কোটালীপাড়ায় বোমা পেতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জন জঙ্গীর মৃত্যুদণ্ড বহাল

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পেতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

ঘটনার ২০ বছরেরও বেশি সময় পর নিম্ন আদালতের রায় অনুমোদন এবং আসামীদের আপিল নিস্পত্তি করে আজ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে।

নিম্ন আদালত আরও চার জনের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল, হাইকোর্ট তাদের একজনকে খালাস দিয়েছে এবং বাকিদের সাজা বহাল রেখেছে।

যাদের মৃত্যুদণ্ড এবং সাজা বহাল রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জেহাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

হরকাতুল জেহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মামলাটিতে মূল আসামী ছিলেন। কিন্তু অন্য মামলায় এই জঙ্গী নেতার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেছিল ১৯৯৬ সালে।

সেই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০০সালের ২০শে জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানের পেছনে এই বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখা হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেছিল কোটালীপাড়া থানা পুলিশ।

পুলিশ তদন্তের পর ১৬জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছিল ২০০১ সালে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চার্জশিট হলেও এই মামলাটি দীর্ঘ সময় বিচার কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় ছিল।

আরো পড়ুন:

ভিডিওর ক্যাপশান, ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: শেখ হাসিনা যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের জুন মাসে অধিকতর তদন্ত করে আরও নয়জনকে অভিযুক্ত হিসাবে যুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দেয়।

তখন মামলাটি পাঠানো হয় ঢাকা-২ দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে।

সেই ট্রাইবুনালে ২০১৭ সালের ২০শে অগাষ্ট বিচার শেষ করে রায় দেয়া হয়।

রায়ে ১০জন জঙ্গীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এই রায়ে গুলি করে তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের কয়েকদিন পরই মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স বা নথিপত্র হাইকোর্টে আসে।

এখন হাইকোর্টে রায় হলো।