অধিকার কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি, আদিলুর পাঁচদিনের রিমান্ডে

বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা ‌‌'অধিকারের' অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

অফিসটি থেকে ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের সিপিইউ জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে সংগঠনটির সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদিলুর রহমান খানের স্ত্রী সায়েরা রহমান খান বলেন, তারা এই রিমান্ড আর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মিসেস খান বিবিসি বাংলাকে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল 'অধিকারের' কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে তারা ৩টি ল্যাপটপ আর ১টি কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা জানান. তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ আর মামলার তদন্তের জন্য এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের এক আদালতে রোববার তথ্যপ্রযুক্তি অপব্যবহার আইনের অধীনে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে শনিবার রাতে বাসভবনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

adilur rahman khan
ছবির ক্যাপশান, আদিলুর রহমান খান

রোববার ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে মি. খানকে দশদিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

আদালত এ সময় মি. খানের বাসা ও অধিকার অফিসে তল্লাশির একটি আবেদনও মঞ্জুর করেছে।

গত ৫ এবং ৬ ই মে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে অসত্য এবং বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মি. খানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে অধিকারের প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানাতে সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। তবে হতাহতদের পরিবারগুলোর নিরাপত্তার খাতিরে ঐ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় অধিকার।

তথ্য না দেয়ার কারণে সংস্থাটির বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

রোববার দুপুরের পর ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে আদিলুর রহমান খানকে আদালতে হাজির করা হয়।

অসত্য এবং বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে মি. খানের ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলছেন, কাল্পনিক তথ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হেফাজতের সমাবেশে পুলিশের অভিযান
ছবির ক্যাপশান, হেফাজতের সমাবেশে পুলিশের অভিযান

গত ১০ই জুন অধিকারের একটি তথ্যানুসন্ধাণ প্রতিবেদনে বলা হয় হেফাজতে ইসলামের সেই সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতায় ৬১ জন নিহত হয়।

তবে শুধুমাত্র অভিযানেই সবাই নিহত হয়েছে কিনা, তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।

সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে ঐ অভিযানে কোন ব্যাক্তি নিহত হয়নি, তবে সারাদিনের সহিংসতায় একজন পুলিশসহ ১১ জন নিহত হয় বলে তারা জানিয়েছিল।

অধিকারের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৬১ জনের পরিচয় জানতে চেয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অধিকারকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু অধিকার সেই তথ্য দিতে অস্বিকৃতি জানায়।

মন্ত্রণালয়কে তথ্য না দেয়ার কারণ হিসেবে অধিকারে পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান জানান, স্বাধীন তদন্ত কমিশন না থাকায় এবং হতাহতদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তারা সেই তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো।

"যেখানে সরকারই এঘটনা অস্বীকার করছে, সেখানে আমরা তাদের তথ্য দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারিনি। আমরা সরকারকেই অনুরোধ করেছি একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য। একটি স্বাধীন কমিশন হলে আমরা অবশ্যই তাদেরকে তথ্য দেবো।"

তবে আদিলুর রহমান খানের গ্রেপ্তারের সাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য না দেয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে জানাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এবিষয়ে অধিকারের দেয়া যুক্তিও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী।

"আমরা খুব ভদ্রভাবে তাদের সহযোগিতা চেয়েছিলাম যে, তারা যদি ৬১ জনের তালিকা দেন তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেবো এবং প্রশাসনের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা তদন্ত করবো। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা তালিকা দিতে অস্বীকার করে।" জানান তথ্যমন্ত্রী।

হেফাজতের সমাবেশে সহিংসতা
ছবির ক্যাপশান, হেফাজতের সমাবেশে সহিংসতা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারকে তথ্য প্রদানে অধিকার বাধ্য ছিল। এবিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর প্রতিষ্ঠান হিসেবেও অধিকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন হাসানুল হক ইনু।

এবিষয়ে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

অধিকার বলছে, তারা এখন আদালতে তাদের আইনী লড়াই চালিয়ে যাবে এবং তারা এবিষয়ে সোচ্চার হবার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছেও আবেদন জানিয়েছে।

এদিকে আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা এবং তার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী।

এঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দূর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনেলের বাংলাদেশ অংশ এবং মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু সংগঠন।