সংলাপে র‍্যাবের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামা ওবায়েদ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামা ওবায়েদ।

বাংলাদেশ সংলাপে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন র‍্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীর মধ্যেই সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

একি ধরনের মত প্রকাশ করে বিএনপির একজন নেতাও বলেছেন র‍্যাবের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা দরকার।

সংলাপের এ পর্বে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশীদের দেয়া সন্মাননা ক্রেস্টের স্বর্ণে ভেজাল মেশানোর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং চিকিৎসকদের ধর্মঘট ডাকার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন সামিয়া জামির।

তিনি জানতে চান নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‍্যাবের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর র‍্যাব সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে কি বড় ধরনের সংস্কার চালানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “র‍্যাব বা আইন শৃঙ্খলার সাথে জড়িত সবারই সংস্কার প্রয়োজন। প্রচলিত ব্যবস্থা দিয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যায়নি বলেই পুলিশের সহায়তায় র‍্যাব হয়েছে”।

তিনি বলেন, “কিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলো অস্বীকারের সুযোগ নেই। র‍্যাবের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। জনগণ, সুশীল সমাজ বা নাগরিকরা যে পরামর্শ দেবেন তার ভিত্তিতেই র‍্যাবের সংস্কার হওয়া প্রয়োজন”।

শামা ওবায়েদ বলেন, “র‍্যাবের সংস্কার প্রয়োজন। র‍্যাব সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা উচিত নয়। একটা দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। সরকার কোন বাহিনীকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করলেই তারা মাথায় উঠে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে”।

তিনি বলেন, “এটা সরকারের দায়িত্ব। র‍্যাবের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত”।

আশরাফ কায়সার বলেন, “সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আগেই উপলব্ধি করা হয়েছে বিশেষ করে যখন ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত ঘটনা ঘটছিলো"।

তিনি বলেন, "অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছিলো র‍্যাব ও পুলিশ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজ করছে ও দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়ে অমানবিক কাজ করছে”।

তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। কিন্তু সরকার আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু করছেনা”।

মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, “র‍্যাবের কি দরকার ছিল। পুলিশের ঘাটতি গুলো ঠিক করে কি লক্ষ্য অর্জন করা যেতোনা। র‍্যাব যে দায়মুক্তি পায় সেটা প্রকাশ্যে বলাও হয়না"।

তিনি বলেন, "র‍্যাব মানবাধিকার লঙ্ঘন যা করেছে সেগুলোর জন্য শাস্তি হয়না”।

মিস সুলতানা বলেন, “র‍্যাবের বাংলাদেশে কোন দরকার নেই। র‍্যাব খুনি বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে”।

একজন দর্শক বলেন, “র‍্যাবের দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। র‍্যাব বন্ধ করা ঠিক হবেনা”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “জীবন হরণ করার মত বাহিনী বাংলাদেশে দরকার আছে বলে মনে হয়না”।

ক্রেস্টের সোনায় ভেজাল

নজরুল ইসলাম সিদ্দিক জানতে চান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশী ব্যক্তি কিংবা সংগঠনকে দেয়া ক্রেস্টের সোনায় ভেজাল দেয়ার বিষয়টিকে কি সাধারণ দুর্নীতি হিসেবে দেখা যায় ?

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “এটি নিন্দনীয় ঘটনা। এর বিচার হওয়া উচিত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছ কাজ হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজনীতিকরা জড়িত নন”।

তিনি বলেন, “এ ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের অপমানিত করেছে। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি আমাদের লজ্জিত করেছে। এটি অবশ্যই শাস্তি হতে হবে”।

শামা ওবায়েদ বলেন, “এ দুর্নীতি আমাদের সারা পৃথিবীতে দেশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করেছে। বিদেশীদের যে সন্মাননা দিতে গিয়েছি তাদের প্রত্যেককে অপমানিত করা হয়েছে”। তার অভিযোগ সরকারের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, “আমরা একে একে আমাদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছি এবং এখনো করছি। জনপ্রতিনিধিদের যদি জনগণের প্রতি দায়িত্ব না বাড়ে তাহলে এসব ঘটনা বাড়তেই থাকবে”।

আশরাফ কায়সার বলেন, “সন্মাননা ক্রেস্টে শুধু ভেজাল নয়, এটি মহাদুর্ণীতি। এটি দেশদ্রোহিতার শামিল। বিদেশী যারা সহায়তা করেছে তাদের ডেকে এনে জাতিয় লজ্জা তাদের সামনে উপস্থাপনা করা। এর জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া দরকার”।

একজন দর্শক বলেন, “জাতি হিসেবে আর কত লজ্জিত হলে জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের শুধরানোর চেষ্টা করবেন”।

দুই দলের সংলাপ

আইনুন ম্যামি জানতে চান পরবর্তী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে সংলাপে বসার জন্য আবারো আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন একটি সংলাপ কি আদৌ হবে ?

