সমুদ্রসীমা রায়ে খুশি ভারত

দ্যা হেগে সালিশি আদালতের বিচার কক্ষ

ছবির উৎস, pca

ছবির ক্যাপশান, দ্যা হেগে সালিশি আদালতের বিচার কক্ষ
    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি

বঙ্গোপসাগরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবাদে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ভারত সরকার।

তবে এই রায়ে কারা জয়ী, বা কারা পরাজিত তারা তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে শুধু বলা হয়েছে, বহু বছরের একটা অমীমাংসিত বিরোধের যে অবশেষে নিষ্পত্তি হল, তাতেই তারা খুশি।

সোমবার সকালে দ্য হেগে ভারতের রাষ্ট্রদূত রাজেশ নন্দন প্রসাদের হাতে যখন ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ের প্রতিলিপি তুলে দেয়, তার পর থেকেই ভারতের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সেই দীর্ঘ রায়ের প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছেন।

তবে এটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা যে সমদূরত্ব নীতির ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নিরূপণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ট্রাইব্যুনাল সেটা পুরোপুরি মানেনি।

এমন কী, বঙ্গোপসাগরের যে অংশটা নিয়ে দু'দেশের বিরোধ, তারও বেশিটাই পড়েছে বাংলাদেশের ভাগে। তবে তার পরেও ভারত মঙ্গলবার দাবি করেছে, ট্রাইব্যুনালের রায়ে তারা মোটেই অখুশি নয়।

রায়ের পর দু'দেশের সমুদ্রসীমার মানচিত্র

ছবির উৎস, pca

ছবির ক্যাপশান, রায়ের পর দু'দেশের সমুদ্রসীমার মানচিত্র

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, ''এই রায়কে আমরা মর্যাদা দিচ্ছি। রায়টি খুঁটিয়ে পড়ার এবং রায়ের তাৎপর্য ঠিক কী, সেটা বোঝার প্রক্রিয়া এখনও চলছে।''

''তবে তার পরেও ভারত মনে করে, যেহেতু এ্র মাধ্যমে বহু পুরনো একটি দ্বিপাক্ষিক বিরোধের নিষ্পত্তি হল, তা ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শুভেচ্ছাকেই সুদৃঢ় করবে।''

বঙ্গোপসাগরে যে দ্বীপটি নিয়ে দু'দেশের বহুদিনের বিরোধ – বাংলাদেশ যাকে দক্ষিণ তালপট্টি ও ভারত যাকে পূর্বাশা বা নিউ মুর আইল্যান্ড নামে অভিহিত করে থাকে – সেই অঞ্চলটি অবশ্য রায়ে ভারতের ভাগেই পড়েছে।

বছরের প্রায় পুরো সময়টা অবশ্য ওই দ্বীপ এখন জলের তলাতেই থাকে।

প্রায় অস্তিত্ববিহীন ওই দ্বীপটির অধিকার পেলেও সমুদ্রসীমা বা সাগরে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন নির্ধারণে তা তাদের খুব একটা সুবিধা করেছে বলে ভারত প্রাথমিকভাবে মনে করছে না।

কিন্তু তার পরেও ভারতের বক্তব্য, এই রায়ের পর বঙ্গোপসাগরের ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করা যাবে, আশার কথা সেটাই।

মি. আকবরউদ্দিন বলেন, ''এই রায়ের ফলে সেখানে বাণিজ্যিক তৎপরতার পথ প্রশস্ত হবে। আর তাতে লাভবান হবে দুটো দেশই।''

জ্বালানি-খাতের বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন যে সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে এতদিন কোনও সংস্থাই তেল বা গ্যাস অনুসন্ধানের বরাত নিতে রাজি হত না।

কিন্তু এখন কোন অংশটা কোন দেশের দিকে পড়ছে, সেটা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ার পর এই সব সংস্থাগুলো এগিয়ে আসবে আশা করা যায়।

ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের মধ্যে একমাত্র ভারতীয় যিনি ছিলেন, সেই পেম্মারাজু শ্রীনিবাস রাও রায়ের অনেক বিষয়ে একমত হতে পারেননি। একটি আপত্তিপত্রও তিনি জমা দিয়েছেন।

তার বক্তব্য মানা হলে ভারতের হয়তো কিছুটা বাড়তি সুবিধা হত, তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন আর্কাইভাল মূল্য ছাড়া মি. রাওয়ের আপত্তিপত্রের এখন আর কোনও আলাদা দাম নেই।