নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল উমাম, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, যশোর ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জয়তি সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস এবং যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল উমাম, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, যশোর ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জয়তি সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস এবং যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন চলমান উপজেলা নির্বাচনে সরকারি দল শক্তি প্রয়োগ করে চর দখলের মতো ভোট কেন্দ্র দখল করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য বলেছেন কারচুপির কথা বলে বিএনপি আন্দোলনের অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যশোরে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে তিস্তা নদীর পানি, হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের অনুষ্ঠানে বিদেশী সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল উমাম এবং যশোর ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জয়তি সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন মো: আলী মোর্তজা। তিনি জানতে চান উপজেলা নির্বাচনে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য সরকার মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কি?

জবাবে প্যানেল আলোচক যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা চর দখলের মতো কেন্দ্র দখল করেছে”। তার দাবি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আরও বেশি উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হতো।

তিনি বলেন, “নির্বাচনটি তো চর দখলের মতো। শক্তি প্রয়োগ করে তারা এগুলো করছে। দুর্বৃত্তায়ন করে সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করে নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করতে দেয়া হচ্ছেনা”।

তাহলে বিএনপি নির্বাচন ভালো ফল কিভাবে করছে বা কারচুপি হলে দলটি কেনইবা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জানতে চাইলে মিস্টার সাবু বলেন, “সবসময় মনে করেছি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা উচিত। এটা সরকারের পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। স্থানীয় ভাবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচন করছি”।

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই বলেন উপজেলা নির্বাচনে কারচুপি হয়নি। তিনি বলেন নির্বাচনে কারচুপির কথা বলে বিএনপি আন্দোলনের অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “কারচুপি করলে তো ৯৫ ভাগ জায়গায় নিয়ে নিতে পারতাম। কোন দেশে নেই যে যেখানে সমর্থক বেশি সেখানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেনা। বেশি পেলেও তারা আন্দোলন করবে , কম পেলেও করবে। বিএনপি আসলে আন্দোলনের একটা অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে”।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল উমাম বলেন, “নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটছে”। তবে নির্বাচনের সব গুলো পর্বের ফল একসাথে ঘোষণা করলে সন্ত্রাস কম হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “প্রথম পর্বে সন্ত্রাস কম হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে একটু বেড়েছে। আমি মনে করি নির্বাচন শেষ করে ফল ঘোষণা করলে এটি হতোনা”।

অপর প্যানেল আলোচক যশোর ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জয়তি সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস বলেন সরকার নির্বাচনের ফল অনুকূলে নেয়ার চেষ্টা করলেও সে অনুযায়ী ফল পাচ্ছেনা বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রাজনীতি করন করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এসব নির্বাচনে জনগণ মতামত দিতে পারছে বলে আমি মনে করি”।

একজন দর্শক বলেন, “কারচুপি হলে তারা জাতীয় নির্বাচনের মতো ফিরে আসছেনা কেন”? আরেকজন দর্শক বলেন, “ সরকার আসলে আইওয়াশ করছে। তারা চায়না বিএনপি আসুক”।

তিস্তা নদীর পানি

শামীমা নাজনিন বৃষ্টি জানতে চান বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে তিস্তা নদী থেকে আরও বেশি পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচিত হবে?

খায়রুল উমাম বলেন তিস্তাই নয়, আরও অনেকগুলো আছে। গঙ্গা নিয়ে যে চুক্তি আছে তাতেও সমস্যা আছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে এগুলোর সমাধান হওয়া দরকার। ভারত এককভাবে পানি প্রত্যাহার করতে পারেনা। সরকার উদ্যোগ না নিলে এর সমাধান কঠিন।

অর্চনা বিশ্বাস বলেন, “ভারতের সরকারের এটা উচিত নয়। আমাদের সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। সরকার আন্তর্জাতিক ভাবে সহায়তা চাইতে পারে প্রয়োজনে”।

একজন দর্শক বলেন ভারত নদীগুলোতে অসংখ্য বাঁধ দিয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিয়ে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। প্রশ্ন হল আওয়ামী লীগ কি সেটি করবে?”

