গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্ন তৈরি করছে?

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো 'না ভোট' চালু হয়

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো 'না ভোট' চালু হয়
    • Author, জান্নাতুল তানভী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে জোরেশোরে প্রচারণা চালাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সাথে গণভোটের ভোটগ্রহণও করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেইজে গণভোটের 'হ্যাঁ'- তে সিল দিন এ রকম একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার পাশাপাশি ভিডিও চিত্রেও জনগণকে হ্যাঁ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই ভিডিওচিত্রে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী, নিহতদের পরিবারের সদস্য, গুম কমিশনের সদস্যের বরাতে 'হ্যাঁ' ভোট কেন দিতে হবে সেটির ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

একইসাথে 'হ্যাঁ' ভোট দিলে কী পাওয়া যাবে সেটির বিস্তারিত উল্লেখ করে, 'না' ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না এমন প্রচারণাও চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এমনকি ব্যাংক কর্মকর্তা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে 'হ্যা' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে একটি নির্বাচন আয়োজন করা, সেখানে গণভোটে একটি পক্ষে প্রচারণা চালানোয় কি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট পক্ষ বা অবস্থান নিলেও নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র গণভোটের বিষয়বস্তু এবং কিভাবে ' হ্যাঁ ', ' না ' ভোট দেওয়া যাবে সেই নির্দেশনা দিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে।

কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ডিসি, ইউএনও যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন, তারা এই প্রচারণা করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

গণভোটে তাদের অবস্থানের কারণে জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে এবং আইনানুযায়ী শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন বলে জানান সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, সরকারের এমন প্রচারণা চালাতে আইনি বাধা নেই বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করলেও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপাতদৃষ্টিতে আইনি বাধা না থাকলেও অতীতের অন্যান্য প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও এর ফলে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

গত ১৯ শে অক্টোবর শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেটি দেখাচ্ছেন তিনি।

ছবির উৎস, CA PRESS WING

ছবির ক্যাপশান, গত ১৯ শে অক্টোবর শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেটি দেখাচ্ছেন তিনি।

'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকার কী করছে?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি মূলত চারটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এগুলোর মধ্যে প্রত্যেক ভোটারকে জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনের মতো অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দুই কক্ষবিশিষ্ট আগামী সংসদ হবে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এছাড়াও যে ৩০ প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়েও ভোটারদেরকে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিতে হবে।

এদিকে, এসব প্রশ্নেই 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

যে ১২টি বিষয় উল্লেখ করে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, যত মেয়াদই হোক কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করা।

সরকার বলছে, 'হ্যাঁ' ভোট দিলে এই সবকিছু পাওয়া যাবে। তবে, 'না' ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সরকার।

'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

একইসাথে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে সব ব্যাংকগুলো প্রচারণা চালাবে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় দুইটি করে ব্যানার টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে 'হ্যা' ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাতে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

একইসাথে, জুমার খুতবায় আলোচনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন এবং পোশাক কারখানার সামনে ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনাও দিয়েছে সরকার।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও গণভোটে ' হ্যাঁ ' ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এক অনুষ্ঠানে বলেছেন,"আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে দেশে আর কখনও রাতের ভোট অনুষ্ঠিত হবে না।"

গত বছরের ১৩ই নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট 'হ্যাঁ' সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।

এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।

সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। যার মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

"জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে " বলেও সেদিন জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

হ্যাঁ ভোট দিলে যা যা পাওয়া যাবে শীর্ষক ফেসবুকে সরকারের প্রচারণা।

ছবির উৎস, Chief Adviser GOB/Facebook

ছবির ক্যাপশান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি মূলত চারটি প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পদক্ষেপ

আগামী ২২শে জানুয়ারি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালানো যাবে।

গণভোটের প্রচার নিয়ে সরকারের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী ' হ্যাঁ ' ভোটের প্রচারণা চালালেও বিএনপি বলছে, গণভোটের প্রচারণা চালানো বিএনপির দায়িত্ব না।

জনগণের হাতেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

সোমবার ঠাঁকুরগাওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,"গণভোটের প্রচারণা চালানো বিএনপির দায়িত্ব না। জনগণের দায়িত্ব ভোট দেওয়া, 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দেওয়া। জনগণ যা করে তাই হবে।"

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মি. আলমগীর জানিয়েছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যে ৩১ দফার সুপারিশ দিয়েছে তাতে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।

"যারা আপনার সবসময় ফ্যাসিস্টদের ভয়ে থাকে, নিজেরা কোনো কাজ করে না। বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে। তাদের কাছে এসব বিষয়। আমাদের কাছে আমরা ফ্যাসিস্টকে তাড়াতে জানি, মারতেও জানি, মার খেতেও জানি। আমাদের ৩১ দফায় সংস্কারের কথা বলা আছে" বলেন তিনি।

