সংলাপে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী পোশাক শিল্প নিয়ে আলোচনা

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম , অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম , অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে গঠিত তহবিলে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর আরও অবদান রাখা উচিত।

অন্যদিকে দীর্ঘ এক বছরেও ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন বিএনপির একজন নেতা।

তবে বিজিএমইএ বলছে শ্রমিকদের জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করবেন তারা।

রানা প্লাজা ধ্বসের এক বছর পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের কি অবস্থা তা নিয়ে ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ বিশেষ পর্বটিতে পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া পদক্ষেপ এবং পোশাক খাতে আন্তর্জাতিক নজরদারির বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ এ পর্বে আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন সালমা আক্তার। তিনি জানতে চান রানা প্লাজা ধ্বসের এক বছর পরেও ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিকদের সবার জন্য আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা গেলনা কেন ?

গত বছর ২৪শে এপ্রিল ঢাকার কাছে সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় নিহত হয়েছিলো এক হাজারের বেশি পোশাক শ্রমিক। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলেন সম্মিলিতি গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার।

একি সংগে তিনি বলেন ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে যে অর্থ শ্রমিকদের দেয়া হয়েছে সেটি ছিল অনুদান, ক্ষতিপূরণ নয়।

তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ কাজ হচ্ছিলোনা। প্রধানমন্ত্রী কিছু দিয়েছেন। বিজিএমইএ দিচ্ছে। ক্রেতারা দিচ্ছেন। কিন্তু ২৪শে এপ্রিলের আগেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এজন্য একটা সমন্বয় দরকার”।

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ উত্তোলন এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এক বছরেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে না পারার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এক বছর অনেক সময়। এ সময়ে ক্ষতিপূরণ না দেয়া পরিষ্কারভাবেই সরকারের ব্যর্থতা। ডিএনএ এর বাইরে যারা আছে তারাও অনেকে ক্ষতিপূরণ পায়নি। এ ব্যাপারে কোন স্বচ্ছতা দেখতে পাচ্ছিনা”।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমই সভাপতি আতিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য নেয়া পদক্ষেপ ছাড়াও কারখানা নিরাপত্তায় নেয়া পদক্ষেপগুলোর বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা ছাড়াও পুনর্বাসনের জন্য তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

একি সঙ্গে তিনি পোশাক খাতের উপর অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক নজরদারির সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “ব্যবস্থা করেছি বলেই আইএলও ৪০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে। আমরা টাকা দিচ্ছি কিন্তু। সাড়ে ১৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে”।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, "সমন্বিত ভাবে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া সহ পোশাক শিল্পের সার্বিক বিষয়ে দ্রুততার সাথে কাজ করা হচ্ছে"।

এ পর্যন্ত নেয়া সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন কাজের আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারখানাগুলোকে ঢাকার বাইরে নেয়ার জন্যেও কাজ চলছে।

তিনি বলেন, “গুরুতর আহতদের প্রথমেই ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছ। নিহতদের পরিবারকে ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দিয়েছে। ত্রাণ তহবিল থেকে সংকুলান না হলেও সরকার পিছিয়ে যাবেনা”।

নিরাপত্তায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ?

মোছা: মন্নুজান বিশ্বাস জানতে চান পোশাক শিল্পে ভবন ধ্বস কিংবা অগ্নিকান্ডের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে?

আতিকুল ইসলাম বলেন, “রানা প্লাজার পর আমরাও বুঝেছি যে এভাবে কারখানা চালানো যাবেনা। অ্যাকর্ড, এলায়েন্স, আইএলও ও বুয়েটের মাধ্যমে সব কারখানা তদারকি করা হবে। প্রতিটি ভবনকে দেখা হবে”।

