হবিগঞ্জের অস্ত্র উদ্ধার একটি নাটক: সংলাপে বিএনপি

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিএনপির একজন নেতা হবিগঞ্জের সাতছড়িতে র্যাবের অস্ত্র তদন্তের ঘটনাকে নাটক আখ্যায়িত করে বলেছেন, র্যাবের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে নাটক সাজানো হয়েছে।
তবে আওয়ামীলীগের একজন নেতা বলেছেন,অস্ত্র উদ্ধারের সাথে র্যাবের ভাবমূর্তির কোন সম্পর্ক নেই।
শনিবার টাঙ্গাইলের ভাসানী হলে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশীদের সম্মাননা ক্রেস্টে সোনা জালিয়াতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য,জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
সংলাপের এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড: আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ আজম খান।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন শাহনাজ খান নার্গিস। তিনি জানতে চান হবিগঞ্জের সংরক্ষিত বন থেকে অস্ত্র উদ্ধারের অস্ত্র উদ্ধারের সাথে ২০০৪ সালের দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনার কোন সামঞ্জস্য আছে কিনা?
আহমেদ আজম খান বলেন, “ব্যাংকার খুড়ে অস্ত্র রাখা হচ্ছিলো দীর্ঘদিন ধরে অথচ এতদিন কেন সেটা সরকারের নজরে এলো না, সেটা বড় প্রশ্ন”।
তিনি বলেন, "র্যাবের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে নাটক সাজানো হয়েছে"।
মি. খানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হবিগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে র্যাবের ভাবমূর্তির কোন সম্পর্কই নেই।
প্যানেল আলোচকদের কেউ কেউ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার সাথে ভারতের নূতন সরকারকে খুশি করার প্রসঙ্গ তুললেও মিস্টার রাজ্জাক সে অভিযোগও অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “মোদী সরকারকে কেন অস্ত্র দেখিয়ে খুশী করতে হবে ? অস্ত্রগুলো অনেক পুরনো। র্যাবের ভাবমূর্তির সাথেও এর কোন সম্পর্কই নেই। নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সাথে দুতিন জন জড়িত বলেই র্যাব সব ম্লান করে দিলো সেটি কোন সঠিক কথা নয়”।
কামরুল হাসান খান বলেন, “সরকারের দায়িত্ব এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং সেটিই করা হয়েছে”।
তিনি বলেন, “সাত বছর আগে পায়নি বলে এখন পাওয়ার পর কিছু বলবোনা তা তো না। এখন তথ্য পাওয়া গেছে, অস্ত্র পাওয়া গেছে এটি ই ঘটনা। র্যাবের ইমেজ নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে র্যা বকে সবাই কিন্তু বিলুপ্ত করার কথা বলছেনা। বেশির ভাগ মানুষ আমরা র্যাবকে আস্থায় রেখেছি।”
ফরিদা আখতার বলেন তিনি মনে করে র্যা বের ভাবমূর্তির পাশাপাশি ভারতের নূতন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, “সময়ের কারণেই প্রশ্ন উঠছে। যখন শীতলক্ষ্যায় লাশ ফেলছে আবার হবিগঞ্জে অস্ত্র উদ্ধার করছে। এটা একটা প্রশ্ন থেকে যায়। পাশাপাশি মোদী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের একটা ইচ্ছে সরকারের রয়েছে।”
ক্রেস্টে সোনা জালিয়াতি
ড. মো: মনির উদ্দিন জানতে চান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় বিদেশীদের দেয়া ক্রেস্টে স্বর্ণ জালিয়াতির ব্যাপারে হইচই করে নিজেদের সন্মান খোয়ানো এবং নিজেদের চোর হিসেবে সাব্যস্ত না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে পরামর্শ দিয়েছেন তা কি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করতে পারে ?
এ বিষয়ে একজন দর্শক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছেন। তার দলের মন্ত্রী জড়িত ছিলেন বলে তিনি ব্যবস্থা নিতে চাননা।”
আরেকজন দর্শক বলেন, “এটা কি প্রধানমন্ত্রীর দু:খ প্রকাশ করা উচিত ছিলনা? ”
ফরিদা আখতার বলেন, “স্বর্ণকারদের উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করা। এ ঘটনা একটি দেশের জন্য অপমানজনক এবং এ ধরনের বক্তব্য দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে”।
কামরুল হাসান খান বলেন, “এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর খণ্ডিত বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তদন্ত হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সন্মান জানানোর বিষয়টি হাইলাইট করেছেন আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন”।
বিএনপি নেতা আহমদ আজম খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেননি বরং জাতিকে হতাশ করেছে”।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য না দিলে তাতে বিষয়টি যেভাবে উঠে আসছিলো তাতে হয়তো বিচারের সুযোগ ছিল। এখন বিচার কতটুকু হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে”।
তবে ড: রাজ্জাক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে সমর্থন করেননি বরং বলেছেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে”।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মনে করেন এটি ঘৃণিত অপরাধ কিন্তু এতো বড় সন্মান দেয়া হয়েছে”।
জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গ
শিশির দাস জানতে চান জামায়াত নিষিদ্ধকরণ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নির্বাচনের আগে বড় ইস্যু হিসেবে দেখানো হলেও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার কি এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে এগুচ্ছে ?
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এ নিয়ে সন্দেহের কোন কারণ নেই। কারণ শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছে। এ বিষয়ে আপোষের কোন সুযোগ নেই”।
তিনি বলেন, “আইনগত বিষয়ে একটু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এটি পরিষ্কার হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে”।
আহমেদ আজম খান বলেন, “নির্বাচনের পর আইনমন্ত্রী নতুন করে আইনি জটিলতার কথা বলছেন। অথচ আগে গণজাগরণ মঞ্চ দাঁড় করিয়ে তাড়াহুড়ো করে একজনকে ফাঁসিও দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার নতুন খেলায় মেতে উঠেছে এটি এখন পরিষ্কার”।
একজন দর্শক বলেন, “বিচারের বিষয়টি একটু হলেও ধীর হয়ে গেছে”।
ফরিদা আখতার বলেন, “বিচারের বিষয়টি রাজনীতি করণ করা হয়েছে বলেই এতো কথা উঠেছে। তড়িঘড়ি করতে গিয়ে আইনে শাস্তির বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। একটা সংগঠনকে শাস্তি দিতে হলে কি করা হবে সেটি আইনে নেই”।
কামরুল হাসান খান বলেন, “গত ৪২ বছরে আর কেউ বিচারের কথা বলেনি। এখন বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। এটি হবে”।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
ক্রেষ্টের সোনা চুরির ব্যপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কোনো ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়, তিনি চোরকেই শুধু উৎসাহিত করেন নাই, দুষ্ট লোকেরা উনাকে জড়িয়েও অনেক কথা বলেন।
সাজিদ, চট্রগ্রাম।
ক্রেষ্টে সোনা চুরির ঘটনা অবহেলা করার উপায় নেই। দোহাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সোনা চোরদের, দুর্নীতিবাজদের, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় বা পক্ষ নেবেননা। এদের উপযুক্ত বিচার করুন। এতে আপনার সন্মান বাড়বে।
আতাউর, ঢাকা।
বিবিসি সংলাপে জামায়াতকে নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু বিবিসি কেন জামায়াতের কোন নেতাকে সংলাপে ডাকেন না??????