এদিকে, ওইদিনই জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা সংস্কারের পক্ষ। অতএব আমরা 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে।"

অন্যদিকে, এরইমধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র ও তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য আসনভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথেই সংস্কার ইস্যুতে গণভোট হবে

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথেই সংস্কার ইস্যুতে গণভোট হবে

' সরকারের প্রচারণার কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকছে না '

গণভোটে জনগণ যাতে 'হ্যাঁ' ভোট দেয় সেজন্য সরকারের প্রচারণার সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ' থাকছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের আইন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণেই অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশন করেছে।

ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স(ফিমা)' র সাবেক প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান মনে করছেন, "সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেরি হয়েছে। সেই সংস্কারের অংশ হিসেবে গণভোটের একটি পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি মনে করি না তাতে জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে।"

তিনি মনে করেন, প্রত্যেক ভোটার চাইলে 'না' ভোটও দিতে পারবেন। তাতে কোনো বাধা নেই।

এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, নির্বাচনের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। অর্থাৎ নির্বাচনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না।

"গণভোটে হ্যাঁ'র পক্ষে সরকার ব্যাপক প্রচার - প্রচারণা চালাচ্ছে। তার অর্থ হলো সরকার একটা পক্ষ নিয়ে নিচ্ছে। সরকার যদি একটা অবস্থান নিয়ে নেয় তাহলে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি তা এখানে থাকছে না। সরকারের এর থেকে বিরত থাকাই নৈতিকভাবে অনেক বেশি কাম্য," বলেন মি. মালিক।

অতীতে বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বসহ নানা কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো।

গণভোটে এই অন্তর্বর্তী সরকারের ' হ্যাঁ ' ভোটে পক্ষ নেওয়ায় ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই নির্বাচন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।

মি. মালিক বলেন, "নির্বাচনে হ্যাঁ ভোট যদি জয়যুক্ত হয় তখন কেউ তো আদালতে যেতেও পারে। গিয়ে বলতে পারে নির্বাচনের এই অংশে সুষ্ঠু ভোট হয় নাই কারণ সরকার এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। গণভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিলো না। নৈতিকভাবে সরকারের এর থেকে বিরত থাকাই উচিত।"

আবার সংসদীয় নির্বাচনে ভোটের হার বেশি হলেও সরকারের প্রচারণার কারণে গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণের হার কম হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

যদি গণভোটে জনগণ ' না ' ভোট বেশি দেয় তবে এই সরকারের ভূতাপেক্ষ গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে বলে মনে করেন তিনি।

"সরকারের পক্ষে প্রচারণা সত্ত্বেও যদি গণভোটে অংশগ্রহণের হার সংসদীয় নির্বাচনের হারের চেয়ে কম হয় তখন তো এর আরো নৈতিক যুক্তি থাকবে না," বলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী শাহদীন মালিক।

প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন এই রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
ছবির ক্যাপশান, ডিসি, ইউএনও বা যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন তারা এই ' হ্যাঁ ' ভোটের প্রচারণায় সংশ্লিষ্ট থাকলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

'রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে'

আরেকজন নির্বাচন পর্যবেক্ষক আবদুল আলীমও (ফিমা)' র সাবেক প্রেসিডেন্ট মিজ খানের সাথে একমত এই বিষয়ে যে, এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি পক্ষ। কেননা এই সরকার সংস্কারের উদ্যোগী সরকার।

মি. আলীম নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য।

তিনি দাবি করেন, এর আগে যতবার গণভোট হয়েছিলো তখনকার সরকারও সেগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

কিন্তু, ডিসি, ইউএনও যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন তারা এই ' হ্যাঁ ' ভোটের প্রচারণায় সংশ্লিষ্ট থাকলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে বলেই মনে করেন মি. আলীম।

এছাড়া সাধারণত নির্বাচনের সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রিজাইর্ডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইর্ডিং অফিসারের মতো ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। তাদেরকেও গণভোটে 'হ্যা' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ থেকে।

"ডিসি, ইউএনও তারা যদি সরাসরি ক্যাম্পেইন করে, যেহেতু তারা ভোটগ্রহণের সাথে জড়িত এবং তাদের আসনে তারাই সর্বেসর্বা, সো তারা যদি ইন্টারভেন করে যে হ্যাঁ ভোটে ভোট দাও তখন এটার ফেয়ারনেস নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে " বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আলীম।

এমনকি ' না ' ভোটের সংখ্যা কম দেখিয়ে, এই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দিয়ে 'হ্যাঁ' ভোট বেশি দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগও উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক।

ফলে গণভোটে ' হ্যাঁ ' ভোটের পক্ষের এই প্রচারণা থেকে তাদের দূরে রাখা উচিত বলে মনে করেন মি. আলীম।