ডিম ছোঁড়াকে কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়?

ছবির উৎস, PA Media/Owen Humphreys
- Author, জান্নাতুল তানভী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা
কোনো ব্যক্তির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশের বা প্রতিবাদ জানানোর উদাহরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস।
প্রতিবাদের এই রূপ, যা 'এগিং' নামেও পরিচিত, তা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং কখনো কখনো রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দিতেও ব্যবহৃত হয়।
ভিন্নমত প্রদর্শন এবং কাউকে অপমান, অবমাননা, অশ্রদ্ধা, অসম্মান করার হাতিয়ার হিসেবেও ডিম নিক্ষেপের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোঁড়ার ইতিহাস রয়েছে।
আর কেবল ডিমই নয়, বরং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোঁড়ার প্রচলনও মধ্যযুগ থেকেই।
প্রতিবাদ করতে কোনো ব্যক্তির মুখে বা গায়ে ডিম ছাড়াও শালগম বা টমেটোর মতো সবজি, কেক বা চকলেটও ছুঁড়ে মারার ইতিহাস রয়েছে।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ

ছবির উৎস, Christopher Furlong/Staff via Getty Images
ডিম ছোঁড়া ঠিক কবে থেকে প্রতিবাদের অংশ?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম বা যে কোনো সবজি বা পচনশীল বস্তু ছুঁড়ে মারার যে ইতিহাস পাওয়া যায় সেটা বেশ পুরোনো।
প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হতো বা প্রতিবাদ জানানো হতো বিভিন্ন খাবার ছুঁড়ে।
রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুঁড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারতো।
ক্ষোভ, ঘৃণা বা প্রতিবাদের এই রীতি একপর্যায়ে থিয়েটার জগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এলিজাবেথীয় যুগে থিয়েটারে অভিনেতাদের অভিনয়ে সন্তুষ্ট না হলে বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে তাদের ওপর পঁচা ডিম ছুঁড়তো দর্শকরা।
ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস 'মিডলমার্চ' এও ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রয়েছে।
এই উপন্যাসের চরিত্র মি. ব্রুক নির্বাচনী ভাষণের সময় 'অপমানকর' এই ঘটনার শিকার হন।
"অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ডিম এসে মি. ব্রুকের কাঁধে ভাঙলো.... এরপর যেন ডিমের শিলাবৃষ্টি নামলো। মূলত তার ছবিকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হচ্ছিলো। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে যেন আসল ব্যক্তিকেও আঘাত করা হচ্ছিলো," মি. ব্রুককে ডিম নিক্ষেপ করে কীভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা মিজ এলিয়টের বইয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

রাজা থেকে রাজনৈতিক কর্মী, বাদ নেই কেউ
ব্রিটেনে প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছুঁড়ে মারার ইতিহাস দীর্ঘ।
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কুইন কনসর্ট ক্যামিলা ২০২২ সালের নয়ই নভেম্বর ইয়র্কের মিকলগেট বারে এক রাজ সফরের সময় ডিম ছুঁড়ে মারার মতো ক্ষোভের মুখে পড়েন।
প্যাট্রিক থেলওয়েল নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক রাজাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। সেসময় তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
তবে একটি ডিমও রাজার গায়ে লাগেনি। সবগুলো ডিমই তার আশেপাশে পড়েছিলো অর্থাৎ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিলো।
পরে ইয়র্কের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মি. থেলওয়েলের বিচার হয়।
রাজার দিকে ডিম ছুঁড়ে মারার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটা ছিল "লফুল ভায়োলেন্স বা আইনি সহিংসতা"।
পরে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মি. থেলওয়েল।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘটনার শিকার হন।
ক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তির ছোঁড়া ডিম সরাসরি তার মুখে এসে লাগে।
২০০১ সালে নর্থ ওয়েলসে ব্রিটেনের তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জন প্রেসকটকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন একজন খামার শ্রমিক।
একেবারেই নিখুঁত ছিল ওই শ্রমিকের নিশানা। এই ঘটনায় মি. প্রেসকটও সরাসরি ওই শ্রমিকের মুখে ঘুষি মারেন।
ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিক গ্রিফিন ২০০৯ সালের নয়ই জুন সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করার সময় ডিম হামলার শিকার হন। পরে ওই সংবাদ সম্মেলনটি আর করেননি তিনি।
২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরনও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।
সেসময় একজন কিশোর নির্মাণ শ্রমিকের ছোঁড়া ডিম তার কাঁধে লেগেছিলো।
ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডও এমন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।২০১৩ সালে সাউথ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে হাঁটার সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ নটিংহামে নির্বাচনী এক সমাবেশে ২০১৪ সালে এমন ডিম হামলার শিকার হন।

