শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার একটি জনসভাস্থলে বোমা পেতে রাখার ঘটনা ঘটে।
ছবির ক্যাপশান, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার একটি জনসভাস্থলে বোমা পেতে রাখার ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সমাবেশস্থলে বোমা পুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে বা গুলি করে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনার অপর রায়েও আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মোঃ কামরুজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় আমরা অভিযোগ প্রমাণিত করতে পেরেছি।

তিনি জানান, আদালত বলেছেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।

এর আগে গত ১১ই মার্চ রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৩শে মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়েছিল। তার মধ্যে দুইটি মামলার রায় বিচারিক আদালতে আগেই হয়েছে।

আজ অপর মামলার রায় ঘোষণা হলো।

আরও পড়ুন:

ভিডিওর ক্যাপশান, ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: শেখ হাসিনা যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন

বোমা পুঁতে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলা

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেছিল ১৯৯৬ সালে।

সেই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০০ সালের ২০শে জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের ওই বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২৩শে জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানের পেছনে এই বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখা হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সেই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট তিনটি মামলা করা হয়।

ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০০১ সালে ১৫ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি।

২০০৪ সালের ২১শে নভেম্বর আদালতে ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তবে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলার রায়ে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অপর মামলার রায়

এর আগে বোমা পুঁতে হত্যা চেষ্টা মামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আদালত। রায়ে গুলি করে তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়।

সেই সঙ্গে ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতা-কর্মী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হত্যা চেষ্টা মামলায় আপিলের রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ও ১৪ বছর দণ্ডিত দুই আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। ১৪ বছর দণ্ডিত অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: