সংলাপে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব হুমায়ুন কবির, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব হুমায়ুন কবির, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ।

বাংলাদেশ সংলাপে সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সারাদেশের মানুষের মতো সরকারও উদ্বিগ্ন।

তবে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে কারণ সরকারি দলের লোকেরাই এসব ঘটনার সাথে জড়িত।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এবারের পর্বে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও ভারতের নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া এবং লঞ্চ ডুবিতে প্রাণহানির জন্য দায়ীদের বিচারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন কাজী সায়েম। তিনি জানতে চান বর্তমানে বাংলাদেশে যে হারে গুম খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে তাতে করে কি মনে হয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে ?

হুমায়ুন কবির বলেন, “আইন শৃঙ্খলা যেমন থাকা উচিত নাগরিক হিসেবে মনে করে এখন তেমনটা নেই। দেশের বাইরে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে বলা যায় এটা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই।”

তিনি বলেন এ অবস্থা চলতে থাকলে বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারনা হবে।

সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, “দোষারোপের রাজনীতি ঘৃণা করি। যে দলই ক্ষমতায় থাকবে, বিরোধী দল সহ সবাই মিলে উন্নত দেশ গড়বো। সরকার কি নিজের ভাবমূর্তি নিজেই ক্ষুণ্ণ করতে চাইবে ? এর আসলে কোন যুক্তি নেই।”

শাজাহান খান বলেন, “দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে এবং আরও ভালো করার জন্য সরকার তৎপর রয়েছে।”

তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন এবং সরকার তার বাইরে নয়। তবে অপহরণ গুম খুন বাংলাদেশে আগেও ঘটেছে। কিছু ঘটেছে রাজনৈতিক টাকা বা অন্য কোন কারণে ঘটতে পারে।”

মন্ত্রী বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট তৎপর। পরিস্থিতি উন্নয়নে এগিয়ে গেছি। আরও উন্নয়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”

আসম হান্নান শাহ বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, “দেশে যা ঘটছে সেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শক্তিধরদের সমর্থনেই হচ্ছে।”

হান্নান শাহ বলেন, “হত্যা গুম অপহরণ সহ জনজীবনকে যেভাবে দুর্বিষহ করেছে দুষ্কৃতিকারীরা এতে সরকারের উপর মানুষের আস্থা আছে বলে মনে হয়না।”

তিনি বলেন, “খুন বা অপহরণের সাথে জড়িতরা সরকারি দলের লোক। সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে এমন পরিস্থিতি হতোনা।”

একজন দর্শক বলেন, “আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে কে বা গুম হত্যা বন্ধ করবে কে যেখানে তারাই এর সাথে সংশ্লিষ্ট।”

আরেকজন দর্শক বলেন, “গুম খুন চাঁদাবাজির জন্য। রাজনীতি একটা ব্যবসা। রাজনীতি করলে হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়।”

প্রতিবাদ করতে না দেয়া গ্রহণযোগ্য ?

জাকির আলম জানতে চান একটি গণতান্ত্রিক দেশে গুম, খুন আর অপহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না দেয়া কি আদৌ গ্রহণযোগ্য ?

হান্নান শাহ বলেন, “এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সংবিধানেও বাক স্বাধীনতার কথা আছে। এটি এখন কিতাবে আছে গোয়ালে নেই। এমন অবস্থায় আমরা আছি।”

হুমায়ুন কবির বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। তাতে রাজনৈতিক দল যেমন অংশ নিতে পারে সামাজিক সংগঠনও পারে। সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “সরকারের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা দেখতে পাচ্ছি। বিরোধী দলের মতামত শোনার মতো সাহস তাদের থাকা উচিত।”

সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, “নাগরিক হিসেবে মত প্রকাশের অধিকার দেয়া উচিত। সমাবেশ হোক। যত বড়ই হোক সেটি হোক। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে বাঁচতে চাই। যৌক্তিক কারণ না হলে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবে।”

শাজাহান খান বলেন, “ভয় নয় আশংকা। আশংকা হল জামাত বিএনপি মিলে যেসব মানুষকে হত্যা করলো সেকারণেই শঙ্কা হয় আবার মনে হয় শুরু করবে সেগুলো।”

তিনি বলেন, “বিএনপি যখন গণতন্ত্রের নামে এগুলো করে তখন শঙ্কিত হই। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থেই কখনো কখনো কোন কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করি।”

নরেন্দ্র মোদী প্রসঙ্গ

কাজী জহিরুল ইসলাম জানতে চাই ভারতে সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রী দৃশ্যত যেভাবে চেষ্টা করছেন, তা কি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে ?