শামা ওবায়েদ বলেন, “সংলাপ হওয়ার প্রয়োজন। এখনো সময় আছে সংলাপে বসে সমাধানের। সরকার না চাইলে সংলাপ হবে কি করে। সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। বিরোধী দলের অর্ধেক নেতা জেলে থাকলে কি করে সংলাপ হবে”।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সংলাপের বিকল্প নেই। তবে যদি আশা করি কাল সকালেই দু নেত্রী বসে সব সমাধান করবেন সেটা হবেনা। তবে হ্যাঁ ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে”।

তিনি বলেন, “সংলাপ অবশ্যই হবে এবং এর মাধ্যমেই সমাধান আসবে”।

মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, “সংলাপের আগে দেখতে হবে দলগুলো ক্ষমতার পালাবদলে বিশ্বাস করে কি-না”।

আশরাফ কায়সার বলেন, “জনগণের ভোটে সরকারের জন্য সংলাপ জরুরী। কিন্তু এখানে সংলাপের সম্ভাবনা নেই। কারণ এখানে চাপের মুখে সরকার সংলাপে আসে। কিন্তু এখন বিরোধী দলের যে অবস্থা তাতে সে সম্ভাবনাও নেই”।

চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রসঙ্গ

কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের কি হুট করে ধর্মঘটে যাওয়া উচিত?

আশরাফ কায়সার বলেন, “এ পেশার মানুষ ছোট খাট কোন অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে ধর্মঘটে যেতে পারেনা। আবার বাংলাদেশে গণমাধ্যম অনেক কিছু করে যেগুলো কোড অব কন্টাক্ট এ পড়েনা”।

শামা ওবায়েদ বলেন, “ডাক্তারদের হুট করে ধর্মঘটে যাওয়া উচিত না। গণমাধ্যম কর্মীরা কতটুকু যেতে পারে সেটাও দেখা উচিত। তবে মিডিয়াতে যাই আসুক চিকিৎসক তার নৈতিক জায়গা থেকে সরে যেতে পারেনা”।

একজন দর্শক বলেন, “ডাক্তারদের হুট করে ধর্মঘটে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয়, তবে ধর্মঘটে যাওয়ার কারণগুলোও মন্ত্রণালয় বা সরকারকে দেখতে হবে”।

তাসলিমা সুলতানা বলেন, “যে কোন আন্দোলনে ধর্মঘট শেষ ধাপ। তারা কি সেটা করেছেন ? সেটা না করে একটা ঘটনা ঘটছে আর তারা ধর্মঘটে যাচ্ছেনা”।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন কিছু পেশায় আবেগ রাগ বিরাগের জায়গা নেই। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেবা সংস্থা, ডাক্তার, চিকিৎসক, শিক্ষক বা গণমাধ্যম কর্মীরা কখনোই ধর্মঘট ডাকা উচিত নয়।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমার মনে হয় র‍্যাবকে স্বাধীনতাটা সরকার বেশী দিয়ে দিয়েছে । তাই তারা তাদের ইচ্ছা মত ক্ষমতার অপব্যবহার করছে । বাবা যে ছেলেটাকে যত বেশী ভাল বাসে সে তত বেশী অপরাধ করে ।এটাই তার প্রমাণ।।

আনজুরা জাহান কল্পনা।

র‍্যাব বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত। র‍্যাব এ ৪৪% সামরিক বাহিনীর সদস্য কর্মরত। বিশ্বে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। মিডিয়াতে এসেছে র‍্যাব নাকি অন্যান্য বাহিনীর চেয়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই বেশী আপরাধ করে থাকে। সামরিক বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের উচিত হবে র‍্যাব থেকে তাদের ৪৪% সদস্য ক্লোজ করে বাহিনীর সুনাম ধরে রাখা। এবং নতুন করে র‍্যাব বাহিনীটাকে সংস্কারের আওতায় আনা।

আফজাল হোসেন খান।

আমি মনে করি র‍্যাবকে একে বারেই বিলুপ্ত করা উচিত। কারণ ওদের জন‍্য আজ আমরা যেখানে সেখানে লাশ দেখতে পাই।

উইকিলিক্স বাংলাদেশ

কোন একটা বিষয়ে বিশেষ একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলে মডারেটরকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছে, এটা অভিযোগ। মূলত আমরা যেগুলো নিয়ে কথা বলছি তার অধিকাংশই অভিযোগ। তাই এ কথা বলে বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করা না হলে ভাল হয়।

রুবেল, বরিশাল ।

With due regretably to let u know that we the people of bangladesh earnestly & sincerely looking forward to have reform law & order of RAB, not to being abolished armed forces. If we do accordingly. There will be no forces to guard Bangladesh. In the meantime neighbour country like India will capture Bangladesh. So it is necessary to reform law & order as per constitution. Warmest regards.

M Shahidul Islam. MBA