সংলাপে গুম অপহরণ খুন প্রসঙ্গে আলোচনা

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান, লেখক গবেষক মাহফুজুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা নারী প্রগতির প্রতিষ্ঠাতা মায়া ওয়াহেদ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান, লেখক গবেষক মাহফুজুর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বেসরকারি সংস্থা নারী প্রগতির প্রতিষ্ঠাতা মায়া ওয়াহেদ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, সাতজনের অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে সরকারের কারো না কারো পদত্যাগ করা উচিৎ ছিল।

জবাবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, গুম খুনের ঘটনা দুঃখজনক। তবে সরকার এসব বিষয়ে কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আলোচনায় আরও ছিল র‍্যাব ভেঙ্গে নতুন সংস্থা গঠন, লোডশেডিং বেড়ে যাওয়া, কক্সবাজারে সেনানিবাসের জন্য বনভূমি বরাদ্দ দেয়া এবং চা শ্রমিকদের মজুরির প্রসঙ্গ।

সংলাপের এ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজারে সাইফুর রহমান মিলনায়তনে।

এতে আলোচক ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, বেসরকারি সংস্থা নারী প্রগতির প্রতিষ্ঠাতা মায়া ওয়াহেদ এবং লেখক গবেষক মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন শুকরানা আক্তার মজুমদার। তিনি জানতে চান একের পর এক অপহরণ, গুম আর হত্যাকাণ্ডের পর এখন সরকারের কি উচিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেয়া ?

সাত জনের অপহরণের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করেন আজিজুর রহমান।

তিনি বলেন, “মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং এটা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হয়। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। অনেকগুলো ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। আবার অনেকগুলো হয়নি”।

মিস্টার রহমান আরও বলেন, “মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সচেতন নাগরিক ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এ সরকারের পক্ষেই সম্ভব হবে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা”।

নাসের রহমান বলেন, “ব্যর্থতা স্বীকার করে সরকারের কারও না কারও পদত্যাগ করা উচিত ছিল। সেটা না করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন তারা বিব্রত নয়, এতে আমরা হতবাক”।

তিনি বলেন, “সাত জন মানুষকে নিয়ে হত্যা করা হল এটা সারা দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত। কোন ব্যক্তির পক্ষে সাত জনকে অপহরণ হত্যা করা সম্ভব নয়”।

মাহফুজুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে। গুম হচ্ছে যেহেতু আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে সর্বত্র”।

একজন দর্শক বলেন, “কাদা ছুড়াছুড়ি না করে সরকারের উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা”।

মায়া ওয়াহেদ বলেন, “সব দায়িত্ব সরকারের। তার জনবল পুলিশ প্রশাসন র‍্যাব আছে। আবার সমাজেরও দায়িত্ব আছে। গুম খুন যাই হোক-দায়িত্ব সরকারের”।

তিনি বলেন, “বিচার বহির্ভূত হত্যা হচ্ছে বলেই গুম খুন বেড়ে যাচ্ছে”।

র‍্যাব ভেঙ্গে নতুন সংস্থা !!

আনোয়ার আখতার চৌধুরী জানতে চান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরামর্শ মেনে র‍্যাব ভেঙ্গে কি একটি নতুন বাহিনী গঠন করা উচিত ?

মাহফুজুর রহমান বলেন, “ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বাহিনী তৈরি করলে ফল একি আসবে। খুব একটা পরিবর্তন আসবেনা। বরং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে যুগোপযোগী করে রাজনৈতিক চাপ মুক্ত করে তাদের কার্যক্রমে তাদের মনোনিবেশ করা উচিত”।

মিস্টার রহমানের সাথে একমত পোষণ করেন মায়া ওয়াহেদ। তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসন সদিচ্ছা থাকলে সব কাজই করতে পারে। আসলে তাদের ঠিক মতো কাজ করতে দেয়া উচিত”।

একজন দর্শক বলেন, “র‍্যাব ভেঙ্গে দেয়ার সাথে একমত নই। তাদের ক্রসফায়ার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে”।

নাসের রহমান বলেন, “র‍্যাবকে যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা যদি ঠিক হন তাহলে কোন সমস্যা থাকেনা। মানুষ র‍্যাবকে দেখলে দৌড় দেয়। এটা কেন ? র‍্যাবকে সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে সব ঠিক হয়ে যাবে”।

আজিজুর রহমান বলেন, “সরকার চায়না আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটুক। বাহিনীকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে হবে। হঠাৎ করে ভেঙ্গে দিলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে। এটাকে রেখেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে অপকর্মগুলোর মোকাবেলা করবো”।

বনভূমিতে সেনানিবাস প্রসঙ্গ

মোহাম্মদ আবু তাহের জানতে চান কক্সবাজারের রামুতে সেনানিবাস নির্মাণের জন্য ১৮০০ একর বনভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি দেশে যেখানে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বন নেই, সেখানে এই বরাদ্দ দেয়া কতটুকু যৌক্তিক?

মাহফুজুর রহমান বলেন, “দিনে দিনে এমনি বনভূমি শেষ হয়ে যাচ্ছে। বনভূমি রক্ষার দিকটি লক্ষ্য রেখে বরাদ্দ দেয়া উচিত। সেনাবাহিনীর জন্য বিকল্প জায়গা দেখা যেতে পারে”।

মায়া ওয়াহেদ বলেন, “বনভূমি ধ্বংস করে সেনানিবাস তৈরি করা কতটুকু ঠিক হবে, আমি মনে করি আদৌ ঠিক হবেনা। অন্য কোন জায়গা তাদের জন্য দেখা যেতে পারে। সরকারের এটি চিন্তা করা উচিত”।

একজন দর্শক বলেন, “অনেক পতিত জমি অনেকে দখল করে রেখেছে এগুলো সরকার উদ্ধার করে সেনাবাহিনীকে দিতে পারে”। আরেকজন দর্শক বলেন, “পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে বনভূমি বাদ দিয়ে অন্য কোথাও সেনানিবাস করা যেতে পারে”।

আজিজুর রহমান বলেন, “পরিবেশ জলবায়ু সব বিবেচনা করে বনভূমি রক্ষা করা দরকার। আবার সেনানিবাসের জন্য কৌশলগত জায়গা দরকার। যতুটুকু সম্ভব বন রক্ষা করে দেশের স্বার্থে সামরিক ছাউনি করা প্রয়োজন”।

নাসের রহমান বলেন, “ভোট দিলে একটা ভোটও পড়বেনা এ বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে। রামুতে সেনানিবাস করা হোক। কিন্তু সেখানেই নিশ্চয়ই জায়গা আছে যাতে বন না কেটে করা যায়। আরও কম পরিমাণ জায়গাতেও করা যায়”।

এতো বিদ্যুৎ কিন্তু লোডশেডিং কেন ?

তাহমিনা আক্তার জানতে চান এত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবী করা হলেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা এতো বেশি কেন ?

মায়া ওয়াহেদ বলেন, “দিনের মধ্যে অর্ধেক সময়ই থাকেনা, কোন দিন দেখা যায় সকালে গেল এবং রাতে আসলো। কেন পাওয়া যায়না কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। এতো বিদ্যুতের কথা বলা হচ্ছে তাহলে আমরা পাচ্ছিনা কেন”?

নাসের রহমান বলেন, “দশ হাজার মেগাওয়াটের কথা বলা হয়েছে। সেটা গেল কোথায়? বলা হচ্ছে এটা আল্লাহর রহমত। তাহলে তো কিছু বলার থাকেনা”।

একজন দর্শক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১০ হাজার। চাহিদা আছে ৭/৮ হাজার মেগাওয়াট। বাকী তিন হাজার মেগাওয়াট কোথায় গেল?”

আজিজুর রহমান বলেন, “বিদ্যুতের চাহিদা এতো বেড়ে গেছে যে দেয়া যাচ্ছেনা। বিদ্যুৎ একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাতেই সেটি দেখতে হবে”।

মাহফুজুর রহমান বলেন, “গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। শক্তভাবে প্রতিবাদ কেউই করেনি। সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে সেটি রাজনৈতিক। বাস্তবের সাথে এর মিল নেই”।

চা শ্রমিকের মজুরি

সুগ্রীম গৌড় জানতে চান মৌলভীবাজারে এসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন চা শ্রমিকের মজুরি ১০০ টাকা ও শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অবিলম্বে হবে। কিন্তু এখনো সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি কেন?

মায়া ওয়াহেদ বলেন, “মালিকরা চায়না শ্রমিকদের উন্নয়ন হোক। কারণ যদি তাদের প্রভুত্ব চলে যায়।কোন বাগানে একটি ভালো স্কুল নেই”।

মাহফুজুর রহমান বলেন, “৯০ টি চা বাগান আছে মৌলভীবাজারে। চা শ্রমিকদের ইউনিয়ন রাজনৈতিক কারণে তালাবন্ধ। মালিকদের সাথে দরকষাকষি না করায় বেতন বাড়েনা। চিকিৎসার কোন সুবিধা নেই”।

নাসের রহমান বলেন, “ফ্রি থাকার ব্যবস্থা, রেশন দেয় মালিকরা। আগে মজুরি ছিল ১৪/১৫ টাকা। এখন ৬৯ টাকা পাচ্ছেনা। শ্রমিকরা শিক্ষিত হয়ে অন্য লাইনে চলে গেলে চা পাতা তুলবে কে সেটাই তাদের মজুরি বৃদ্ধি না করার মূল কারণ।“

আজিজুর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ জিইয়ে রেখেছে মালিকরা। কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মামলা না থাকলে আরও কিছু করা যেত। আইন করে চা বাগানে স্কুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে”।

একজন চা শ্রমিক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ১০০ টাকার। আমরা ২০০ টাকা চেয়েছি। আমরা চা বাগানের শ্রমিক। দাঙ্গা ফ্যাসাদ হলে রাষ্ট্র নজর দিবে? আমাদের ভূমির অধিকার, ন্যায্য মজুরি দেয়া হোক”।

মন্তব্য করছেন একজন দর্শক
ছবির ক্যাপশান, মন্তব্য করছেন একজন দর্শক

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

With due regrettably to let you know that we are in dilemma regarding abductions, kidnapping, killing above all it has turned into a dirty politics in Bangladesh. We don't want any indisciplined atmosphere. Could govt resolve this problems? Its an urgent issue to resolve unhealthy-dammed politics.

M Shahidul IIslam, Uttara, Dhaka