বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' নিয়ে বিতর্ক

- Author, রাকিব হাসনাত সুমন
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিএনপির একজন নেত্রী বলেছেন সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া মূলত শ্লোগানই রয়ে গেছে।
তার দাবি এ খাতে যেটুকু অগ্রগতি এসেছে তাতে বিশেষ কোন সরকারের অবদান নেই।
তবে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যেই অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ বিশেষ পর্বটির বিষয়বস্তু ছিল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, বেসিস এর সাবেক সহ সভাপতি এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউ ওয়াই সিস্টেমস লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহী ফারাহানা এ রহমান এবং কলম্বো ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবু সাঈদ খান।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন নূরুল আমীন। তিনি জানতে চান ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার ঠিক করেছিলো সে লক্ষ্য কি অর্জিত হয়েছে নাকি তা একটি শ্লোগান হিসেবে রয়ে গেছে ?
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “ধাপে ধাপে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। এ নীতিমালায় বলা হয়েছে ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো।"
তিনি বলেন, "এখন প্রতি মাসে ৪০ লাখ মানুষ ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্র থেকে সেবা নিচ্ছেন। চার বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া হবে।”
শামা ওবায়েদ বলেন, “কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে তবে এটা সময়ের চাহিদা। কারণ এখন বিশ্বায়নের সময়। এখানে কোন বিশেষ সরকারের কোন অবদান নেই। সরকারের দায়িত্ব প্রসেসগুলো সুগম করা।”
তিনি বলেন, “১৯২৮টি কলেজে ৫লাখের বেশি শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু মাত্র ১৫৭টি কলেজে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবস্থা আছে।”
আবু সাঈদ খান বলেন, “ গ্রামাঞ্চলকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। তবে ব্রডব্যান্ড কতদিনের মধ্যে কত শতাংশ লোক ব্যবহার করবে সে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়নি। সে হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগানই রয়ে গেছে। তবে সরকার তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে এক করা বড় অর্জন”।
তিনি বলেন, “মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলার সুযোগ ও টেলিযোগাযোগ সংযোগ এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে”।
ফারহানা এ রহমান বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ শ্লোগান আইটি সেক্টরকে মানুষের সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এর ভিতরে আমরা এখনো ঢুকতে পারিনি”।
তিনি বলেন, “কানেটিভিটির মধ্যে অনেকটাই সফল হয়েছি ও ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করতে পেরেছি যেমন লোকাল সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং, ই কমার্স, সরকারি প্রতিষ্ঠান অটোমাইজেশন”।
একজন দর্শক বলেন, “জনপ্রশাসন ছাড়া অন্য কোন মন্ত্রণালয় ই-ফাইল পদ্ধতি চালু করতে পারেনি সরকার।”