ছবির উৎস, Christopher Furlong / Staff
যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নজির
অন্যান্য দেশেও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের নজির আছে অনেক।
যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে অনেকেই ইট ছোঁড়া হয়েছে ভেবে তাকে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটা ডিম ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ডিমটি মি. মরিসনের মাথায় লাগলেও সেটি ভাঙেনি।
বিবিসির সেসময়ের এক খবরে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছিলো।
২০২২ সালে উত্তর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্ষোভের মুখে পড়েন অতি ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির নেতা মেরিন লে পেন। ডিমটি মিজ পেনের গায়ে পড়ার আগেই দেহরক্ষী তা ধরে ফেলেন।

ছবির উৎস, Christian Liewig / Contributor via Getty Images
ডিম ছাড়া প্রতিবাদের অন্য যেসব উপকরণ
ইরাক যুদ্ধের সময় ২০০৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে লক্ষ্য করে জুতা ছুঁড়ে ব্যাপক আলোচিত হন ইরাকি সাংবাদিক মুনতাধার আল জাইদি।
একটি সংবাদ সম্মেলন চলার সময়ে প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে মি. জাইদি দুইটি জুতা ছুঁড়ে মারেন। কিন্তু তিনি সরে যাওয়ায় সেগুলো তার গায়ে লাগেনি।
এই ঘটনায় তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছিলো ওই সাংবাদিকের।
পূর্ব এশিয়ায় প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কারো প্রতি ক্ষোভ জানাতে তার ওপর জুতা ছোঁড়া হয়।
কারো ওপর দই ছুঁড়ে মেরে যে প্রতিবাদ করা হয় গ্রিসে সেটি 'ইয়াউরটামা' নামে পরিচিত।
রাশিয়া ও ইউক্রেনে নুডলস কানে ঝুলিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এর মাধ্যমে তাকে বিদ্রুপাত্মকভাবে উপস্থাপন ও ব্যঙ্গ করা হয়।
ইউক্রেন নিয়ে বিতর্কিত তথ্য উপস্থাপন করায় রাশিয়ান কনস্যুলেটের গেটে নুডলস ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলো ইউক্রেনিয়ানরা।
১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে চেয়ারের হাতল ও পেপারওয়েট ছুঁড়ে মারা হয়। আহত অবস্থায় রক্তক্ষরণের পরে মারা যান মি. আলী।
বাংলাদেশে ডিম নিক্ষেপের যেসব ঘটনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী মানুষ ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে ডিমসহ বিভিন্ন কিছ ঢিল ছুঁড়ে মারার যে আচরণ দেখা যায়, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ ঘটনার ভয়াবহতা বোঝাতে আশির দশকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই তুলনায় ক্ষোভ প্রদর্শনের অহিংস পন্থা কারো গায়ে ডিম ছোঁড়া।
রাজধানীর পল্টনে বায়তুল মোকাররমের সামনে ১৯৮০ সালের মে মাসে খন্দকার মোশতাক আহমেদের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক লীগের এক সমাবেশে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিলো।
ওই সমাবেশে বিষধর সাপও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত বছরের ২২শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যান এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও তার দলের কয়েকজন নেতা।
সেখানে পৌঁছেই জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মি. হোসেন ডিম নিক্ষেপের মতো এমন প্রতিবাদের মুখে পড়েন।
ডিমটি তার পিঠে পড়ে ভেঙে গেছে এমন ভিডিও সেসময় ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় মামলাও দায়ের করা হয়।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে আটক করে সেসময়।
এই দলেরই আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী মঙ্গলবার বাংলাদেশে এক সমাবেশে গেলে তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয়।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর গ্রেফতার তার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও মানুষের ক্ষোভের শিকার হন।
২০২৪ সালের ১৫ই অগাস্ট ঢাকার একটি বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তাদের ওপর জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করে। কয়েকটি ডিম মি. হকের হেলমেটেও লাগে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও লোকসঙ্গীত শিল্পী মমতাজ বেগমও মানিকগঞ্জ আদালতে মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন।
বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার সাথে সাথে মিজ বেগমের ওপর ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ মানুষ।
গত বছর জুনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে ঢাকায় তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হেনস্তা করে একদল লোক।
ওই সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানাভাবে হেনস্তাসহ কেউ কেউ নূরুল হুদার দিকে ডিম ছুড়ে মারছে। পরে মি. হুদাকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রতিবাদের অর্থ কী?
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষা দেহে বা শারীরিকভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়।
এটা মূলত অহিংস প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।
"যার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয় এটাকে একটা অপমান হিসেবে দেখা হয়। এখানে ব্যাপারটা দেহে আঘাত পাওয়ার চাইতে ইজ্জতে আঘাত পাওয়াটা বেশি প্রমিনেন্ট হয়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়," বলেন মি. আহমদ।
মি. আহমদ বলছিলেন, একটা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাংলাদেশে পঁচা ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। এখন আর সেটা শোনা যায় না।
এসবই এই প্রতিবাদের ভাষার প্রতীকী তাৎপর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মি. আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সবসময় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ডিম ছোঁড়া হয় বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় মানুষ কেবল অপরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এটা করে।"