হান্নান শাহ বলেন, “ভারত প্রতিবেশী দেশ। ভারতের সাথে সমস্যাগুলোর বিষয়ে বিএনপি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে সবসময় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি খুব একটা পরিবর্তন হয়না। আমরা ভারতের সাথে সুসম্পর্ক চাই। এখানে প্রতিযোগিতার কিছু নেই।”

শাজাহান খান বলেন, “ভারতের জনগণ ও সরকার বাংলাদেশের বন্ধু। এখানে কোন প্রতিযোগিতা রয়েছে মনে করিনা। নরেন্দ্র মোদী জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেবেন এটা মনে করার কারণ নেই।”

তিনি বলেন, “ভারতের আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে।”

জবাবে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, “নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের নির্বাচনের পর সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে তার মধ্যে দৃষ্টিকটু কিছু হয়নি।”

তিনি বলেন, “ভারতের জনগণের বিশাল সমর্থন ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি সরকার পরিবর্তন হচ্ছে। গণতন্ত্র চর্চার প্রেক্ষাপটে দু নেত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারে প্রত্যাশিত। হয়তো একটু তাড়াহুড়ো হয়তো হয়ে থাকতে পারে”।

তিনি বলেন, “ভারতের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে এ নিয়ে প্রধান দলগুলোর একমত হওয়া উচিত।”

অপর প্যানেল আলোচক বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ একি ধরনের মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “দু নেত্রী স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করেছেন।”

তিনি বলেন, “সরকার ও বড় বিরোধী দল এক সাথে পাশের দেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে। অন্তত এ বিষয়ে তো দুদল একমত হল। এর মধ্যে নেতিবাচক কি আছে। এটাকে প্রতিযোগিতা বানানোর কারণ দেখছিনা।

মন্ত্রী বলেন, “এখানে কোন প্রতিযোগিতার কিছু নেই। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের নির্বাচনের পর সরকার যথাযথ বক্তব্য দিয়েছে।”

হান্নান শাহ বলেন, “এখানে আনুকূল্য পাওয়ার কিছু নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের স্বার্থে ও দুদেশের সম্পর্কের খাতিরেই।”

লঞ্চ ডুবি প্রসঙ্গ

একেএম রফিকুল ইসলাম জানতে চান বাংলাদেশে লঞ্চ ডুবির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হয়না কেন ?

হান্নান শাহ বলেন, “কেউ তো ঠিক মতো কাজ করছেনা। সঠিক ভাবে যাত্রী উঠছে কি না সেটি দেখার কেউ নেই। কারণ যারা দেখবে তারা তো দলীয় লোক। এ কারণেই কোন সরকার কোন পদক্ষেপ নিতে চায়না।”

সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, “এসব ঘটনার বিচার হওয়া দরকার। সুশাসন ও জবাবদিহিতা দরকার। যখন প্রাণহানি হয় সেখানে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয় আছে। এটা কঠোর ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।”

হুমায়ুন কবির বলেন, “নৈতিক দায়িত্ব না নেয়ার একটা সংস্কৃতি এখানে আছে। আর একটা বিষয় হল দায়মুক্তি বা অন্যায় করলেও শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা”।

শাজাহান খান বলেন, “ অনেক ঘটনাতেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিছু মামলায় শাস্তিও হয়েছে”।

একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আইন শৃঙ্খলার অবশ্যই অবনতি হয়েছে। তবে এটা সরকারের জন্য একটা সুযোগও বটে । এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের শাস্তির মাধ্যমে সরকার প্রশংসা অর্জন করতে পারে।

এল এম জন

এই পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক করার কিছুই নেই। বরং বাস্তবতা মেনে নিয়ে সবাই একসাথে কাজ করা উচিত।

সাকিন আল সাদ।

অযোগ্য সরকার ক্ষমতায় তাই এ অবস্থা।

মো: আবু তাহের।

সরকার ব্যর্থ।

রুহুল আমিন সরদার।

আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার ১০০% ব্যর্থ।

রাশেদ খান।

সরকার একটি রাষ্ট্রের প্রাণ, সরকার আন্তরিক হলে এমন অবস্হার সৃষ্টি হয় না। যা হচ্ছে তা সরকারের ইঙ্গিতেই হচ্ছে।

কাইয়ুম মাতুব্বর।

কোথায় গনতন্ত্র? দেশে কোন গনতন্ত্র নেই।

Malek Al Malki

শুধু একটু নিরাপত্তা চাই...আর কিছু নয়।

hamim Kabir