তিনি বলেন, “অ্যাকর্ড এলায়েন্স সাতশর মতো কারখানা দেখেছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি কারখানায় তারা সমস্যা খুঁজে পেয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশেই ঘটছেনা। টেক্সাসের মতো জায়গাতেও ভবন ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে”।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “পরিদর্শক নিয়োগ পিছিয়ে পড়েছে। এর সাথে জিএসপির একটা যোগসূত্র আছে। ২০০৭ এ বলা হয়েছে আবার শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের মৃত্যুর পর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ রানা প্লাজার ঘটনা”।

একজন দর্শক বলেন, “আহতদের জন্য কি পদক্ষেপ নেয়া হবে যারা এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেননি”।

নাজমা আকতার বলেন, “এতো বড় দুর্ঘটনার পর যে পদক্ষেপ নেয়ার কথা সেটি হয়নি। শ্রমিকরা ভীতির মধ্যে আছে আবার একেবারেই নিরাপদ না সেটিও বলবোনা। দুর্নীতির বিষয় আছে। তবে এলায়েন্স অ্যাকর্ড কাজ শুরু করেছে”।

এইচ টি ইমাম বলেন, “ভবন তদারকির জন্য দ্রুত কাজ হচ্ছে। কারখানার মালিকদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রসঙ্গ

শান্তা খানম জানতে চান বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর যে আন্তর্জাতিক নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তার ফলে কি পোশাক শিল্প কোন ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে ?

আতিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী পোশাক বানাবো শ্রমিকদের বেতন দিবো”।

তিনি বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে বিদেশীদের নজরদারি বেশি হয়ে যাচ্ছে। এটা খারাপ বার্তা আমাদের জন্য”।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারির বিষয়ে বিজিএমই সভাপতির বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন এইচ টি ইমাম।

তিনি বলেন বিদেশীরা এখান থেকে কম দামে পোশাক নিবে আর এখানে বিপদ হলে এগিয়ে আসবেনা এটি হতে পারেনা।

তবে বিএনপি নেতা মিস্টার চৌধুরী বলেন এতো বড় শিল্পকে বিদেশীরা উপেক্ষা করবেনা। কিন্তু তারা যখন একটি মাণ নির্ধারণ করেন সেজন্য অতিরিক্ত যে ব্যয় হবে সেটা ক্রেতাদের দিতে হবে।

নাজমা আকতার বলেন, “ঘটনা তো ঘটছে। তার সুযোগ অন্যরা নিচ্ছে। এর দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের ও মালিকদের। শ্রমিক নেতা হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে”।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিনশ পরিদর্শকের কথা বলেছেন। তবে নিয়োগ করা হয়েছে মাত্র উনসত্তর জনকে”।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমি মনে করি এই পোশাক শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে এটাকে প্রথম রাজনীতি থেকে আলাদা করতে হবে ৷ বিদেশিদের একটা মহল চাচ্ছে এই শিল্পটাকে ধ্বংস করে দিতে বিশেষ করে ভারত। কারন ভারতের পণ্য বিশ্বটাকে ঘিরে ফেলেছে শুধু ইউরোপের কাপড়ের বাজারটা দখলে নিতে পারেনি ৷ তাই আমি মনে করি এই শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আরো সজাগ হতে হবে ৷

শান্ত আহমেদ, জেদ্দা।

রানা প্লাজায় ক্ষতি গ্রস্থদের অর্থ সহায়তা যদি দেয়া হয় তবে সরাসরি হাতে না দিয়ে কোন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে দেয়া উচিত। অসহায় ওই মানুষ গুলোর নগদ টাকার লোভে অনেক সুবিধাবাদী ঘুর ঘুর করবে এবং অনেকেই সর্বশান্ত করে ফেলবে। যা এসব হতভাগ্য মানুষদের পথে বসাবে। তাই তাদের টাকা গুলো ক্যাশ না দিয়ে ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়া উচিত।

রশিদ কাজি।

আমরা এই দূঘর্টনা জন্য এখনো শোকাহত !!!

শহীদ, মেহেরপুর।

Why it's not discussed the aid, financial help they got firm BGMEA!!! It will never come!!!

Tawfiq Al Karim Tak