্তায়।
সেটি বাইরের কোনো হুমকি বা বিপদ নয়, বরং আফগানিস্তানের ভেতর থেকেই সে সংকট তৈরি হয়েছে। আগেকার সরকারের পতন এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের পর ২০২১ সালে তালেবানদের দখলে যায় আফগানিস্তান।
তালেবান শীর্ষ নেতা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, দেশ পরিচালনার জন্য তালেবান যে ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখানে 'সরকারের ভেতরের লোকজন' একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শোনা যায়, সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এক বক্তৃতায় বলছেন, অভ্যন্তরীণ এই মতবিরোধ একসময় তাদের সবাইকে ডুবিয়ে দিতে পারে।
"এই বিভাজনের ফলেই আমিরাত ভেঙে পড়বে এবং শেষ হয়ে যাবে" সতর্ক করেন তিনি।

ছবির উৎস, AFP / Universal Images Group via Getty
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার শহরের একটি মাদ্রাসায় তালেবান সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এই বক্তৃতা কয়েক মাস ধরে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে আরও উসকে দেয় যে তালেবানের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে মতবিরোধ রয়েছে।
এই বিভক্তির কথা তালেবান নেতৃত্ব সব সময়ই অস্বীকার করেছে, সেটা বিবিসি সরাসরি প্রশ্ন করার সময়েও।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
তবে এই গুজবই বিবিসির আফগান সার্ভিসকে অত্যন্ত গোপনীয় এই গোষ্ঠী নিয়ে এক বছরব্যাপী অনুসন্ধান শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করে।
এই অনুসন্ধানে বিবিসি ১০০টির বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন তালেবানের বর্তমান ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সূত্র, বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিক।
এই প্রতিবেদনের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিবিসি কারও নাম প্রকাশ না করতে সম্মত হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো আমরা তালেবানের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে দুটি ভিন্ন স্বতন্ত্র গোষ্ঠীর এক ধরনের মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছি, যারা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করে।
একটি অংশ পুরোপুরি আখুন্দজাদার অনুগত, যিনি কান্দাহারের ঘাঁটি থেকে আফগানিস্তানকে এক কঠোর ইসলামি আমিরাতের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এটি আধুনিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, এবং যেখানে তার প্রতি অনুগত ধর্মীয় ব্যক্তিরা সমাজের প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করেন।
অন্য অংশটি মূলত রাজধানী কাবুলে অবস্থানরত শক্তিশালী তালেবান সদস্যদের নিয়ে গঠিত। তারা এমন একটি আফগানিস্তানের পক্ষে কথা বলেন যা ইসলামকে কঠোরভাবে অনুসরণ করবে ঠিকই, তবে একই সঙ্গে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, দেশের অর্থনীতি গড়ে তুলবে, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরেও মেয়ে বা নারীদের শিক্ষার সুযোগ দেয়ার কথা ভাববে যারা এখন বঞ্চিত।
একজন অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি এটিকে 'কান্দাহারের ঘর বনাম কাবুল' বলে বর্ণনা করছিলেন ।
তবে সব সময়ই প্রশ্ন ছিল যে তালেবান মন্ত্রিসভার সদস্য, শক্তিশালী যোদ্ধা এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত কাবুল গোষ্ঠী, যাদের পেছনে হাজার হাজার তালেবান সমর্থক রয়েছে—তারা কি কখনো ক্রমশ আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা আখুন্দজাদাকে সত্যিকারের কোনো চ্যালেঞ্জ জানাবে? যেমনটা তার বক্তৃতায় ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
কারণ তালেবানের মতে, আখুন্দজাদা হলেন তাদের গোষ্ঠীর চূড়ান্ত শাসক, যিনি শুধু আল্লাহর কাছেই দায়বদ্ধ এবং তাকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।
এরপর এমন একটি সিদ্ধান্ত আসে যা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের মধ্যে চলা সূক্ষ্ম টানাপোড়েনকে সরাসরি মতাদর্শের সংঘাতে পরিণত করে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আখুন্দজাদা ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দেন, যার ফলে আফগানিস্তান কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তিন দিন পর ইন্টারনেট আবার চালু হয়। কেন, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
কিন্তু পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল, তা ছিল ভূমিকম্পের মতো, এমনটাই বলছেন ভেতরের লোকজন। কাবুল গোষ্ঠী আখুন্দজাদার আদেশ অমান্য করে ইন্টারনেট আবার চালু করে দেয়।
আফগানিস্তান বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এক বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন, "তালেবান অন্য যেকোনো আফগান রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর তুলনায় ব্যতিক্রম, কারণ তাদের মধ্যে বড় কোনো বিভাজন ছিল না, এমনকি খুব বেশি মতবিরোধও দেখা যায়নি।"
তিনি আরও বলেন, "এই আন্দোলনের ডিএনএ-তেই ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্যের নীতি রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত আমিরের, অর্থাৎ আখুন্দজাদার প্রতি। তাই তার স্পষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে ইন্টারনেট আবার চালু করা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।"
একজন তালেবান অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষায়, এটি বিদ্রোহের চেয়ে কম কিছু ছিল না।
একজন ধর্মবিশ্বাসী ব্যক্তি

হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নেতৃত্বের শুরুটা এমন ছিল না।
বরং সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালে তাকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে একটি কারণ ছিল তার ঐক্যমত্য তৈরি করতে পারার সক্ষমতা।
নিজের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা না থাকায়, তিনি ডেপুটি বা সহকারী হিসেবে সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে বেছে নেন, যিনি একজন ভয়ংকর যোদ্ধা কমান্ডার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন, যার মাথার জন্য ১ কোটি ডলার (প্রায় ৭.৪ মিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় সহকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে ইয়াকুব মুজাহিদকে। বয়সে তরুণ হলেও তালেবান বংশের রক্ত আর আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করার সম্ভাবনা তার মধ্যে ছিল।
তালেবান যোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যেকার ২০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দোহায় যে আলোচনা চলছিল, তার পুরো সময়জুড়ে তালেবানের এই ব্যবস্থাই অব্যাহত ছিল।
২০২০ সালে হওয়া সেই চুক্তির ফলেই তালেবান হঠাৎ এবং নাটকীয়ভাবে আবার পুরো দেশ পুনরুদ্ধার করে এবং ২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনাদের বিশৃঙ্খলভাবে প্রত্যাহার করতে হয়।

ছবির উৎস, Los Angeles Times via Getty Images
বহির্বিশ্বের কাছে তখন তালেবান ছিল একদম ঐক্যবদ্ধ।
কিন্তু বিবিসিকে ভেতরকার সূত্রগুলো জানায়, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পরপরই দুই ডেপুটিকে নীরবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নামিয়ে দেওয়া হয়, আর আখুন্দজাদা নিজেই হয়ে ওঠেন একক ক্ষমতার কেন্দ্র।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া তালেবানের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল গনি বারাদারও শেষ পর্যন্ত উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদেই সীমাবদ্ধ থাকেন। যদিও অনেকেই আশা করেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এর বদলে, আখুন্দজাদা রাজধানী কাবুল এড়িয়ে তালেবানের শক্ত ঘাঁটি কান্দাহারেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজের চারপাশে বিশ্বাসযোগ্য মতাদর্শিক নেতা ও কট্টরপন্থীদের একজোট করতে শুরু করেন।
অন্য অনুগতদের দেওয়া হয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনী, ধর্মীয় নীতি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রণ।
"(আখুন্দজাদা) শুরু থেকেই নিজের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন" বলছিলেন একজন সাবেক তালেবান সদস্য, যিনি পরে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারেও কাজ করেছেন।
"যদিও প্রথম দিকে তেমন সুযোগ ছিল না, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে তা করেন, নিজের কর্তৃত্ব ও অবস্থান ব্যবহার করে ধীরে ধীরে নিজের বলয় বাড়ান," বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।
আখুন্দজাদা তার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল রেখে মন্ত্রিসভা তার অনুগতদের দিয়ে পূর্ণ করেছেন, তবে যাদের 'কাবুল গোষ্ঠী' হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এখানে দুই গোষ্ঠীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্যদের দেখানো হয়েছে।

কাবুলে থাকা তালেবান মন্ত্রীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই কান্দাহার থেকে বিভিন্ন ফরমান জারি হতে থাকে। ক্ষমতা গ্রহণের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতিও খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যেমন মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়া।
নারীদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করা এবং নারীদের কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, এই দুটিই এখন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে 'উত্তেজনার প্রধান উৎস' এমনটি একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেই চিঠি ডিসেম্বরে জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদে পাঠিয়েছিল।
এদিকে ভেতরের আরেক সূত্র বিবিসিকে বলেন, ১৯৯০–এর দশকে তালেবানের শরিয়া আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ শুরু করা আখুন্দজাদা তার ধর্মীয় বিশ্বাসে ক্রমেই 'আরও বেশি কঠোর' হয়ে উঠছিলেন।
২০১৭ সালে তার ছেলের মৃত্যুর পর দুইজন তালেবান কর্মকর্তা জানান, আখুন্দজাদার আদর্শ এমন ছিল যে তিনি শুধু সে ব্যাপারে জানতেনই না, বরং নিজ সন্তানের আত্মঘাতী হামলাকারী হওয়ার সিদ্ধান্তে অনুমোদনও দিয়েছিলেন।
এছাড়া বিবিসিকে বলা হয়েছে, আখুন্দজাদা বিশ্বাস করেন- তার ভুল কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন এরপরও থেকে যাবে।
"তিনি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বলেন, আমি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করছি। বিচারের দিনে আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কেন আমি কোনো পদক্ষেপ নেইনি," ব্যাখ্যা করেন বর্তমান তালেবান সরকারের একজন কর্মকর্তা।
আখুন্দজাদার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তি বিবিসিকে বর্ণনা করেন, তারা এমন এক মানুষের মুখোমুখি হয়েছিলেন যিনি খুব কম কথা বলেন। তিনি মূলত ইশারার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন, আর কক্ষে থাকা বয়স্ক আলেমদের একটি দল সেই ইশারার ব্যাখ্যা করে দেন।
অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনসমক্ষে তিনি নিজের মুখ আড়াল করে রাখেন। পাগড়ির ওপর ঝোলানো কাপড় দিয়ে চোখ ঢেকে রাখেন এবং শ্রোতাদের উদ্দেশে কথা বলার সময় প্রায়ই কাত হয়ে দাঁড়ান। আখুন্দজাদার ছবি তোলা বা ভিডিও করা নিষিদ্ধ। তার মাত্র দুটি ছবিই আছে বলে জানা যায়।
তার সাক্ষাৎ পাওয়াও এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আরেকজন তালেবান সদস্য বিবিসিকে জানান, আখুন্দজাদা আগে 'নিয়মিত পরামর্শ সভা' করতেন, কিন্তু এখন "বেশিরভাগ তালেবান মন্ত্রীকে দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়।"
আরেকটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, কাবুলে থাকা মন্ত্রীদের বলা হয়েছে "শুধু সরকারি আমন্ত্রণ পেলে তবেই কান্দাহারে যেতে হবে"।
একই সময়ে, আখুন্দজাদা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো কান্দাহারে সরিয়ে নিচ্ছিলেন, এর মধ্যে অস্ত্র বিতরণও রয়েছে, যা আগে তার সাবেক ডেপুটি হাক্কানি ও ইয়াকুবের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ডিসেম্বরে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল তাদের এক চিঠিতে উল্লেখ করে, আখুন্দজাদার "ক্ষমতা সংহত করার প্রক্রিয়ায় কান্দাহারের নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক শক্তিশালীকরণও অন্তর্ভুক্ত"।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আখুন্দজাদা কাবুলের মন্ত্রীদের পাশ কাটিয়ে স্থানীয় পুলিশ ইউনিট পর্যন্ত সরাসরি আদেশ জারি করেন।
একজন বিশ্লেষকের মতে, এর ফল হলো "প্রকৃত কর্তৃত্ব কান্দাহারে স্থানান্তরিত হয়েছে।" তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসির কাছে এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, "সব মন্ত্রীদের ক্ষমতা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর মধ্যে রয়েছে, তারা দৈনন্দিন কাজ করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন, সব ক্ষমতাই তাদের কাছে অর্পিত, এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।"
তবে তিনি এটাও যোগ করেন, "শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি (আখুন্দজাদা) নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী," এবং "আল্লাহ নিষিদ্ধ বিভাজন এড়াতে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।"
যারা 'পৃথিবী দেখেছে'
কাবুল গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল এবং জোট আরও শক্ত হচ্ছিল।
"তারা (কাবুল গোষ্ঠী) এমন মানুষ, যারা পৃথিবী দেখেছে। তাই তারা মনে করে, বর্তমান কাঠামোতে তাদের সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারবে না" বিবিসিকে বলেন একজন বিশ্লেষক।
কাবুল গোষ্ঠী এমন একটি আফগানিস্তান দেখতে চায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মডেলের দিকে এগিয়ে যাবে।
