ভারতীয়দের খুঁজতে তদন্ত চাইলেন খসরু

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পিছনে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেরও এক শ্রেণীর রাজনীতিক ও কর্মকর্তা জড়িত ছিল এমন অভিযোগ করে তাদের খুঁজে বের করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড: মসিউর রহমান বলেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে নাশকতার কারণে জনগণের কাছে যেতে না পেরে বিএনপিকে এখন বিদেশীদের কাছে যেতে হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে নারায়ণগঞ্জের উপনির্বাচন, সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশীদের টাকা জমানো ও বিশ্বকাপ ফুটবলের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
সংলাপের এ পর্বে আরও আলোচক ছিলেন নিটওয়্যার রফতানি কারক ও প্রস্ততকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড: ফাহমিদা খাতুন।
অনুষ্ঠানে একজন দর্শক জানতে চান বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যে অভিযোগ করেছেন আপনারা কি তার সঙ্গে একমত ?
জবাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।"
ভারতের এক শ্রেণীর রাজনীতিক ও কর্মকর্তা ওই নির্বাচন আয়োজনে ভূমিকা রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে যারা এই অবৈধ সরকার গঠনে জড়িত ছিল, কোন রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা জড়িত ছিল একটি তদন্ত কমিটি করে সেটা বের করা উচিত।”
এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড: মসিউর রহমান বলেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র সঠিকভাবেই রয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে না গিয়ে এখন নানা ধরনের কথা বলছে। গণতন্ত্রের যে মূল সুর ও কাঠামো সেটা বাংলাদেশে আছে।”
তিনি বলেন, “মানুষের কাছে না বলে অন্যদের কাছে কেন বলছে। কারণ নির্বাচনর আগে নাশকতার কারণে দেশের মানুষের কাছে যেতে পারছেনা, তাই এখন অন্যদের কাছে যেতে হচ্ছে।”
জবাবে নিটওয়্যার রফতানি কারক ও প্রস্ততকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কেন বলতে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, “এটা বলার জন্য সুষমা স্বরাজ যথার্থ ব্যক্তি কেন।ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কেন এটা বলতে হবে। ভারতের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানানোর মধ্যে একটু স্ববিরোধিতা আছে।”
নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন প্রসঙ্গ
জান্নাতুল নাহার জুঁই জানতে চান পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বহুল আলোচিত ওসমান পরিবারের একজন সদস্য জয়লাভ করেছেন। বিষয়টিকে আপনারা কিভাবে দেখছেন।
ফজলুল হক বলেন, “ আপাত দৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে এ নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও অনেকে বলছেন ঠিক মতো হয়নি, কম ভোটার এসেছেন। তাই এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে। ”
জবাবে ড: ফাহমিদা খাতুন বলেন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে জনগণের মতামত সঠিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে এমনটি বলা যাবেনা।
তিনি বলেন, “নির্বাচন শান্তিপূর্ণ বলা যায় আবার একতরফাও বলা যায়।”
তিনি বলেন, “কেন যেন মনে হয় জনগণের মতের প্রতিফলন নাও হতে পারে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সাথে যে বাকবিতণ্ডা সেটা দেখলে এখানে সন্দেহের অবকাশ আছে। এখন সরকার তদন্ত করে দেখতে পারে।”
একজন দর্শক বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলনা।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের নামে ৫ই জানুয়ারির ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে মাত্র।এমনকি প্রক্রিয়া সহ। প্রধানমন্ত্রী যখন সরাসরি বলেন ওই পরিবারের পক্ষে দাঁড়াবে তখন কারও পক্ষে কি সম্ভব এ নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করা ?”
তবে মসিউর রহমান বলেন, “নির্বাচনের ফল পক্ষে না গেলে জনগণের মত প্রতিফলিত হয়নি এমনটি বলা উচিত নয়।ওসমান পরিবারের যে ইতিহাস এরা আওয়ামী লীগের উপর যত অত্যাচার হয়েছে তার সবই সহ্য করেছে। আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতি প্রকাশ করে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে।”
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের টাকা
মাহামুদা সুলতানা জানতে চান সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে গত বছর যখন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অর্থ জমানো কমিয়ে দিয়েছেন, তখন সেখানে বাংলাদেশী নাগরিকদের জমানো টাকা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে কেন ?
ফাহমিদা খাতুন বলেন, “রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনের আগে মানুষের মধ্যে সংশয়ের কারণে অর্থের নিরাপত্তা বোধ করেনা। টাকা চলে যাওয়া হচ্ছে অবৈধ। এ টাকাগুলো কয়েকটি মাধ্যমে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ইদানীং সেকেন্ড হোম করার জন্যও টাকা যাচ্ছে। আইনের নানা ফাঁক ফোকর দিয়ে অর্থ চলে যা্চেছ। যে প্রক্রিয়ায় টাকা পাঠানো হচ্ছে সেটা বৈধ নয়।”
আমির খসরু চৌধুরী বলেন, “ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। যারা বিনিয়োগ করছেনা তাদের অনেকেই টাকা নিয়ে যাচ্ছে। শুধু সুইটজারল্যান্ডেই নয়, অনেক দেশেই যাচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।”
একজন দর্শক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী টাকাগুলো ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন এ উদ্যোগ কতটা সফল হবে?”
ফজলুল হক বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতার সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এটাকে দেখিয়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়াকে বৈধ করা যাবেনা। এ টাকা যেভাবেই উপার্জিত হোক এটা চলে যাওয়া বড় ধরনের অপরাধ। এ টাকা বিনিয়োগ হলে অর্থনৈতিকভাবে দেশের জন্য ভালো হতো।”
মসিউর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। এবিষয়ে সফল হওয়ার উদাহরণ আছে। কিছু টাকা ফেরত এসেছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বিষয় জড়িত তাই এতে সফল হবে। জটিল আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া শেষ করে টাকা ফেরত আসে।”
লুইস সোয়ারেয-এর কামড় প্রসঙ্গ
এটিএম শফিকুর রহমান লিংকন জানতে চান ফুটবল বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড়কে কামড়ানোর অভিযোগে উরুগুয়ের লুইস সোয়ারেযকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর জন্য এই শাস্তি কি যথেষ্ট, নাকি তাঁর চিকিৎসাও দরকার ?
ফজলুল হক বলেন, “অনেকেই বলছেন শাস্তির মাত্রা বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু অতীত রেকর্ড দেখলে চিকিৎসার দাবি অমূলক নয়।”
ফাহমিদা খাতুন বলেন, “তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে অনেক ভালো খেলোয়াড় অ-খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেন। তবে মনে হয়েছে শাস্তিটা অতিরিক্ত হয়েছে। ”
একজন দর্শক বলেন, “শাস্তি বেশি হয়নি। কারণ সোয়ারেয আগেও এ ধরনের কাজ করেছে।”
আমির খসরু চৌধুরী বলেন, “এটা সংশ্লিষ্টদের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। আমি নিশ্চিত তারা সব বিচার বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
মসিউর রহমান বলেন, “আমি মানসিক চিকিৎসক হলে তার চিকিৎসার পয়সা গ্রহণ করতামনা। তবে সবাই মনে করে শাস্তি একটু বেশি হয়েছে।”

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
আমার মনে হয় ঘুম-খুনের ভয়ে কেহই সত্য বলার সাহস পাচ্ছে না,যদি তাই না হয়, এ এস পি বশির ও পত্র-পত্রিকার রিপোট কি সবই মিথ্যা?








