ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এবার কেন ভিন্ন রকম হতে পারে?

সাগরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

ছবির উৎস, Mike Blake/Reuters

ছবির ক্যাপশান, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে বলে জানা যাচ্ছে
    • Author, আমির আজিমি
    • Role, বিবিসি নিউজ পার্সিয়ান

ইরানের জলসীমার কাছাকাছি, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এলাকায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পৌঁছানোয় আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে যে পরিস্থিতি একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোতে পারে।

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিক্ষোভ দমনে সবচেয়ে ব্যাপক পরিসরে সহিংস অভিযান চলছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি পর্যায়ে চলে এসেছে।

ইরানের নেতৃত্ব এখন দুই দিক থেকে চাপে পড়েছে। একদিকে এমন একটি বিক্ষোভ আন্দোলন, যা ক্রমাগত পুরো শাসনব্যবস্থা অপসারণের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করছেন না।

এতে শুধু তেহরানেই নয়, আগে থেকেই অস্থিতিশীল থাকা পুরো অঞ্চলজুড়েই উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

তেহরানের আগেকার সতর্ক অবস্থান

তেহরান এর আগে উত্তেজনা মোকাবিলা ও পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বেশ সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে আগে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ধরন আগে যেমন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হিসেব নিকেশ করে নেওয়ার মতো ছিল, এবারের সম্ভাব্য কোনো মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে তাদের পদক্ষেপ একই ধরনের নাও হতে পারে।

ইরান অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন করতে যেভাবে সহিংসতা বাড়িয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিগুলো এসেছে এবং তা এমন এক সময়ে, যখন দেশটি ভেতরে ভেতরে ব্যতিক্রমী ধাঁচের এবং এক ধরনের তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।

ফলে এখন কোনো মার্কিন হামলা হলে, ইরানের ভেতরে ও গোটা অঞ্চলে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান সাধারণত দেরিতে এবং সীমিত পরিসরে প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশলে অগ্রাধিকার দেখিয়েছে।

২০২৫ সালের ২১ ও ২২শে জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর, ইরান প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর পরের দিন কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত।

সেসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরান হামলার আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। এতে কেউ হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা ব্যাখ্যা করেন এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে, যেখানে ইরান শক্ত অবস্থান দেখালেও বড় যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতেও একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় যেটা ছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়।

তেসরা জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পাঁচ দিন পরে ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে প্রতিশোধ নেয় ইরান।

সেবারও আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও, পরে অনেক সেনা মাথায় আঘাতজনিত সমস্যায় ভোগার কথা জানান। এতে আবারও স্পষ্ট হয় যে ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর চেয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল।

যদিও কাসেম সোলাইমানি হত্যা ইরানের জন্য খুবই বড় ধাক্কা ছিল। সেসময়ও ইরান যতটা হুমকি দিয়েছিল সে তুলনায় প্রতিক্রিয়া খুব শক্ত ছিল না বলেও দেখেন অনেকে।

৯ই জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও থেকে নেওয়া এই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ইরানের তেহরানে সরকারবিরোধী অস্থিরতা বৃদ্ধির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছে এবং যানবাহন জ্বলছে।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, জানুয়ারির শুরুতে তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের চিত্র

এবার পরিস্থিতি স্পষ্টতই আলাদা।

১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরান এখন সবচেয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার একটি পর্যায় পার করছে।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে ও জানুয়ারির শুরুতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা কঠোর ও সহিংসভাবে দমন করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা এবং দেশের ভেতরের চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং আরও বহু মানুষ আহত বা আটক হয়েছে।

১৮ই জানুয়ারিতেই দিয়ে রয়টার্স জানায়, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইরানি কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন ইরানে বিক্ষোভে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এবং তথ্য পাওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব মৃত্যুর দায় স্বীকার করেনি। তারা অভিযোগ করছে তথাকথিত 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' এই সহিংসতার জন্য দায়ী এবং ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দিয়েছে।

এই বক্তব্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এসেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি সম্প্রতি বলেছেন, এই বিক্ষোভগুলোকে গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা উচিত।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায়, সরকার কেন নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর দমন অভিযান চালিয়েছে এবং কেন এত ব্যাপক মাত্রায় শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

যদিও রাস্তায় বিক্ষোভের মাত্রা আগের চেয়ে এখন কিছুটা কমেছে, কিন্তু তা পুরোপুরি থামেনি। মানুষের অভিযোগের জায়গাগুলো অমীমাংসিত, ফলে ক্ষোভ এখনো রয়ে গেছে। সমাজের বড় একটি অংশের সঙ্গে শাসনব্যবস্থার দূরত্ব বা বিভাজন আগে কখনো এত বেশি মনে হয়নি।

আট ও ৯ই জানুয়ারিতে নিরাপত্তা বাহিনী বড় শহরের কিছু এলাকা ও আশেপাশের অঞ্চলে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং পরে তারা ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বলে জানা যায়।

এই অল্প সময়ের নিয়ন্ত্রণ হারানো ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এরপর যে শান্ত অবস্থা দেখা গেছে, তা আলোচনা করে নয়, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো খুবই অস্থিতিশীল।

তেহরান কি আরও কঠোর হচ্ছে?

