রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ কেন উঠছে?

ছবির উৎস, Chief Adviser’s Press Wing
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন ও দুই-তিনটি রাজনৈতিক দল মিলে একটি পক্ষ তৈরি করেছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। আর বিএনপির নতুন করে জটিলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ রাজনীতিতে ঐক্যের বদলে অনৈক্য বা বিভক্তি বৃদ্ধি করবে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে 'প্রহসন' বা 'প্রতারণা' করার অভিযোগ এনেছে দেশটির প্রভাবশালী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বিএনপি।
এমনকি দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতাকে ব্যাঙ্গ করে বলতে দেখা গেছে যে, রেফারিকে তারা কখনো গোল করতে দেখেননি।
আর জামায়াত নেতারা বলছেন, কমিশনের সুপারিশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
কিন্তু কেন প্রশ্ন উঠছে বা রাজনীতিতে বিভেদ বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা আসছে?
যদিও ত্রিশটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর জুলাই সনদ তৈরি করে ঐকমত্য কমিশন। সনদে স্বাক্ষরও করেছে এর মধ্যে বেশিরভাগ দল। তাহলে আবার পাল্টাপাল্টি অবস্থান কেন, জটিলতা কোথায়?
এখানে বিএনপির অভিযোগ বেশ গুরুতর। তারা বলেছে, গত ১৭ই অক্টোবর যে জুলাই সনদ সই করা হয়েছে, তার সঙ্গে এর বাস্তবায়নের সুপারিশের মিল নেই।
নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিবস বা নয় মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সেগুলো যুক্ত হবে বলে যে সুপারিশ করেছে ঐকমত্য কমিশন, এতে করে সিদ্ধান্ত বা ফলাফল আগেই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে বিএনপি।
সংবিধান সংশোধনের ৪৮ দফা প্রস্তাব তফসিল আকারে সংযুক্ত করতে গণভোট করার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরির আশঙ্কার কথাও আলোচনায় এসেছে।
আইনজ্ঞদের অনেকে বলছেন, প্রস্তাবগুলো তফসিল আকারে যুক্ত করা হলে তা বর্তমান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
কমিশনের সুপারিশ নিয়ে নতুন বিতর্কে সংকট বাড়বে বলে রাজনীতিকেরাই মনে করছেন।
যদিও ঐকমত্য কমিশন বলেছে, তারা তাদের সুপারিশ দিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার কমিশন তাদের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে।

ছবির উৎস, Chief Adviser’s Press Wing
রেফারি গোল দেন না, ব্যাঙ্গাত্মক বক্তব্য কেন
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আসলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ক্ষুব্ধ হয়েছে বিএনপি যার প্রকাশ ঘটেছে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার পরদিন বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকায় দুটি আলাদা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।
তাদের তাদের দুজনের বক্তব্যেই ছিল কমিশনের সুপারিশের সমালোচনা।
মি. আলমগীর অভিযোগ করেছেন, যে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে।
আর সালাহউদ্দিন আহমদ সমালোচনা যেমন করেছেন, একইসঙ্গে অনেকটা ব্যাঙ্গ করে বলেছেন, "রেফারিকে আমরা কখনো গোল দিতে দেখিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশন, সরকার এবং আরও দু-তিনটি রাজনৈতিক দল একই পক্ষ"।
"আমি বিপক্ষেই খেলছিলাম মনে হয়। সেই হিসেবে জাতির পক্ষের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি," বলেন মি.আহমদ।
বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। সেই বৈঠকেও বিএনপির ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি এসেছে।
দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তাদের ওই বৈঠকে কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আলোচনায় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক আইয়ুব খানের 'বেসিক ডেমোক্র্যাসি' বা 'মৌলিক গণতন্ত্রের' সঙ্গেও এর তুলনা করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির ওই সদস্যের বক্তব্য ছিল, সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিনে পাস করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত হবে। এটিকে পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের ১৯৭০ সালে নির্বাচনের নীতিসমূহ উল্লেখ করে জারি করা লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) ফরমান এর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
তিনি সেখানে আরও বলেছেন, পাকিস্তানের আরেক সামরিক শাসক আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে বেসিক ডেমোক্রেসি বা মৌলিক গণতন্ত্র না দিয়ে যে পরোক্ষ নির্বাচনভিত্তিক যে শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন, তার সঙ্গেও তুলনা করা যায় ঐকমত্য কমিশনের এ ধরনের সুপারিশকে।
বিএনপি যে কতটা ক্ষুব্ধ, তা স্পষ্ট হয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা ও এর নেতাদের বক্তব্য থেকে।
তাাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত গণতন্ত্র মঞ্চ ও ১২ দলীয় জোটের নেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাদের অনেকে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে একমত।
তবে এই ইস্যুতেও পাল্টা অবস্থানে জামায়াত ও এনসিপি।

