পত্রিকা: 'বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী, তীব্র দুর্ভোগ'

মানবজমিন পত্রিকার খবর- বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী, তীব্র দুর্ভোগ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো তাদের আকাশ সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে।
ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে।
২৮শে ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
তাই তিনদিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়াতে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের খবর- 17 killed at pro-Iran protests in Pakistan অর্থাৎ পাকিস্তানে ইরানের সমর্থনে বিক্ষোভে ১৭ জন নিহত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে বিক্ষোভে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
করাচিতে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন মারা যান এবং ৭০ জনের বেশি আহত হন।
উত্তরের শহর গিলগিটেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন।
রাজধানী ইসলামাবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

ছবির উৎস, AP
বণিক বার্তার শীর্ষ খবর- সরকার গঠনের প্রথম মাসেই ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে বিএনপি।
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযম দেখানো এবং সামরিক পথ ছেড়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই অস্থিরতা শুধু আঞ্চলিক শান্তিই নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনেরও নিন্দা জানানো হয়েছে।
এদিকে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার, অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), দুর্বল অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই সংকটে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি ও প্রবাসী আয়ের নির্ভরতার কারণে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

আজকের পত্রিকার শীর্ষ খবর- ইরানকে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন তিনি।
তিন দশকের বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি । এই দীর্ঘ সময়ে ইরানকে তিনি অন্যতম আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
শাসনামলের পুরোটা সময় তিনি পশ্চিমা তথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন। এই সময় ক্ষমতা ধরে রাখতে করেছেন বিরোধী মত দমন। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা গত শনিবার নিহত হয়েছেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয় , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির মৃত্যুর খবর জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি লেখেন , ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন । পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে খামেনি কট্টর ইসলামপন্থী ও পশ্চিমা- বিরোধী আদর্শের ভিত্তিতে দেশ শাসন সাইয়্যিদ আলী হোসেইনি খামেনি শুরু করেন।
তাঁর শাসনামলে যেকোনো সংস্কারের প্রচেষ্টাকে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে কঠোর হাতে দমন করেন।

দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবর- ক্ষমতার পালাবদলে ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতার পালাবদলের পথে রয়েছে ইরান।
এই অন্তর্বর্তী সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে, এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (আইনবিদ)।
তিন সদস্যের এই পরিষদ সাময়িকভাবে দেশের যাবতীয় নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে- সংকটময় এই সময়ে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন।
ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ আছে। সে প্রক্রিয়ায়ও প্রেসিডেন্টসহ তিন সদস্যের একটি পরিষদকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একাধিক কর্র্তৃপক্ষ বা সংস্থা কাজ করে থাকে।

যুগান্তর পত্রিকার খবর- প্রতিশোধের আঘাত ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরান লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল-মার্কিনিরা।
রোববার বোমার মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছিল তেহরানের আকাশ-বাতাস।
এ হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ও গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া এই হামলায় ইরানে অন্তত ১৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতেও ভেঙে না পড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ তাদের মিত্রদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এসব হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
প্রথম আলো পত্রিকার আজকের খবর- হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে এখনই জ্বালানিসংকটের শঙ্কা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শনিবার রাতে জাহাজের বেতারবার্তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল রোববার আল–জাজিরাকে বলেছেন, এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
ব্যবসায়ী ও জ্বালানি খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া হয়।
যুদ্ধাবস্থার কারণে প্রণালির পাশের ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পরিবহন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর তথা ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ আসে।
যদিও বেতারবার্তায় প্রণালি বন্ধের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়নি।

নয়া দিগন্ত পত্রিকার খবর- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।
ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ঘটনায় সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই সাথে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। এ ছাড়া ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলা ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমে এসব কথা জানান।
গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঘটনায় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের খবরাখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ দিকে হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেখভাল কিভাবে করা হচ্ছে তাও প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবর- দূরের যুদ্ধে অর্থনীতিতে অশনিসংকেত।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশে জ্বালানি ও পণ্যের সরবরাহে সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম বাড়বে, আমদানি ব্যাহত হবে এবং প্রবাসী আয় কমে যেতে পারে। এতে দেশের মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ-এর সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ জানান, এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স হ্রাস ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য—এই পাঁচটি বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে দেশ।

আরেক ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের খবর- 2,000 fake certificates identified among teachers অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের প্রায় দুই হাজার ভুয়া সনদ শনাক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার একশ একর জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।
কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের কারণে সব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। তবে সব জায়গায় তদন্ত হলে ভুয়া সনদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
২০২১–২২ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রায় ছয় শত ভুয়া সনদ এবং প্রায় দুই হাজার একর অবৈধ দখলকৃত জমির তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও প্রায় বারোশ ভুয়া সনদ ধরা পড়েছিল।
পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা নিয়মিত ছয় মাস পরপর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে থাকেন।