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমন অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারের হামলা চালিয়েই সামরিক সাফল্যের দাবি করার সুযোগ পেতে পারে এবং তাৎক্ষণিক আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে পারে। তবে এতে ইরানি কর্তৃপক্ষ ভেতরে আরও এক দফা দমন-পীড়ন চালানোর সুযোগও পেতে পারে।

এমন হলে নতুন করে ধরপাকড়, গণগ্রেফতার এবং আগে থেকে আটক থাকা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে কোনো পদক্ষেপ নেয় যাতে ইরানি রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে দুর্বল বা অচল হয়ে পড়ে, তাহলে দেশটি বিশৃঙ্খলার কিনারায় চলে যেতে পারে।

৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে যদি হঠাৎ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে, তাহলে শান্তিপূর্ণ বা দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। বরং এতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা এবং পুরো অঞ্চলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

এ ঝুঁকিগুলোই তেহরানের সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেওয়াকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর ও সাধারণ সশস্ত্রবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা, পাশাপাশি শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা, ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এতে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সেনা রয়েছে, তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সরাসরি জড়িত না থাকলেও ইরানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া সেসব দেশকে তাৎক্ষনিক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এতে সংঘাত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমা পার হয়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দেবে।

ওয়াশিংটনও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি রয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা না চালানোর সতর্কতা দিয়েছেন।

অস্থিরতার চরম পর্যায়ে তিনি ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, "সাহায্য আসছে"।

এই বক্তব্য ইরানের ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে।

একটি স্যাটেলাইট ছবিতে মার্কিন বিমান হামলার পর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি দেখা যাচ্ছে, ২২শে জুন ২০২৫ তারিখের ছবি।

ছবির উৎস, Maxar Technologies/EPA

ছবির ক্যাপশান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের আগেকার তুলনায় ইরান এখন সামরিকভাবে দুর্বল

দুই পক্ষই বড় কৌশলগত বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত।

ট্রাম্প জানেন, গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের যুদ্ধের আগের তুলনায় এখন ইরান সামরিকভাবে দুর্বল। অন্যদিকে তেহরান জানে, ট্রাম্প পূর্ণমাত্রার ও দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু করতে খুব আগ্রহী নন।

এই পারস্পরিক ধারনা কিছুটা আশ্বস্ত করার মতো হলেও এতে বিপজ্জনক ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কাও রয়েছে, যেখানে দুই পক্ষই নিজেদের প্রভাব বেশি বলে ধরে নিতে পারে বা প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি ভারসাম্য রক্ষা করা। তার এমন ফলাফল দরকার যেটিকে তিনি বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। আবার এটিও নিশ্চিত করা যাতে ইরান আবার দমন-পীড়নের চক্রে না পড়ে বা পুরোপুরি বিশৃঙ্খলায় ডুবে না যায়।

ইরানি নেতাদের জন্য ঝুঁকির জায়গা হলো, সময় ও দৃষ্টিভঙ্গি।

সাম্প্রতিক অস্থিরতায় দেশ যখন নড়বড়ে, এমন আবস্থায় আগেকার মতো বিলম্বিত প্রতীকী প্রতিশোধ নেওয়া আর যথেষ্ট নাও হতে পারে। এমনটা হতে পারে যদি নেতারা মনে করেন যে বাইরে শক্ত অবস্থান দেখানো ও ভেতরে নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জরুরি।

কিন্তু দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যাবে। এতে এমন একটি সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে, যা টেনে নেওয়ার সামর্থ্য খুব কম দেশেরই আছে।

দুই পক্ষই যখন তীব্র চাপে রয়েছে এবং সামনে এগোনোর পথ খুব সীমিত, তখন এই দীর্ঘদিনের শক্তি প্রদর্শনের খেলাটি সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। এখানে ভারসাম্য ভুল হলে তার মূল্য শুধু সরকার নয়, লাখো সাধারণ ইরানি মানুষ এবং পুরো অঞ্চলকেই দিতে হবে।