তারা যেসব বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন তার মধ্যে রয়েছে কান্দাহারে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা, নৈতিকতা সংক্রান্ত আইনগুলোর ধরন ও প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক, এবং নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান।

কপিরাইট: BBC
তবে আফগান নারীদের জন্য আরও বেশি অধিকার চাওয়ার কথা বললেও, কাবুল গোষ্ঠীকে 'মধ্যপন্থী' বলা হয় না।
বরং অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো তাদের দেখেন 'বাস্তববাদী' হিসেবে। এই গোষ্ঠীর অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে রয়েছেন তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বারাদার, যিনি এখনো ব্যাপক আনুগত্য ধরে রেখেছেন। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে 'আব্দুল'কে 'তালেবানের প্রধান' বলে উল্লেখ করেছিলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি সেই ব্যক্তি। বাস্তবে, তিনিই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের প্রধান আলোচক।
কাবুল গোষ্ঠীর অবস্থানের এই পরিবর্তন লোকের নজর এড়ায়নি। একজন বিশ্লেষক বলেন, "আমরা মনে করি, তারা (কাবুলভিত্তিক তালেবান নেতারা) একসময় টেলিভিশন ভাঙচুর করত, আর এখন নিজেরাই টিভিতে হাজির হচ্ছে।"
তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিও বোঝে।
সাবেক ডেপুটি ইয়াকুবের বাবা তালেবানের প্রথম দিকের শাসনামলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যখন গান ও টেলিভিশন নিষিদ্ধ ছিল। এখন সেই ইয়াকুব তরুণ তালেবান সদস্য ও কিছু সাধারণ আফগানের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। টিকটকের প্রশংসামূলক ভিডিও এবং তার মুখ আঁকা পণ্যসামগ্রীতেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে এদিক দিয়ে তার সহকর্মী সাবেক ডেপুটি সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে সবচেয়ে সফল বলা যায়। নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরতে তার মতো আর কেউ এতটা কার্যকর ছিল না।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধে তার নেটওয়ার্ক যে মারাত্মক ও জটিল হামলাগুলো চালিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ২০১৭ সালে কাবুলে জার্মান দূতাবাসের কাছে ট্রাক বোমা হামলা। এতে ৯০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হন, সেগুলো তাকে সমর্থকদের চোখে প্রায় কিংবদন্তির মর্যাদায় পৌঁছে দেয়।
সেই সময় তার মাত্র একটি পরিচিত ছবি ছিল, যেটি তুলেছিলেন একজন বিবিসি আফগানের সাংবাদিক।

ছবির উৎস, FBI
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের ছয় মাস পর, হাক্কানি কাবুলে পুলিশ সদস্যদের এক সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে হাজির হন, মুখ খোলা অবস্থায়।
এটাই ছিল তার নতুন ভাবমূর্তির প্রথম ধাপ: যিনি আর যোদ্ধা নন, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক—যার সঙ্গে ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক টাইমস বসে সাক্ষাৎকার নেয় এবং প্রশ্ন তোলে: তিনি কি আফগানিস্তানের পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আশা?
এর মাত্র কয়েক মাস পরই, এফবিআই নীরবে তার মাথার ওপর থাকা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।
তবু বিশ্লেষক ও ভেতরের সূত্রগুলো বারবার বিবিসিকে বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আখুন্দজাদার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া অসম্ভব।
তার ফরমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দৃশ্যমান বিরোধিতাগুলোও ছিল ছোট ও সীমিত—যেমন, কাবুল গোষ্ঠীঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দাড়ি কামানোর নিষেধাজ্ঞার মতো নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ না করা। কিন্তু বড় ধরনের বিদ্রোহকে সব সময়ই অকল্পনীয় মনে করা হয়েছে।
একজন সাবেক তালেবান সদস্য বিবিসিকে জোর দিয়ে বলেন, "(আখুন্দজাদার) প্রতি আনুগত্য বাধ্যতামূলক বলে বিবেচিত হয়।"
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাক্কানি নিজেও প্রকাশ্য বিভক্তির সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন।
"একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গোড়ে তুলতে বর্তমানে আফগানিস্তানের জন্য ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ" বলেন তিনি।
বরং একজন বিশ্লেষকের মতে, কাবুল গোষ্ঠী 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আফগান জনগণের কাছে একটি বার্তা' পাঠাতে চাইছে, যার অর্থ "আমরা আপনাদের অভিযোগ ও উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত, কিন্তু আমরা কীই বা করতে পারি?"
