আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২: ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ- কার জন্য সেমিফাইনালের রাস্তা কেমন
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা
একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার পথে খুব ভালোভাবেই আছে।
গ্রুপ-২ এ ছয়টি দল: দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডস।
এই ছয়টি দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে দাপুটে ক্রিকেট খেলছে এখনও পর্যন্ত, বাংলাদেশকে হারিয়েছে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।
ভারতের বিপক্ষেও শেষ ওভারে জয় পেয়েছে। কিন্তু পাঁচ উইকেটের জয় পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা নেট রান রেটেও ভালো অবস্থানে আছে।
ক্রিকেট উপস্থাপক হারশা ভোগলে একটি টুইট করে লিখেছেন, "দক্ষিণ আফ্রিকার খেলা দেখতে দারুণ লাগছে। টপ অর্ডার যদি একটু সামাল দিতে পারে এবং স্টাবসকে স্লগার (মারকুটে) ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তবে এই বছরটা তারা নিজেদের করে নিতে পারবে।"
কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার এই দাপুটে পারফরম্যান্স উপমহাদেশের তিন প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেট দলের মধ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
এই গ্রুপ থেকে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তবে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটিমাত্র দল সেমিফাইনাল খেলতে পারবে।
গ্রুপ-২ এ প্রথম চারটি দল
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ম্যাচ - ৩, পয়েন্ট - ৫
- ভারত- ম্যাচ -৩: পয়েন্ট- ৪
- বাংলাদেশ: ম্যাচ- ৩, পয়েন্ট- ৪
- জিম্বাবুয়ে: ম্যাচ -৩, পয়েন্ট- ৩
পাকিস্তান আছে পাঁচ নম্বরে।
'পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এক প্রকার শেষ'
ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ মাজহার আরশাদ নিজের বিশ্লেষণে লিখেছেন, "বাস্তবতা বলছে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এক প্রকার শেষ।"
তিনি টুইটারে লিখেছেন, "এখন পাকিস্তানকে র্যাংকিংয়ের নিচের সারির দলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে- জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস। এই দলগুলো যদি কোনও অঘটন ঘটায় কিংবা আবহাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।"
পাকিস্তান যদি শেষ দুই ম্যাচে জিতেও যায় তবুও তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে না।
শেষ দুই ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ।
এই টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান হেরে গিয়েছিল।
এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও শেষ বলে তিন রান নিতে পারেনি পাকিস্তান।
ন্যূনতম ব্যবধানে হার ও একটি বড় জয় পাকিস্তানের নেট রান রেট ভালো অবস্থানে রেখেছে কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট নাও হতে পারে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে
পয়েন্ট তালিকায় এখনও পর্যন্ত ভারতের অবস্থান এবং সামনের দুটি ম্যাচের প্রতিপক্ষ - বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে বিবেচনা করলে রোহিত শর্মার দল সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে।
কিন্তু ভারত ক্রিকেট বিশ্লেষকদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না।
ভারতের ক্রিকেট খেলা দেখে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার বলেছেন, "এই সপ্তাহে পাকিস্তান ঘরে ফিরবে, পরের সপ্তাহে ফিরবে ভারত।"
শোয়েব আখতারের মতে, "পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তো বটেই, ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা নেদারল্যান্ডসের সাথেও সুবিধা করতে পারেনি।"
দলে লোকেশ রাহুলের জায়গা, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের ব্যর্থতা, মাঠে ফিল্ডিংয়ে দুর্বলতা ভারতের দলটিকে অস্বস্তিকর জায়গায় এনে দিয়েছে।
ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেও বলেছেন, "আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি মাঠে। আমাদের কোনও অজুহাত নেই। সুযোগ পেয়েছি এবং মিস করেছি।"
বিবিসি উর্দুতে পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষক সামি চৌধুরী লিখেছেন, "পাকিস্তানের জন্য কাল হয়েছে অতি সতর্কতা। ভারতের জন্য অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস।"
তবে এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচে দুই জয় পাওয়া ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা নিজেদের ওপরই নির্ভর করছে।
দোসরা নভেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ৬ই নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে- শেষ দুটি ম্যাচে জিতলেই নিশ্চিত সেমিফাইনালে ভারত।
একটি ম্যাচে হারলেও উঠতে পারবে কিন্তু সেক্ষেত্রে অন্যদের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ভারতকে।
চলতি বিশ্বকাপে যেসব ক্রিকেটারদের ওপর নজর রাখতে পারেন
বাংলাদেশ তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে আশা টিকিয়ে রেখেছে
বাংলাদেশ এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে দুটি ম্যাচ জিতেছে।
তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে চার পয়েন্ট পেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।
যদিও ক্ষীণ কিন্তু একটা আশা আছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার।
এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটিতে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পর এখন ভারত ও পাকিস্তান বাকি আছে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।
এই দুটি ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশ নিশ্চিত সেমিফাইনালে।
তবে যে কোনও একটি হারলেই অনেক পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
এখানে পয়েন্টে অন্য সেমিফাইনালিস্টদের সাথে সমতায় থাকলেও বাংলাদেশের নেট রান রেট ভোগাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশ একটি ম্যাচ জিতে যায় সেক্ষেত্রে এই হারটা ভোগাবে।