স্পাইক্যাম বা গোপন ক্যামেরায় ছবি, ভিডিও ধারণ করলে কী করবেন নারী?

নারী মুখ ঢেকে আছেন, প্রতীকী ছবি
ছবির ক্যাপশান, ওয়াশরুমে 'স্পাই ক্যামেরা' লাগানোর অভিযোগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ
    • Author, জান্নাতুল তানভী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে 'স্পাই ক্যামেরা' লাগানোর অভিযোগে সেখানকার একজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ওই হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন।

ওই হাসপাতালেরই ইন্টার্ন একজন নারী চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সোমবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্পাই ক্যাম বা গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে নারীর অজান্তে ছবি তোলা বা ভিডিও করার এমন ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়।

যদি কোনো নারী এ ধরনের ঘটনার শিকার হন তবে তিনি কী করবেন? কোন আইনে প্রতিকার পাওয়া যাবে?

অথবা কী ধরনের আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন ভুক্তভোগী নারী?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, যদি কোনো ব্যক্তি নারীর অজান্তে বা সম্মতি ছাড়া তার ছবি তোলে বা ভিডিও ধারণ করে প্রচার করে, তাহলে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও আইনজীবী এলিনা খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এটা ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য হবে। যারা এ ধরনের কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।"

তবে এ ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের নারীরা এখন আগের চেয়ে অনেকখানি সচেতন হয়েছেন বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

এলিনা খান বলছেন, অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা, লোকলজ্জার ভয়ে নারীরা এ ধরনের ঘটনায় চুপ করে থাকেন।

তবে সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের অপরাধের যে গুরুতর শাস্তি আছে সেটির প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন মিজ খান।

মিনি ক্যামেরা।
ছবির ক্যাপশান, এমন মিনি ক্যামেরা কোন কক্ষ বা স্থানে লুকিয়ে রাখা সহজ।

টাঙ্গাইলে যা ঘটেছে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১ এর ৯০৭ নম্বর কক্ষে কর্মরত ছিলেন তিনি।

এক পর্যায়ে ওই রুমের সাথে থাকা ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য ভেতরে ঢুকলে সেখানে একটি স্পাই কলম ক্যামেরা লুকিয়ে থাকতে দেখতে পান তিনি।

ওই কলম ক্যামেরাটি নারী চিকিৎসক সঙ্গে নিয়ে বাথরুম থেকে বের হন।

ওই সময় কর্মরত পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক ক্যামেরাটি তাকে দেওয়ার জন্য বলেন।

ওই নারী চিকিৎসক সেটি দিতে অস্বীকার করেন।

পরে সেটি নেওয়ার জন্য জোর-জবরদস্তি করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এতে হাতে আঘাত পান নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক।

পরে নিজেকে রক্ষা করতে পাশের ইউনিটে চলে যান ওই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নারী চিকিৎসক ওয়াশরুম ব্যবহার করতে যাওয়ার সময় তাকে থামিয়ে ভেতরে ঢোকেন। অন্য নারীরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই আগে ঢুকে যেতেন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সেই তদন্ত কমিটিতে সাক্ষ্য দিতেই সোমবার হাসপাতালে এসেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

হাসপাতালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিচারের দাবিতে চিকিৎসকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

একপর্যায়ে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে অভিযুক্ত শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেফাজতে নেয়।

পরে মঙ্গলবার এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তপক্ষ পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

একজন ব্যক্তির বুকপকেটে কলমের মতো লুকানো ক্যামেরা।

ছবির উৎস, Sergii Zyskо via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গোপনে নারীর অজান্তে বা সম্মতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করা ফৌজদারি অপরাধ।

অতীতের আলোচিত কয়েকটি ঘটনা

বাংলাদেশে নারীরা এ ধরনের ঘটনার শিকার এবারই প্রথম হয়েছেন এমন নয়।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কখনো বিউটি পার্লারে বা কখনো বুটিক শপের চেঞ্জিং রুমসহ বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন নারীরা।

এমন যেসব ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল হয়েছিল, তার মধ্যে ২০১১ সালে বিউটি পার্লার পারসোনার সেবা কক্ষে বা পোশাক পরিবর্তনের স্থানে সিসি ক্যামেরা থাকার অভিযোগ অন্যতম।

এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলো এই পার্লারটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং নারী অধিকার কর্মীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সেসময় প্রতিষ্ঠানটি।

পরে অবশ্য অভিযোগকারী নারীর স্বামী এবং পারসোনা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে 'ভুল বোঝাবুঝি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবরও প্রকাশিত হয়েছিলো সেসময়।

ওই সময় পুলিশ একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিলো।

শুধু তাই নয় এই ঘটনাটি দেশের উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিলো।

ঢাকার বিচারিক আদালতের পাঁচজন আইনজীবী সেসময় পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিজ আলমাসকে একটি লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছিলো।

পরে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আইনজীবী এলিনা খান রিট করেন হাইকোর্টে।

পরে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দেশের সব বিউটি পার্লারের সেবা কক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট।