অন্তত ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক এমনই ছিল।
সংকটের মোড়

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ইন্টারনেটের ব্যাপারে গভীর অবিশ্বাস বা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তাঁর বিশ্বাস, ইন্টারনেটের বিষয়বস্তু ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী। তার এই বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় যে, প্রতিদিন সকালে একজন সহকারী তাঁকে সর্বশেষ খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পড়ে শোনান, বিবিসিকে এমনটা জানিয়েছিলেন তার একজন মুখপাত্র।
কাবুল গ্রুপের বিশ্বাস, ইন্টারনেট ছাড়া কোনো আধুনিক দেশ টিকে থাকতে পারে না।
সর্বোচ্চ নেতার ইন্টারনেট বন্ধের আদেশ প্রথমে আখুন্দজাদার মিত্রদের নিয়ন্ত্রিত প্রদেশগুলোতে কার্যকর হয়, এরপর তা পুরো দেশে বিস্তৃত করা হয়।
কাবুল গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং তালেবান সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, এরপর যা ঘটেছিল তা ছিল তালেবানের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন এক ঘটনা।
"এটা আন্দোলনের অনেক সদস্যকেই বিস্মিত করেছিল," এক সূত্র বলেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, কাবুল গ্রুপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে কাবুলভিত্তিক প্রধানমন্ত্রী মোল্লা হাসান আখুন্দকে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিতে রাজি করান।
প্রকৃতপক্ষে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই এই আদেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কাবুল গ্রুপ। এই দলটির কার্যত নেতা বারাদার, কান্দাহারে গিয়ে আখুন্দজাদার একনিষ্ঠ গভর্নরদের একজনকে সতর্ক করে বলেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে 'জাগিয়ে তোলা' দরকার এবং তারা যেন আর তার 'হ্যাঁ-মানব' হয়ে না থাকেন।
"আপনারা তাঁকে সরাসরি সত্য বলেন না; তিনি যা বলেন, সেটাই শুধু বাস্তবায়ন করেন।" বারাদার একথা বলেছিলেন বলে কান্দাহার উলামা কাউন্সিলের এক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়। সূত্রটি জানায়, তাঁর এই বক্তব্য গুরুত্ব পায়নি।
সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে সরাসরি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ আসে যে সবকিছু বন্ধ করে দিতে হবে। "কোনো অজুহাত" গ্রহণ করা হবে না, মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বিবিসিকে জানান।
বুধবার সকালে, বারাদার, হাক্কানি ও ইয়াকুবসহ কাবুল গ্রুপের একদল মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রীও। সেখানে তারা কান্দাহারঘনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার এবং আদেশটি বাতিল করার আহ্বান জানান। এক সূত্রের মতে, তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে এর সম্পূর্ণ দায়ভার তারাই নেবেন।
এটিতে কাজ হয়। ইন্টারনেট ফিরে আসে।
কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কয়েক দিনের মধ্যেই যেন আখুন্দজাদা কয়েক মাস আগে যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে: তালেবানের ঐক্য হুমকির মুখে পড়েছিল।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
কিন্তু কেন এই আদেশ? একজন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো আদেশের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তালেবান সদস্যরা এতদিন আখুন্দজাদাকে মেনে চলতে রাজি ছিলেন।
এদিকে, যারা আগে প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অনেককেই এর মূল্য দিতে হয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছিলেন, নেতৃত্ব "দুই কোটি মানুষের বিরুদ্ধে অবিচার' করে 'সৃষ্টিকর্তার পথ থেকে সরে যাচ্ছে' যা নারীদের শিক্ষাব্যবস্থার নিষেধাজ্ঞার প্রতি ইঙ্গিত ছিল। এরপর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে মেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত আখুন্দজাদার আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর অন্তত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এমন প্রমাণও আছে যে আখুন্দজাদা ও তার মিত্ররা হাক্কানির মতো ব্যক্তিদের কাছেই রাখতে চাচ্ছিলেন, যদিও হাক্কানি প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের সমালোচনা করেছিলেন।
