খরচের হিসেব প্রকাশ করা উচিত: আইনমন্ত্রী

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এবং বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড: ওসমান ফারুক।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ এবং বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড: ওসমান ফারুক।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী বলেছেন লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠানের খরচের হিসেব প্রকাশ করা উচিত এবং এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম হলে দুর্নীতি দমন কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে।

বিরোধী দল বিএনপি’র একজন নেতা বলেছেন দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে মন্ত্রী যে-ই হোক না কেন এ ধরনের ঘটনার কোন দায়মুক্তি দেয়া উচিত হবেনা।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের এ পর্বে ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর প্রসঙ্গ, গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে সংকট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক বলেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: সামছুল হক সজিব।

তিনি জানতে চান লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠানের আয়োজনের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর স্বার্থ আছে এমন তিনটি কোম্পানি পেয়েছিল। এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা কি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে ?

জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার আগেই কোম্পানিগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তবে যেহেতু কথা উঠছে সেহেতু তার উচিত বিষয়টি পরিষ্কার করা”।

তিনি বলেন, “তারপরেও যেসব ঘটনা ঘটলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতে পারে সেসব কারণ বিদ্যমান থাকলেও তারা এ ঘটনার তদন্ত করে দেখতে পারে।

এ অনুষ্ঠানের খরচের হিসেব জনগণকে জানিয়ে দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী ড ওসমান ফারুক বলেন দুর্নীতিকে কোনভাবেই দলীয় বিবেচনায় দেখা উচিত না।

লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠান সহ আরও যেসব ঘটনায় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর ঘটনা, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, গাড়িতে টাকার বস্তা পাওয়া সহ অনেক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কোন দায়মুক্তি দেয়া যাবেনা”।

সরকারে যেই থাকুক এসব বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারে বা এ ধরনের লাভজনক পদে থেকে কেউ ব্যবসা করতে পারেননা”।

অবিলম্বে এ অভিযোগের অনুসন্ধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ক্রমাগতভাবে ক্ষমতায় অবস্থানকে অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। লাখো কণ্ঠের অনুষ্ঠানের জন্য যে অর্থ উত্তোলিত হয়েছে তার একটি চুলচেরা হিসেব দেয়া উচিত”।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড নাজনীন আহমেদ বলেন, “যেখানে যত প্রশ্ন আছে তার জবাব জনগণ চায়। দুর্নীতি কমছে না বাড়ছে সেটা আমরা জানিনা। গত বিশ বছরে যত অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি-না সেটা আমরা জানিনা”।

ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর

জান্নাতুল ফেরদৌস মীম জানতে চান ভারতের এক স্থান থেকে আরেকস্থানে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করার যে অনুমতি দেয়া হয়েছে তা কি সমর্থনযোগ্য ?

ড: নাজনীন আহমেদ বলেন, “দেখতে হবে শর্তগুলো কি আছে। স্বার্থ বিরোধী কিছু না থাকলে এতে সমস্যা নেই। করিডোর দেয়ার বিষয়ও সবসময় খারাপ তেমন কোন কথা নেই। আমরা কি পাচ্ছি তা জানা থাকলে জনগণের মনে কোন প্রশ্ন আসবেনা”।

তিনি বলেন, “চুক্তিতে কি আছে সেটি দেখে যদি মনে হয় বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবেনা তাহলে ভারতকে এ করিডোর দিলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবেনা। চুক্তিটি ওয়েবসাইটে দিলে সবাই দেখতে পারবে এতে ক্ষতিকর কিছু আছে কি-না”।

ওসমান ফারুক বলেন, “বিনিময়ে বাংলাদেশ কি পাবে সেটি নিশ্চিত হলেই কেবল ভারতকে এ সুবিধা দেয়া যায়। এতদিন ট্রানজিট দিয়ে আমরা কি পেলাম সেটি জনগণ জানেনা। আমরা বিদ্যুৎ করিডোর দিবো কিন্তু বিদ্যুৎ পেতে পারি এবং বিনিময়ে পানি দিতে হবে”।

একজন দর্শক বলেন, “ভারতকে করিডোর দেয়ার বদলে আমাদের কিছু পাওয়া উচিত”।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এখন পর্যন্ত কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সংসদে কোন আলোচনা হয়নি। জনমতের কোন প্রতিফলন ঘটেনা। সে কারণেই এতো প্রশ্ন”।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ করিডোর দিয়ে নানা ভাবে আমরা লাভবান হতে পারি। কিন্তু আলোচনার কতটুকু দক্ষতা আছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। চুক্তিগুলো প্রকাশ করা হলে প্রশ্ন উঠবেনা”।

আইনমন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। আলোচনা সফল হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে”।

তিনি বলেন, “করিডোর দিয়ে যে বিদ্যুৎ যাবে সেখান থেকেই বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে হবে। আবার নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যে চিন্তা বাংলাদেশ করছে সে করিডোরও ভারতকে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত এটি নিশ্চিত হলেই কেবল করিডোর দেয়া হবে”।

গণজাগরণ মঞ্চ প্রসঙ্গ

আজিজুন নাহার জানতে চান যারা একসময় গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি করেছিলেন, তারাই কি এখন একে ধ্বংস করতে চাইছেন?