একইসাথে বিউটি পার্লারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের একটি নীতিমালা কেন তৈরি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও দেওয়া হয়েছিলো। তবে, পরে আর সেই রুলের শুনানি হয়নি বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালে আরেকটি বিউটি পার্লার উইমেন্স ওয়ার্ল্ড এ গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে সেখানকার তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারও করা হয়।

ওই বছর ডিসেম্বরে এই প্রতিষ্ঠানটির ধানমন্ডি শাখায় গোপনে স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের জন্য ভুক্তভোগী এক নারীর মৌখিক অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছিল।

ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি কিন্তু পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছিল।

পরে পুলিশ বাদী হয়ে পর্ণোগ্রাফি আইনের মামলাটি দায়ের করেছিল।

গোপনে নারীর পোশাক বদলানোর ভিডিও ধারণের আরেকটি অভিযোগ ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।

ফ্যাশন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর একটি সুপারস্টোর বা ব্রান্ড আড়ংএ এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক কর্মীর বিরুদ্ধে তার নারী সহকর্মীদের পোশাক বদলানোর দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনে এ ধরনের শতাধিক ভিডিও সেসময় পুলিশ পেয়েছিল।

২০২০ সালের ২৯শে জানুয়ারি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি ধারণ করা সেসব ভিডিও ব্যবহার করে একাধিক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

একজন নারী বিক্রয় কর্মীর সাথে অসদাচরণের অভিযোগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বরখাস্ত করেছিল আড়ং।

ভুক্তভোগী নারী তখন বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট এজাহার দায়ের করে। এর কয়েকদিন পর অভিযুক্ত সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

এরও আগে, ২০১৬ সালে উত্তরায় 'স্টুডিও ২০০০' নামে আরেকটি পার্লারে গ্রাহকদের অজান্তে সেবা গ্রহণের ব্যক্তিগত দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড করার অভিযোগ ওঠে।

যেসব কক্ষে সেবা দেওয়া হয় সেখানে ভিডিও ধারণের এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

যদিও পার্লার কর্তৃপক্ষ তখন অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সেবা কক্ষগুলোতে সিসি ক্যামেরা ছিল না বলে দাবি করেছিল।

গোপন ক্যামেরার লেন্স।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

নারী কোন আইনে সুরক্ষা পাবেন?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনায় একাধিক আইনের অধীনে শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকার পেতে পারেন ভুক্তভোগী নারী।

বাংলাদেশের কয়েকটি আইনে এই অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, অনেক সময় ভুক্তভোগী নারীরা শেষপর্যন্ত আইনের সহায়তা নিতে চান না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ এ ফোন করলে অথবা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "অনেক সময় ভিকটিমরা নিজেদের প্রাইভেসি বা সামাজিক লোকলজ্জার কারণেও এসব বিষয় শেয়ার করতে চান না।"

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলছিলেন, গোপন ক্যামেরায় নারীর ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার বা ব্ল্যাকমেইল করলে পরিস্থিতি ভেদে কোন আইনে মামলা হবে তা নির্ধারণ করা হয়।

"ভুক্তভোগী নারী নিজেও মামলা করতে পারেন অথবা রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা করতে পারে," বলেন মিজ হাসান।

ভুক্তভোগী নারী সরাসরি থানায় গিয়ে মামলা করতে পারেন বা আদালতে গিয়েও অভিযোগ দায়ের করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগভেদে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অথবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনেও একসঙ্গে মামলা করা যায় বলে জানান তিনি।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, "সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অধীনে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া পর্নোগ্রাফি আইনে আলাদাভাবে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড আরোপের সুযোগ থাকায় অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।"

তবে অপরাধের ধরন ও প্রকারভেদে বিচারক শাস্তি দিতে পারবেন বলে জানান মিজ হাসান।

মিজ হাসান বলছেন, "সবগুলো আইন ব্যবহার করেও একটা মামলা করা যায়। একেকটা আইনে একেক ধারায় শাস্তি বিচারক দিতে পারবেন। সেগুলো একের পর এক শাস্তিও বিচারক দিতে পারবেন।"

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যদি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১৪ বছরের সাজা হয় আবার পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনেও সাত বছরের সাজা হতে পারে। তখন একের পর এক সাজা হয় তখন সাজার মেয়াদ আরো বেশি বাড়বে।

এই আইনজীবী বলেন, "এসব ছবি, ভিডিও ব্যবহার করে যদি কোনো নারীকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয় সেটা রেইপ বা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। তখন আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে নারীদের সুরক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন মিজ হাসান।

আবার নারীর শালীনতা ক্ষুব্ধ বা গোপনীয়তায় অনুপ্রবেশ করলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।

এ ধরনের অপরাধের মাধ্যমে মানহানি হলেও শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।

এই অভিযোগে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানান মিজ হাসান।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে ফরেনসিক রিপোর্ট সবচেয়ে বেশি জরুরি উপাদান। এখানে পুলিশ সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কখনো মুছে ফেলা যায় না উল্লেখ করে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, "যদি ভুক্তভোগী তদন্ত রিপোর্ট সঠিক না বলে মনে করেন তবে তিনি সেটিতে নারাজি দিয়ে আদালতে আবেদন করতে পারেন।"