ছবির উৎস, TV Screen Grab
জটিলতা কোথায়, ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ কী?
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে সংবিধান সংশোধনের ৪৮টি প্রস্তাব তফসিল আকারে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে এবং এই দফাগুলোর ওপর গণভোট হবে।
এ বিষয় নিয়ে বিএনপির বড় আপত্তি। এর কারণ ব্যাখ্যায় দলটির নেতারা বলছেন, ৪৮ দফা তফসিল হিসেবে আনার প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর আলোচনায় আসেনি। এছাড়া সংসদের উচ্চকক্ষে ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচনসহ সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবে দলটি নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছিল।
এক ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলের প্রধান- এই তিন পদে থাকতে পারবেন না। এ নিয়েও বিএনপির আপত্তি ছিল।
তাদের সেই নোট অব ডিসেন্ট উল্লেখ করা হয়নি কমিশনের সুপারিশে। ফলে ৪৮ দফা প্রস্তাবেই সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে–– জনগণ এমন ধারণা পাবে বলে বিএনপি মনে করছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫' বাস্তবায়নে অবিলম্বে সরকারি আদেশ জারি করে ওই গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এর আগে সরকারকে একটি আদেশ জারি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই আদেশ জারি করার এখতিয়ার সরকারের নেই বলেও বিএনপি বলেছে।
এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং এই পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ না করতে পারলে সংবিধানের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে বলেও ওই সুপারিশে বলা হয়েছে।
সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি দল, সেই সনদের কথা গণভোটের সুপারিশে উল্লেখ নেই।
সেখানে সংবিধান সংস্কারের ৪৮ দফা নিয়ে গণভোট করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং সংসদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভূক্ত করার কথা এসেছে।
এই সুপারিশ নিয়েও জোর আপত্তি বিএনপির। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বিবিসিকে বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকারের গঠিত কমিশন যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলছে, তখন আগেই নেওয়া সিদ্ধান্ত আসলে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন কেন, এই প্রশ্নও তার রয়েছে।
এ ধরনের সুপারিশের যৌক্তকতা নিয়ে আইনজীবীদেরও অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, সিদ্ধান্ত বা ফলাফল নির্বাচিত সংসদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে আইনগত দিক থেকেও প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
কমিশনের বিরুদ্ধে প্রহসন বা প্রতারণা করার যে অভিযোগ এনেছে বিএনপি, সে ব্যাপারে তারা বিভিন্ন যুক্তি দিয়েছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যে দলিলটি ১৭ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেই দলিলটি এখানে হুবহু নেই। এতে শুধু আছে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব, রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশ। কিন্তু কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছানো হলো, নোট অব ডিসেন্ট কোথায় আছে, তার কোনো উল্লেখ নেই।"
বিএনপি এখন যে অবস্থান প্রকাশ করছে, তাতে এটা বলা যায়, ঐকমত্য কমিশনের প্রতি তাদের এক ধরনের সন্দহেও তৈরি হয়েছে।

সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার প্রশ্ন কেন
এই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের অনেকে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসিকে বলেন, ৪৮ দফা প্রস্তাবকে সংবিধানে তফসিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে, সেটা করা হলে আইনি জটিলতা হতে পারে।
মি. মালিকের ব্যাখ্যা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য হুবহু তফসিল হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কিন্তু এর বাইরে সংস্কারের কোনো বিষয় তফসিল হিসেবে যুক্ত করা হলে সে সম্পর্কে সংবিধানের পুরোনো বিধানও বহাল থেকে যায়। সেখানেই সংঘর্ষিক হওয়ার প্রশ্ন উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
আর এ ব্যাপারে যুক্তি হিসেবে ওই আইনজীবী দেখাতে চাইছেন যে, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করাসহ সংবিধান সংস্কারের যে বিষয়গুলো আনা হয়েছে, সেগুলো বর্তমান সংবিধানে নেই। ফলে সেগুলো তফসিল হিসেবে যুক্ত করা হলে সে সম্পর্কে বর্তমান সংবিধানের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
বিএনপি নেতাদেরও কেউ কেউ একইভাবে দেখছেন।
তবে ঐকমত্য কমিশনের সূত্রগুলো বলছে, শুধু গণভোটের জন্য ৪৮ দফাকে তফসিল আকারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যেহেতু এই দফাগুলোতেই গণভোটের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও সূত্রগুলো দাবি করছে, তফসিলের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সংবিধানে থাকা সে সর্ম্পকিত অন্য কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে না, এ কথা রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে যুক্ত করে, তাহলে কোনো জটিলতা থাকবে না।
সামগ্র্রকিভাবে যে সব জটিলতা কথা আলোচনায় আসছে, তাতে বিএনপি ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। দলটি বলেছে, সুপারিশে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির চাওয়া প্রতিফলিত হয়েছে।

পাল্টা প্রশ্ন জামায়াত, এনসিপির
বিএনপি বিভক্তির অভিযোগ এনেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিভাজন তৈরির চেষ্টার পাল্টা অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিবিসি বাংলাকে বলেন, নতুন করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে রাজনীতিতে বিভাজন তৈরির।
কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচক হিসেবেই বর্ণনা করছে জামায়াত। মি. তাহের মনে করেন, নোট অব ডিসেন্টের আইনি ভিত্তি নেই। সে কারণে গণভোটে সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে নোট অব ডিসেন্ট রাখার কোনো যুক্তি নেই।
সংবিধান সংস্কারের যে ৪৮টি প্রস্তাব নিয়ে গণভোটের সুপারিশ, তার মধ্যে ১৮টি প্রস্তাবের ব্যাপারে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।
এনসিপিও বিএনপির অবস্থানের বিরুদ্ধে। দলটি এখনো জুলাই সনদে সই করেনি। অবশ্য তারা স্বাক্ষর করবে বলে এর নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসিকে বলেন, বিএনপি শুধু বিরোধিতা করার চিন্তা থেকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে।
মি. হোসেন মনে করেন, প্রস্তাবিত দফাগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ দল একমত হয়েছে, সেখানে বিএনপির নোট অব ডিসন্টেকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
গণভোটের সময় নিয়েও এখনো কোনো মীমাংসা হয়নি। বিএনপি চায় একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
আর জামায়াতের অবস্থান সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট করা। এনসিপি অবশ্য বলছে, গণভোট সংসদ নির্বাচনের দিন বা তার আগে যদি হয়, কোনোটিতেই তাদের আপত্তি নেই।

যেতে পারে কোন পথে
সংস্কার বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে সমঝোতা না হলে গণভোটে দলটি ভিন্ন কোনো অবস্থান নেবে কি না, এমন আলোচনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বিএনপি চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এ ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলেন, কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই সুপারিশ দিয়েছেন। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুপারিশ নিয়েও প্রভাবশালী তিনটি দল যে বিরোধপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের জন্যও চ্যালেঞ্জের।