তবুও, কথা থেকে কাজে নেমে এত দৃঢ়ভাবে একটি আদেশ অমান্য করা ছিল একেবারেই ভিন্ন স্তরের ঘটনা।
একজন বিশেষজ্ঞ যেমন উল্লেখ করেছেন, এবার হয়তো ঝুঁকি নেওয়াটা সার্থক মনে হয়েছিল।
এই মন্ত্রীদের পদ মানে ছিল ক্ষমতা এবং 'অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা,' কিন্তু দুটোই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল, যা শাসন ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
"ইন্টারনেট বন্ধ করায় তাদের সুযোগ-সুবিধাকে এমনভাবে হুমকির মুখে ফেলেছিল, যা নারীদের শিক্ষা বন্ধ করার কারণে কখনোই হয় নি," বলছিলেন সে বিশ্লেষক।
"হয়তো এ কারণেই সেদিন তারা 'সাহসী' হয়েছিল।"
ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর, কী ঘটতে পারে তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়।
কাবুল গ্রুপের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র বলেন, ধীরে ধীরে এসব মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া বা পদাবনতি করা হবে।
তবে কান্দাহার উলামা কাউন্সিলের এক সদস্য বলেন, সম্ভবত সর্বোচ্চ নেতাই পিছু হটেছিলেন—"কারণ তিনি এমন বিরোধিতাকে ভয় পান"।
বছর শেষ হওয়ার দিকে প্রকাশ্যে দেখে মনে হচ্ছিল, কিছুই বদলায়নি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, "কান্দাহার এবং কাবুলের নেতাদের মধ্যে বিভাজনকে কিছু সদস্য রাষ্ট্র পারিবারিক বিরোধের মতো খাটো করে দেখেছে, যা বিদ্যমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কারণ সব শীর্ষ নেতা তালেবান প্রকল্পের সাফল্যে বিনিয়োগ করেছেন"।
তালেবান সরকারের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ স্পষ্টভাবে যেকোনো বিভাজনের কথা অস্বীকার করেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে তিনি বিবিসিকে বলেন, "আমরা কখনোই নিজেদের বিভক্ত হতে দেব না। সব কর্মকর্তা ও নেতৃত্ব জানেন যে বিভাজন সবার জন্য ক্ষতিকর, আফগানিস্তানের জন্য ক্ষতিকর, ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ এবং আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ।"
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে তালেবানের ভেতরে মতের 'পার্থক্য' আছে, কিন্তু সেটিকে তিনি "একটি পরিবারের ভেতরের মতভেদের" সঙ্গে তুলনা করেন।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সেই "পার্থক্য" আবার প্রকাশ্যে দেখা যায়।
হাক্কানিকে তার নিজ প্রদেশ খোস্তে শুক্রবারের নামাজের জনসমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় ভিডিও করা হয়। তিনি বলছিলেন, "যে কেউ জাতির আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে পরে সেই জাতিকেই ভুলে যায় বা পরিত্যাগ করে, সে সরকার নয়।"
একই দিনে, আখুন্দজাদার অনুগত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী নেদা মোহাম্মদ নাদেম পাশের একটি প্রদেশের মাদ্রাসায় স্নাতক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, "শুধু একজনই নেতৃত্ব দেন, বাকিরা আদেশ পালন করে, এটাই প্রকৃত ইসলামি সরকার। যদি অনেক নেতা থাকে, তাহলে সমস্যা সৃষ্টি হবে এবং আমরা যে সরকার অর্জন করেছি, তা ধ্বংস হয়ে যাবে।"
ইন্টারনেট নিয়ে বিরোধের পর, এসব সাম্প্রতিক মন্তব্য ২০২৫ সালের শুরুতে ফাঁস হওয়া অডিওতে আখুন্দজাদার বক্তব্যের সাথে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে।
তবুও, ২০২৬ সাল কি সেই বছর হবে, যখন কাবুল গ্রুপ আফগানিস্তানের নারী ও পুরুষদের জন্য অর্থবহ পরিবর্তনের পথে হাঁটবে কিনা সেটা এখনও বিতর্কের বিষয়।
"সব সময়ের মতোই… আমিরাতের শীর্ষ স্তরে প্রকাশ্য মতবিরোধের পর প্রশ্ন থেকে যায়, কখনো কি কথা কাজে রূপ নেবে?" একজন বিশ্লেষক বলছিলেন "তারা এখনও করেনি।"
সম্পাদনা ও প্রযোজনা: জিয়া শাহরিয়ার, ফ্লোরা ড্রুরি এবং বিবিসি আফগান ফরেনসিকস টিম।