আব্দুল হাই বলেন, “রাজনৈতিক বিভক্তি থাকলেও জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের স্বার্থ আমরা কারো কাছে বিক্রি করে দিতে পারিনা। দেশ আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়”।

তিনি বলেন, “সরকার সবসময়ই দেশের স্বার্থে চেষ্টা করছে। মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ দৃশ্যমান”।

একজন দর্শক বলেন, “কোন সরকারই এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেনি”।

সাবেরুল হক সাবু বলেন, “ভারতের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। নদীর অস্তিত্ব তো প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা দয়ার বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে”।

তিনি বলেন, “ভারতের যে আচরণ তা দেখে মনে হয় তাদের কাছে ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই আন্তর্জাতিকভাবেই দেখতে হবে”।

হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

শায়ন্তনী দেবনাথ জানতে চান বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা কেন?

অর্চনা বিশ্বাস বলেন, “যখন রাগ প্রকাশের জায়গা থাকেনা তখনই আক্রমণ হয়। রাজনৈতিক ব্যাপার থেকেই চলে যায় সহিংসতায়। হিন্দুদের বলা হয় সব আওয়ামী লীগ। কিন্তু সবাই যে আওয়ামী লীগ করে তা তো নয়”।

তিনি বলেন সহিংসতার কারণে অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে –এমন কথার সত্যতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একজন দর্শক বলেন, “কোন সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ মেনে নিতে পারিনা”। আরেকজন বলেন, “এখানে ভোটের রাজনীতি আর ভূমির বিষয়টি কাজ করে”।

খায়রুল উমাম বলেন, “এ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার বিচার হয়নি। সেজন্যই এগুলো ঘটে চলেছে”।

সাবেরুল হক সাবু বলেন, “যশোরের ঘটনা অনেক ভাবে বলা হচ্ছে। সেখানে শাসক দলেরই দু প্রার্থী ছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রাজনৈতিক কারণেই নষ্ট করা হচ্ছে”।

তিনি বলেন, “এসব ঘটনায় বিএনপির নাম দেয়া তো সহজ। এটা রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হয়”।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল হাই বলেন, “বিচার হওয়া জরুরী। যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে তারা তো আক্রমণকারীকে চিনে”।

তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

বিদেশী সংস্কৃতিকে গুরুত্ব !

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে উপলক্ষে বিসিবির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে মো: আব্দুল হালিম জানতে চান বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে অন্য দেশের সংস্কৃতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা কতটা যৌক্তিক?

খায়রুল উমাম বলেন, “নিজেদের সংস্কৃতি উপস্থাপনের যে সুযোগ ছিল সেটা থেকে আয়োজকরা বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে”।

সাবেরুল হক সাবু বলেন, “আয়োজকরা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। আসলে ভারতীয় আগ্রাসন আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করেছে”।

একজন দর্শক বলেন, “আন্তর্জাতিক বলতে কি আমরা শুধু ভারতকেই বুঝি?”

অর্চনা বিশ্বাস বলেন, “ আয়োজকরা ভারতকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। তবে কিছু বিষয় আছে যেটি আসলেই আমাদের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে”।

আব্দুল হাই বলেন, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনে যারা অংশগ্রহণ করে তাদের সবাইকেই তুলে ধরা হয়”।

মন্তব্য করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, মন্তব্য করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

টিভিতে সরাসরি দেখলাম যে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে কি পরিমান জাল ভোট দেয়া হয়েছে। সরকার দলীয় ক্যাডাররা সরাসরি ক্যামেরার সামনে ধরা পড়লেও পুলিশ কিছুই বলেনা।

মো: খায়রুল ইসলাম, সাতকানিয়া, চট্রগ্রাম।