ওসমান ফারুক বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টি হয়েছিলো সরকারের উদ্যোগে। কাজ ফুরিয়েছে সে কারণেই এখন সরকারের কাছে এর প্রয়োজনীয়তা নেই”।

আনিসুল হক বলেন, “এটি সরকার তৈরি করেনি। এবং আইনের ঊর্ধ্বে তারা নয়। হামলার সত্যতা থাকলে যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তি দেয়া উচিত”।

একজন দর্শক বলেন, “মনে হচ্ছে সরকারের সুবিধা হচ্ছেনা তাই তারা এখন গণজাগরণ মঞ্চকে বাধা দিচ্ছে”।

নাজনীন আহমেদ বলেন, “আমরা জনগণ ব্যাপক সমর্থন দিয়েছি গণজাগরণ মঞ্চকে। আবার এখন জনগণের অংশগ্রহণ কমেছে”।

ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সব কাজ দলীয়করণের প্রবণতা আর সমালোচনা না সইবার বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে। হয়তো চাপের মধ্যে রাখার জন্যই এখন হামলার ঘটনা ঘটছে”।

ক্রিকেট দলের কাছে প্রত্যাশা

মো: মাহমুদুল হাছান জানতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কাছে খুব বেশি কিছু কি প্রত্যাশা করা হচ্ছে ?

নাজনীন আহমেদ বলেন, “এতো বছর ধরে বিশ্বকাপে খেলছি। এ প্রত্যাশা কি অমূলক। প্রত্যাশা বেশি মনে করছিনা”।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করবোই। আশা করেছি ক্রমশ ভালো করবো। আমার মনে হয় কমিটমেন্টে ঘাটতি আছে”।

একজন দর্শক বলেন, “দলের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের বিষয়টি দেখা উচিত নয়”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “দল বাংলাদেশ। আমাদের ভালোবাসা-প্রত্যাশা থাকবে। আমরা বারবার বিধ্বস্ত হবো এবং প্রত্যাশা করবো। আমরা চাই তারা ভালো খেলুক”।

ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেনা, “সবাই চাই দলকে জিততে হবে। অন্য দলগুলোর রেকর্ড দেখুন আমাদের অবস্থা তত খারাপ নয়। তবে ক্রিকেট পরিচালনার বিষয় নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠে। বোর্ডের মধ্যে নানা প্রশ্নবিদ্ধতা রয়েছে”।

বিএনপি নেতা ওসমান ফারুক বলেন, “মনে হয়না বেশি প্রত্যাশা করেছি। ভালো ফল চাইলে ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনীতি করন করা হয়েছে। এসব থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বের করে নিয়ে আসতে হবে”।

প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, প্রশ্ন করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

গণজাগরণ মঞ্চ নিয়েই বলি, আমরা পূর্ববর্তী সময়গুলো খতিয়ে চাইলে একটা বিষয় স্পষ্ট দেখতে পাই যে, যখন গণজাগরণ মঞ্চ নেতৃত্ব দিচ্ছিল তখন তাদের এক্সট্রা একটা পাওয়ার আমরা দেখতে পাই, তারা যেন এই দেশের অন্য একটি শক্তি। কিন্তু আজ তাদের এভাবে ধাওয়া করে এটিই প্রমাণ করে সরকার এটি তাদের স্বার্থান্বেষী একটি দল। যেটি সরকার নিজেই তৈরী করছে বিশেষ ফায়দা হাসিল করতে। সরকারের সেই ফায়দাটি হাসিল হয়ে গেছে বিধায় তারা এখন সেটিকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে ধাওয়া করার চেষ্ট করছে।

জাহিদুল ইসলাম জিহান, পটিয়া, চট্রগ্রাম।

We love our country and we like to see whoever in power they (ministers) should be honest and transparent.

Bulbul Hussain Chowdhury

আমার কাছে সাজানো দেশপ্রেম ভালো লাগে না ।আমি আমার মত করে দেশকে ভালোবাসি।

ছন্নছাড়া মিয়াজী