নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতির পরেও বিপিএল স্থগিত, স্টেডিয়াম ভাংচুর- দিনভর যা ঘটলো

ছবির উৎস, BCB/SCREEN GRAB
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ- বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, বলছে ক্রিকেট বোর্ডের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র। এই ইস্যুতে দলগুলোর মালিক পক্ষ ও বিপিএলের গভর্নিং বডির বৈঠকের পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে মন্তব্য করার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এক হয়ে জানিয়েছিল, বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে না সরালে তারা আর মাঠে নামছে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে পরীক্ষিত 'ভারতের এজেন্ট' বলে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসা বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জের ধরে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন 'ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' বা কোয়াবের অন্তর্ভুক্ত ক্রিকেটাররা।
পরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং বোর্ডের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে এম নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে সভাপতিকে দেওয়া ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিসিবি বলছে, বোর্ডের কার্যক্রম যেন স্বাভাবিক ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই ফাইন্যান্স কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এই ঘোষণার পরেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের কোনও ম্যাচই মাঠে গড়ায়নি বৃহস্পতিবার।
বিসিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের স্বার্থই বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বোর্ডের আওতাধীন সব ক্রিকেটারের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলমান সংকটের মধ্যেও ক্রিকেটাররা যেন পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখেন, সে প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
একই সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছিল বিসিবি।
এই ঘোষণা এসেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে, এদিনই বিপিএলের ঢাকা পর্ব মাঠে গড়ানোর কথা ছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বনানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্রিকেটারদের সামনে খেলা বর্জন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব খেলা বয়কটের পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে পাঁচটি কারণ তুলে ধরে।
এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের চলমান সংকট দ্রুত সমাধান করা, নারী ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এবং নারী ক্রিকেটারদের সুযোগ–সুবিধা বাড়ানো।
পাশাপাশি বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি এবং বিপিএল থেকে অঘোষিতভাবে বাদ পড়া নয়জন ক্রিকেটারকে কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়।
কোয়াব নেতারা জানান, এসব দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকায় ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে।
দাবি মানা না হলে দেশের ক্রিকেটে অচলাবস্থা আরও গভীর হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
ক্রিকেটাররা খেলতে প্রস্তুত থাকলেও ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Screen Grab
স্টেডিয়ামে ভাংচুর, বিশৃঙ্খলা
এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ে মাঠে। ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে বিপিএলে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দুটি ম্যাচের একটিও মাঠে গড়ায়নি।
খেলা বন্ধ থাকায় স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে থাকা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে কিছু মানুষ স্টেডিয়ামের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে স্টেডিয়ামের সামনে বিসিবির বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।
বিপিএলের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মুখোমুখি অবস্থানে দেশের ক্রিকেট এক অনিশ্চিত সময় পার করছে।
আলোচনা ও সমাধানের পথ না খুললে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে কী বলছে কোয়াব?
চলতি বছরের শুরু থেকেই একের পর এক ঘটনায় আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রিকেট।
মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ পড়া, এরপর বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত এবং সবশেষ বিপিএল বয়কট- প্রায় প্রতিদিনই নতুন কোনো ইস্যু সামনে আসছে।
এসব ঘটনার সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছিল, কোনো কারণ ছাড়াই মোস্তাফিজকে কেকেআর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় কোয়াব কেন তখন কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। এ বিষয়ে বুধবার ব্যাখ্যা দিয়েছে সংগঠনটি।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি মূলত মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত ইস্যু এবং পুরো বিষয়টি সেখান থেকে শুরু হয়নি।
তবে পরে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি জানান, মোস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এ নিয়ে জুমে বৈঠকও হয়।
মিঠুন বলেন, খেলোয়াড় কী চায়, সেটি জানার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল। ডব্লিউসিএ আশ্বাস দিয়েছিল, খেলোয়াড় যা চাইবে তারা সে অনুযায়ী সহযোগিতা করবে।
কোয়াব সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজকে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আগ্রহ দেখাননি।
পরিস্থিতি দিনে দিনে জটিল হয়ে ওঠায় মোস্তাফিজ বিষয়টি আর বাড়াতে চাননি। সে কারণেই কোয়াব আর নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মিঠুন আরও বলেন, মোস্তাফিজ সম্মতি দিলে কোয়াব আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারত। তবে খেলোয়াড় নিজেই না চাইলে জোর করে এগোনোর সুযোগ ছিল না।
এদিকে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান কোয়াব সভাপতি।
তিনি বলেন, কোয়াবের দায়িত্ব মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সংগঠনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা। প্রতিটি ইস্যুতে বোর্ডকে জানানো কোয়াবের বাধ্যবাধকতা নয়।








