গোপালগঞ্জে ঘটনার পাঁচ দিন পর কবর থেকে মৃতদেহ তুলে ময়নাতদন্ত

ছবির উৎস, Jaberul Islam Badhon
বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসন কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের পর শহর এলাকায় জনসমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি দোকানপাট খোলার সংখ্যাও বেড়েছে। অন্যদিকে, আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে অবশেষে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পাঁচদিন পর তিন জনের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রায় আট হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে আটটি মামলার প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
এদিকে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় গুলিতে নিহত তিনজনের লাশ আদালতের নির্দেশে আজ ময়না তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জেলার পরিস্থিতিকে এখন 'স্বাভাবিক' বলে দাবি করেছেন।
ওদিকে জেলার কোটালিপাড়া উপজেলা বিএনপি রবিবার সেখানে গণগ্রেফতারের অভিযোগ করলেও আজ জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, যাদের আটক করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আটক করেছে পুলিশ।
তবে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে কোনো শান্তিপ্রিয় মানুষ যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান।
এদিকে সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগে হওয়া মামলাগুলোতে এ পর্যন্ত তিনশর বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হলেও তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় গোপালগঞ্জে অন্তত ৫ জন মারা গেছে।

জেলার পরিস্থিতি কেমন
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
জেলায় রবিবারই দোকানপাট খুলতে শুরু করলেও শহরের রাস্তাঘাটে জনসমাগম ছিলো খুবই কম। মানুষকে সতর্ক চলাফেরা করতে দেখা গেছে গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে।
এমন পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন রবিবার রাতে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নিলে জেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আজ সোমবার সকাল থেকেই হাট বাজারগুলো অনেকটা জমে উঠতে দেখা গেছে এবং সড়কগুলোতেও বিপুল সংখ্যক যানবাহন চোখে পড়েছে।
জেলা সদর ও উপজেলাগুলোয় কাঁচাবাজারগুলো ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
পুলিশ প্রশাসনও জেলার পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে গত কয়েকদিনে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে তল্লাশিসহ লোকজনকে আটক করার ঘটনায় জেলা জুড়ে এখনো গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে জেলা সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালিপাড়া ও কাশিয়ানিতে অনেকটা নির্বিচারে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজেও রবিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গোপালগঞ্জে কোনো গণগ্রেফতার হচ্ছে না।
পুলিশ সুপার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে, এ পর্যন্ত তিনশর বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হলেও পরে যাচাই বাছাই করে ২৩০-২৪০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ছবির উৎস, Jaberul Islam Badhon
জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
রবিবার কোটালিপাড়া উপজেলা বিএনপির একটি সংবাদ সম্মেলন ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিলো।
ওই সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় নেতারা সেখানে গণগ্রেফতার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।
আজ জেলা বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলন করে জানায় যে সেখানে 'গণগ্রেফতার হচ্ছে না'। তাদের মতে, পুলিশ যাচাই বাছাই করেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই গ্রেফতার করছে বলে তারা মনে করেন।
তবে শান্তিপ্রিয় কোনো মানুষ যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রশাসনের ভুলে বা অন্য কোনো কারণে কেউ আসামি হলে বা পুলিশ কাউকে ভুল করে আটক করলে – তারাও নিরীহ ব্যক্তির সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।
"সদর, কোটালিপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী ও মোকসেদুপুর থানায় মামলা হয়েছে। সেখানে নিরীহ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে এমন হয়নি। তারপরেও নিরীহ কেউ আটক হলে আমরা তাকে সহায়তা করবো," সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন মি. রফিকুজ্জামান।
তিনি জানিয়েছেন জেলার পরিবেশ শান্ত হয়ে এলে বিএনপি সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশের আয়োজন করবে।
এর আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে কোটালিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেছিলেন, "কোটালিপাড়ার বিভিন্ন স্থানের ছাত্র- শিক্ষক, কৃষক, ভান চালকসহ মেহনতি মানুষ যাদেরকে রাস্তায় পাচ্ছে তাদেরকে ধরে নিয়ে এসে আসামি করে চালান দিচ্ছে"।
তিনি বলেছিলেন, "আর যদি এভাবে গ্রেফতার করা হয় তাহলে কোটালিপাড়া উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি কোটালিপাড়ার সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে এর প্রতিবাদ জানাবে যাতে এই প্রশাসন আর এভাবে আর মামলা না করতে পারে, গ্রেফতার করতে না পারে"।

ছবির উৎস, Sardar Ronie
তিন জনের মরদেহ উত্তোলন করা হচ্ছে
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তিন জনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে।
যে তিন জন নিহত ব্যক্তির মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে তারা হলে রমজান কাজী, সোহেল রানা এবং মো. ইমন তালুকদার।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মো. ফারুকও বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।








